ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » লালমোহনে দুর্গাপূজার মণ্ডপ বেড়ে ২৩টি, মহাষষ্ঠীতে শুরু শুক্রবার

লালমোহনে দুর্গাপূজার মণ্ডপ বেড়ে ২৩টি, মহাষষ্ঠীতে শুরু শুক্রবার


জাহিদ দুলাল, লালমোহন ( ভোলা )
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


লালমোহনে দুর্গাপূজার মণ্ডপ বেড়ে ২৩টি, মহাষষ্ঠীতে শুরু শুক্রবার

ভোলা: ভোলার লালমোহন উপজেলায় এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর ১৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবটি উদ্‌যাপিত হবে ২৩টি মণ্ডপে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর)। এদিন মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। ভক্তদের ভক্তি, নিষ্ঠা ও পূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে মাতৃরূপে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী দুর্গা। দেবীর আগমনকে ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আমেজ। এরই মধ্যে উপজেলার ২৩টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল কামনায় পূজার মাধ্যমে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। শাস্ত্রমতে, এ বছর দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন হবে ঘোড়ায় (ঘোটক) এবং প্রস্থান হবে নৌকায়।

উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, মন্দিরে মন্দিরে চলছে প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড়। কাদামাটির প্রলেপের ওপর রংতুলির ছোঁয়ায় মহাষষ্ঠীর দিন দশভুজা দেবী দুর্গা পাবেন পূর্ণাঙ্গ রূপ। অপরূপ সাজে সজ্জিত দেবীকে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও মঙ্গলসংগীতের মাধ্যমে বরণ করে নেবেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভক্তরা।

পূজার সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী, রবিবার (১৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাষ্টমী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পালিত হবে। দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

লালমোহন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি নিরব কুমার দে বলেন, শুক্রবার ১৬ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। লালমোহন উপজেলায় এবার ২৩টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর উপজেলার ১৯টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। সে হিসাবে চারটি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কারণে মূলত মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি মন্দিরে অনুদান দিয়েছেন। সুষ্ঠুভাবে পূজা উদ্‌যাপনে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। এবার নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে পারবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মণ্ডপ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পূজা উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে।

তিনি জানান, উপজেলার ২৩টি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া কোস্টগার্ডের সদস্যরা নিয়মিত টহল দেবেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মণ্ডপগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। অস্বচ্ছল পূজামণ্ডপগুলোতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৪:২৯   ৫ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●