ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » ‘স্বৈরাচার-গুপ্তরা’ এক হতে পারে, এমপিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ তারেক রহমানের

‘স্বৈরাচার-গুপ্তরা’ এক হতে পারে, এমপিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ তারেক রহমানের


আজকের রূপান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


‘স্বৈরাচার-গুপ্তরা’ এক হতে পারে, এমপিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ তারেক রহমানের

ঢাকা: রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে অচিরেই ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা একসঙ্গে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য বড় পরীক্ষা উল্লেখ করে এখন থেকেই প্রস্তুতি ও কার্যক্রম শুরু করতে বলেছেন। তাঁর নির্দেশনা, স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে হবে।
আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে শুরু হওয়া সভা চলে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে সভা শেষ হয়। এতে বিএনপির ১৯৪ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অন্তত ২৫ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে তারেক রহমান গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রেখে ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতি করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিএনপি হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী দলকে ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতি চালিয়ে যেতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের বলেন, সরকারকে অনেক বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি। পাশাপাশি দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। অতীতে হয়তো তাঁরা অন্য একটি দলকে ভোট দিতেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনের পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। তাই এখন থেকেই নিজ নিজ এলাকায় কাজ শুরু করতে হবে। এই নির্বাচন সরকারের জন্যও বিশেষ পরীক্ষা। স্থানীয় পর্যায়ে যিনি যেখানে জনপ্রিয়, তাঁকেই প্রার্থী করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে তাঁদের পাশে রাখতে হবে। কোনোভাবেই সংগঠনকে দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়নের তাগিদ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের রাজনীতি এক রকম, বগুড়ার রাজনীতি আরেক রকম। তাই এলাকার চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি নিতে হবে। আগামী ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পালনের পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় বক্তব্য দেওয়া সংসদ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া, মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তারের পর দ্রুত জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁরা সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদেরও ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ করেন।

এ সময় একজন সংসদ সদস্য অন্যের নির্বাচনী এলাকায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। আরেকজন প্রতিমন্ত্রী চাকরিবাকরিসহ সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করেন।

সভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভামঞ্চে সংসদ নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যানের এক পাশে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম এবং অন্য পাশে আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বসেন।

বাংলাদেশ সময়: ০:০৯:১৯   ৭ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●