ঢাকা    রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » আলফাডাঙ্গা হাসপাতালে সাপে কাটা দুই রোগীর চিকিৎসা, একজন সুস্থ

আলফাডাঙ্গা হাসপাতালে সাপে কাটা দুই রোগীর চিকিৎসা, একজন সুস্থ


আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


আলফাডাঙ্গা হাসপাতালে সাপে কাটা দুই রোগীর চিকিৎসা, একজন সুস্থ

ফরিদপুর: আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা দুই রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, অন্যজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে বিষধর গোখরো সাপের কামড়ে আক্রান্ত কুলসুম বেগমকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তাঁর বাড়ি পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ধানজাইল গ্রামে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. বাকির হোসেন রোগীর শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ সময় তাঁকে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাপে কাটা আরেক রোগীকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা শেষে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ মুস্তাফি চৌধুরী বলেন, “সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। ওঝার কাছে গিয়ে কিংবা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও সাপের বিষের ধরন বিবেচনায় চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সময়মতো অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে আসুন, কুসংস্কার থেকে দূরে থাকুন এবং চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখুন।”

তিনি আরও জানান, সাপে কাটা রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম মজুত রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষভাবে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবিদ হোসাইনের অবদানের কথা তুলে ধরেন।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। অন্যদিকে, ওঝার কাছে যাওয়া বা ঝাড়ফুঁক করাতে গিয়ে সময় নষ্ট করলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সাপে কাটলে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসুন। সময়মতো চিকিৎসা নিন, জীবন বাঁচান।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৮:৩৮   ১৬ বার পঠিত  | ●   ●   ●