ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » নিঝুমদ্বীপে ভূমিহীনদের জমি দেওয়ার নামে ফরম বিক্রি, টাকা আদায়ের অভিযোগ

নিঝুমদ্বীপে ভূমিহীনদের জমি দেওয়ার নামে ফরম বিক্রি, টাকা আদায়ের অভিযোগ


হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


নোয়াখালী: দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে ভূমি বন্দোবস্তের নামে ফরম বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে আবদুল মালেক ওরফে মালেক নেতার বিরুদ্ধে। ভূমিহীনদের জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ কার্যক্রমের সঙ্গে ভূমি অফিসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাজারের মধ্যে সাজানো অফিসে বড় বড় ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। সেখানে ১০ থেকে ১৫ জন নারী কর্মী টেবিলে বসে ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কাজ করছেন। গ্রামের মানুষ ভূমিহীন হিসেবে এক টুকরো জমি পাওয়ার আশায় নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে ফরম জমা দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আবদুল মালেক (৭০) নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের মৃত আবদুল শহীদের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভূমিহীনদের নিয়ে কাজ করছেন। জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় ভূমিহীনদের নিয়ে সংগঠনও গড়েছেন। এ কাজ করতে গিয়ে তাঁকে কয়েকবার কারাগারেও যেতে হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

নিঝুমদ্বীপের বন্দরটিলা বাজারের ব্যবসায়ী সমির উদ্দিন জানান, সরকার পরিবর্তনের পর মালেক নেতা আবারও নতুন করে এ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এবার বন্দরটিলা বাজারে অফিস খুলে কর্মী নিয়োগ দিয়ে ভূমিহীনদের জমি দেওয়ার জন্য ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া হচ্ছে। হিসাব-নিকাশের জন্য নির্দিষ্ট বেতনে কর্মচারী রাখা হয়েছে। ভূমিহীনদের বোঝাতে মাঠপর্যায়েও কর্মীরা কাজ করছেন। তাঁরা বিভিন্ন মানুষের কাছে ফরম পৌঁছে দেন এবং কয়েক দিন পর পূরণ করা ফরম সংগ্রহ করেন। কেউ কেউ সরাসরি অফিসে গিয়েও ফরম জমা দিচ্ছেন।

নিঝুমদ্বীপের নামার বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম (৫৫) জানান, কিছুদিন আগে মালেক নেতা তাঁকে ৫০টি ফরম দিয়েছেন। নিজের পরিবারের আট সদস্যের নামে আটটি ফরম জমা দিয়েছেন তিনি। প্রতিটি ফরমের জন্য তাঁর কাছ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বন্দোবস্তের কাজ শুরু হলে আরও চার হাজার টাকা করে দিতে হবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর কাছে থাকা ফরমগুলো বিতরণ করে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ফখরুল।

নিঝুমদ্বীপের সমাজকর্মী ফুয়াদ হোসেন বলেন, প্রথমে সহজ-সরল মানুষকে ফরম দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। পরে অফিসের নারী কর্মীদের মাধ্যমে মোবাইলে যোগাযোগ করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা বলে আরও চার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এভাবে পুরো নিঝুমদ্বীপ থেকে এক হাজার সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে মালেক নেতার নিজস্ব কর্মী রয়েছে। তাঁরা জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষকে সদস্য করছেন এবং টাকা নিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এ কার্যক্রম পুরো নিঝুমদ্বীপে ছড়িয়ে পড়ছে।

ফুয়াদ আরও বলেন, ভূমি বন্দোবস্তের জন্য সরকারি নিয়ম রয়েছে এবং এ কাজ উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সরকারি দপ্তরকে না জানিয়ে অফিস খুলে এভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে নিঝুমদ্বীপের দায়িত্বে থাকা জাহাজমারা ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে নিঝুমদ্বীপে ভূমি বন্দোবস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। মালেক নেতা যা করছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত কার্যক্রম; এর সঙ্গে ভূমি অফিসের কোনো যোগাযোগ নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল মালেক নেতার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে আবদুল মালেক বলেন, সরকার গৃহহীনদের ঘর ও জমি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ জন্য তিনি ভূমিহীনদের সংগঠিত করছেন এবং এসব ফরম সরকারের কাছে জমা দেবেন, যাতে সরকারের কাজ সহজ হয়। জমি দেওয়া না হলে সংগঠনের মাধ্যমে আন্দোলন করে দাবি আদায় করা হবে বলেও জানান তিনি। টাকা নেওয়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সদস্যদের সঞ্চয় হিসেবে ওই টাকা জমা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল ইকবাল বলেন, সরকারি জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের। এর বাইরে কেউ এ ধরনের কাজ করলে তা প্রতারণা হবে। নিঝুমদ্বীপের মালেক নেতার বিষয়ে তিনি শুনেছেন। দ্রুত তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৭:২৮   ৫ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●