ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » রংপুর » ঠাকুরগাঁওয়ে দুই ভাই গ্রেপ্তার ঘিরে বিক্ষোভ, ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে দুই ভাই গ্রেপ্তার ঘিরে বিক্ষোভ, ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


ঠাকুরগাঁওয়ে দুই ভাই গ্রেপ্তার ঘিরে বিক্ষোভ, ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও: রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে করা একটি মামলায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তারা থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি হলেন রুহিয়া ইউনিয়নের ঘুরানগাছ এলাকার মৃত সফিরুদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫) ও বদিউজ্জামান (৪০)। শনিবার গভীর রাতে নাজমীন আক্তারের করা মামলায় পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাইকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকাল থেকে এলাকাবাসী থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে তাঁরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। এ সময় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে। যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তাঁদের গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

গ্রেপ্তার দুই ভাইয়ের আরেক ভাই রশিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁদের বাড়ির পাশে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমিটির মালিক নাজমীন আক্তার ও আরিফ হোসেনের বাবা। তাঁরা দুই ভাই-বোন নিজেদের অংশের জমি মামাতো ভাইদের কাছে ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি করেন।

রশিদুলের ভাষ্য, পরে নাজমীনের স্বামী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সাড়ে ১৬ শতক জমি ১৪ লাখ টাকায় কেনার বিষয়ে দরদাম হয়। এ জন্য ৮ লাখ টাকা বায়না দেওয়া হয় এবং পর্যায়ক্রমে পুরো টাকা পরিশোধ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে কেউ নাজমীন আক্তারকে ফোন করে তাঁদের নামে জমি রেজিস্ট্রি না করার পরামর্শ দেন। পরে নাজমীন সাব-রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে সাত দিন সময় নেন। এরপর তিনি জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি। দুই থেকে তিন বছরেও জমি নিয়ে বিরোধের সমাধান হয়নি।

রশিদুলের দাবি, গত বছর তাঁর ভাইয়েরা ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। চলতি বছর মরিচ চাষের সময় প্রতিপক্ষ তাঁদের জমিতে চাষ করতে নিষেধ করে। প্রায় দেড় মাস আগে জমিতে ঘর নির্মাণের সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের মারধর করতে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রায় ২০ দিন আগের একটি মারধরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার গভীর রাতে তাঁর দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পুলিশ দুই লাখ টাকা নিয়েছে এবং জমি বিক্রির টাকা থেকে ওসি ও এসআইকে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রশিদুল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, অর্থের বিনিময়ে মামলা গ্রহণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুই ভাইকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুহিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মিলাদুন নবী। তিনি বলেন, টাকা লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ফৌজদারি অপরাধ ও মারামারির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। পরে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি আরও বলেন, এলাকার কিছু উত্তেজিত লোকজন থানার গেটের সামনে এসে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও আরও তিন নেতার সহযোগিতায় বিষয়টি সমাধান হয় এবং ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে।

আসামিদের আদালতে পাঠানোর বিষয়ে ওসি বলেন, রাতে আদালতে পাঠানোর সুযোগ না থাকায় বিধি অনুযায়ী রোববার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৬:২৬   ৯ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●