ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » রাজশাহী » পাবনায় ৫ শতাধিক প্রাক্তন ছাত্রীর মিলনমেলায় মুখর চাটমোহর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়

পাবনায় ৫ শতাধিক প্রাক্তন ছাত্রীর মিলনমেলায় মুখর চাটমোহর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়


চাটমোহর ( পাবনা ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


পাবনায় ৫ শতাধিক প্রাক্তন ছাত্রীর মিলনমেলায় মুখর চাটমোহর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়

পাবনা: ‘বন্ধুত্বের বন্ধনে বর্ণিল ৬২’ শিরোনামে চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল থেকেই সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। একে একে সবাই নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।

১৯৬৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের সাড়ে পাঁচ শতাধিক ছাত্রী উৎসবে অংশ নেন। বিদ্যালয়ের পুরোনো দিনের কমলা রঙের স্কুলড্রেসের স্মৃতি ধরে রাখতে ছাত্রীরা কমলা রঙের শাড়ি পরেন। প্রধান ফটক থেকে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। রঙিন বেলুন ও ঘুড়ি দিয়ে সাজানো হয় স্কুল চত্বর। দীর্ঘদিন পর প্রিয় সহপাঠীদের কাছে পেয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে খোঁজখবর বিনিময় করেন।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। পৌর সদরের প্রধান সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি আবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য অতিথি ও শিক্ষক বক্তব্য দেন।

এরপর শুরু হয় স্মৃতিচারণ পর্ব। বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রীরা তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত স্কুল, শিক্ষক এবং সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করেন। এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষকদের সম্মাননা জানানো হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ণিল এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ১৯৮১ ব্যাচের সাবেক ছাত্রী দেলোয়ারা খাতুন বলেন, ‘আমার বাবা ১৫ বছর এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এই স্কুলটি আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছে। মনে হয়, সেই ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি। সেই দিনে ফিরে যেতে খুব ইচ্ছে করে। আমি চাই, এই স্কুল থেকে শিক্ষার যে আলো নিয়ে আমার জীবন গড়েছি, সেই আলো জ্বলে থাকুক আজীবন। পরবর্তী প্রজন্ম সেই আলোর ধারায় চলতে থাকুক।’

১৯৭২ ব্যাচের সাবেক ছাত্রী নুর জাহান বেগম বলেন, ‘আমি সেই ৭২ সালের ছাত্রী। তখন স্কুলের তেমন কিছুই ছিল না, টিনের ঘরে ক্লাস হতো। আর এখন এসে স্কুলকে চিনতে পারিনি। ৭২ ব্যাচের আমি একমাত্র এসেছি, আর কাউকে দেখতে পাইনি। আমার প্রিয় স্কুলে আসতে পেরে আমি আবেগাপ্লুত।’

১৯৮২ ব্যাচের ছাত্রী জোছনা রানী কর্মকার বর্তমানে সাঁথিয়ার রূপসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাচে ৪০ জন ছাত্রী ছিলাম। এত দিন পর প্রিয় স্কুলে আসতে পেরে আমরা খুব খুশি। স্যারেরা আমাদের যে পরিমাণ আদর-ভালোবাসা দিয়েছেন, তা কোনো দিন ভুলবার নয়।’

১৯৮৬ ব্যাচের সাবেক ছাত্রী ও চাটমোহর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফাহিমা খন্দকার পান্না বলেন, ‘ওই সময়ের আমাদের ব্যাচের ১২ জন বান্ধবীর সঙ্গে দেখা হলো। ৩৫ বছর পরে সবার সঙ্গে দেখা হলো। অনেক গল্প, স্মৃতি ভাগাভাগি করলাম। সবার খোঁজখবর জানলাম। অনেক ভালো লাগল। সেই ফেলে আসা দিনগুলোতে ফিরে গিয়েছিলাম। পুরোনো চারজন স্যার-ম্যাডামের সঙ্গে দেখা হলো।’

১৯৯৭ ব্যাচের সাবেক ছাত্রী গুলশান আরা ইসলাম বলেন, ‘অলোক স্যারের সঙ্গে দেখা ২০ বছর পরে। স্যার দোয়া করলেন, অনেক কথা হলো। আমি অলোক স্যারের ছাত্রী। আমার ছেলেকেও স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়িয়েছি। আমার ছেলে এখন অস্ট্রেলিয়া থাকে।’

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অলোক কুমার কুন্ডু বলেন, ‘অনেক বছর পর আমার প্রিয় ছাত্রীদের সঙ্গে দেখা হলো। তাঁরা আজ সবাই অনেক বড় বড় জায়গায় আছেন। তাঁদের ভালোবাসায় আজ আমার চোখে পানি এসে গেছে। আজ মনে হলো, আমি একজন সফল শিক্ষক। আশীর্বাদ করি, তাঁরা সবাই যে যেখানে আছেন, ভালো থাকুন।’

বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, ‘আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, এই স্কুলটিতেই আমাদের শেকড় পোঁতা। ২০ থেকে ৩০ বছর পর বান্ধবীদের সঙ্গে, সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হলো। সবাই মিলে খুব আনন্দ-হইহুল্লোড় করলাম। আশা করি, এমন পুনর্মিলনের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা চেয়েছি, অনেক দিন কারও সঙ্গে কারও দেখা নেই। সবাই একসঙ্গে হয়ে আড্ডা দেব। আত্মিক সম্পর্কটা যাতে অটুট থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই আয়োজন। আমি এই স্কুলের ছাত্রী ছিলাম, তারপর সরকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি, পরবর্তী সময়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করি। তাই আজ এমন একটি আয়োজন করতে পেরে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং আমিও খুব খুশি।’

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩০:১৩   ৩ বার পঠিত  | ●   ●   ●