![]()
কুমিল্লা: চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের শিকার এক তরুণী গত শুক্রবার পুত্রসন্তান প্রসব করেন। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে নবজাতককে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে এক দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেয় ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবার। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর দরিদ্র পরিবারকে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে আপসের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে ধর্ষণের অভিযোগে এবং পুলিশ বাদী হয়ে মানবপাচারের অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন। দুই মামলারই প্রধান আসামি আবির হোসেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত আবিরের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, চাচা নজরুল ইসলাম মনির, চৌদ্দগ্রাম বাজারের প্রাইম হাসপাতালের নার্স স্বপ্না বেগম এবং নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় কিনে নেওয়া কনকাপৈত ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের রিপন মিয়া। সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার ভোরে রিপন মিয়ার কাছ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।
মামলায় তরুণী উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত আবির হোসেন তাঁর প্রতিবেশী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বরের পর থেকে বিয়ের আশ্বাসে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি আবিরের পরিবারকে জানালে তারা নানা টালবাহানা করে। এরই মধ্যে গত শুক্রবার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি পুত্রসন্তান জন্ম দেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর মা জানান, ১২ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। চার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। ধর্ষণের ঘটনায় তাঁর মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আবিরের পরিবার গর্ভপাত করাতে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, আবির ও তাঁর পরিবারের লোকজন হাসপাতালে থাকা অবস্থায় নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি বা মামলা না করার জন্য ৩ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে আপসের চাপ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর বোন বলেন, প্রধান আসামি আবিরের বাবা প্রবাসে থাকায় তাঁর চাচা নজরুল ইসলাম মনির শুরু থেকেই নানা ধরনের হুমকি দেন। বৈঠকের নামে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করেন তিনি। এ জন্য একই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি মোস্তফাকে দিয়ে তাঁদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে মোস্তফা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি অভিযুক্তের চাচা মনিরের দোকানে বসা ছিলাম। অন্যরা বাড়ির ভেতরে গিয়ে সমঝোতা করেছে বলে জেনেছি।”
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. আরিফ হোছাইন জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই তরুণী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। অন্যদিকে, নবজাতক বিক্রির অভিযোগে থানার এসআই সাইফুর রহমান টুকু বাদী হয়ে আটজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন। দুটি মামলাতেই আবির প্রধান আসামি।
ওসি আরও জানান, প্রধান আসামি আবির পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এন/এস
বাংলাদেশ সময়: ২২:০৫:৫৫ ৮ বার পঠিত | ● আবির হোসেন ● চৌদ্দগ্রামে নবজাতক বিক্রি ● ধর্ষণ মামলা ● মানবপাচার মামলা