ঢাকা    বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » অবকাঠামোগত সংকটেও কালীগঞ্জের মাদ্রাসায় ৭৭.৭৭ শতাংশ পাস, গোল্ডেন জিপিএ-৫ সামিয়ার

অবকাঠামোগত সংকটেও কালীগঞ্জের মাদ্রাসায় ৭৭.৭৭ শতাংশ পাস, গোল্ডেন জিপিএ-৫ সামিয়ার


কালীগঞ্জ ( গাজীপুর ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬


অবকাঠামোগত সংকটেও কালীগঞ্জের মাদ্রাসায় ৭৭.৭৭ শতাংশ পাস, গোল্ডেন জিপিএ-৫ সামিয়ার

গাজীপুর: কালীগঞ্জে এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক, আলিম ও সমমানের পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পুরো উপজেলায় পাসের হার মাত্র ৫০ শতাংশ। কলেজগুলোতে কয়েকজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও মাদ্রাসা পর্যায়ে এ অর্জন প্রায় শূন্যের কোঠায়। এমন হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যেই ব্যতিক্রমী সাফল্য অর্জন করেছে প্রত্যন্ত এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর জামিউল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী সানজিদা নাহার সামিয়া গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে পুরো উপজেলায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাহ্যিক চাকচিক্য কিংবা আধুনিক অবকাঠামোর কোনো সুযোগ-সুবিধাই নেই মাদ্রাসাটিতে। চারদিকে ভাঙাচোরা টিনশেড ঘর এবং মাত্র দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি দোতলা ভবনই প্রতিষ্ঠানটির মূল অবকাঠামো। সম্প্রতি আরও একটি একতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। উপজেলার অন্যান্য স্কুল-মাদ্রাসা যেখানে বহুতল ভবন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে প্রতিষ্ঠানটি অবকাঠামোগত সংকটে রয়েছে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এবার মাদ্রাসাটির ৭৭.৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

মাদ্রাসাটির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কঠোর তদারকি। প্রতিষ্ঠানটির সদ্য বিদায়ী পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের নেওয়া সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপে বদলে গেছে শিক্ষার পরিবেশ। শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের মধ্যে ছিল প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষেই পাঠ সম্পন্ন করা, ডায়রি সংরক্ষণ, প্রতিষ্ঠানকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা, আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা, নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া।

সাফল্যের পেছনের কারণ জানতে কথা হয় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে। তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “উপজেলার সব মাদ্রাসায় যখন ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে, তখন আমাদের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানটি ৭৭.৭৭ শতাংশ পাস ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। আমাদের অবকাঠামোগত সংকট রয়েছে, কিন্তু সদিচ্ছা, শৃঙ্খলা এবং সাবেক সভাপতি মহোদয়ের কিছু দূরদর্শী পদক্ষেপ আমাদের এই অনন্য সাফল্য এনে দিয়েছে।”

সদ্য বিদায়ী পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মাহমুদুল হাসানও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষার মানোন্নয়নে কিছু কঠোর নিয়ম চালু করি। নিয়মিত হাজিরা, অভিভাবক সম্পৃক্ততা এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতায় আজ আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে যে সুযোগের অভাব মেধাকে আটকে রাখতে পারে না। আমরা চাই দ্রুত এই মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন।”

এই সাফল্যের অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সানজিদা নাহার সামিয়া। উপজেলার অন্য কোনো মাদ্রাসা থেকে কেউ জিপিএ-৫ না পেলেও সে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। নিজের অনুভূতি জানিয়ে সানজিদা বলে, “মাদ্রাসার পড়াশোনার পরিবেশ এবং শিক্ষকদের নিরলস সহযোগিতাই আমার এই সাফল্যের চাবিকাঠি। আমি প্রতিদিন নিয়ম করে ৪-৫ ঘণ্টা নিয়মিত পড়াশোনা করতাম। এক্ষেত্রে আমার মাদ্রাসার শিক্ষক এবং পরিবারের অভিভাবকরা সবসময় আমাকে সাহস ও সহযোগিতা জুগিয়েছেন।”

অভাব, ভাঙাচোরা টিনশেড ঘর ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও যে মেধার বিকাশ সম্ভব, তা প্রমাণ করেছে চুপাইর জামিউল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা ও শিক্ষার্থী সানজিদা নাহার সামিয়া। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫০:৪৪   ৪ বার পঠিত  | ●   ●   ●