ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » খুলনা » মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল উত্তোলনের নথি, দুদকের অভিযান

মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল উত্তোলনের নথি, দুদকের অভিযান


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬


মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল উত্তোলনের নথি, দুদকের অভিযান

কুষ্টিয়ায: মৃত চেয়ারম্যানের নামে সরকারি চাল উত্তোলনের নথি এবং খাদ্যশস্য বিতরণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণসংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা। এ সময় বেশ কিছু নথিতে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।

অভিযানে ফিলিপনগর ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দ করা চালের মূল নথিতে মৃত চেয়ারম্যানের নাম পেয়েছেন কর্মকর্তারা। ওই নথিতে তার নামে ১০৭ বস্তা (৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন) চাল গ্রহণের তথ্য রয়েছে। তবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হকের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপনগর ইউনিয়নের দুস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিতরণসংক্রান্ত নথি যাচাই করতে গিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুর নামে চাল বরাদ্দের তথ্য পাওয়া যায়। নথিতে গত ১৩ অক্টোবর তার নামে ১০৭ বস্তা বা ৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন চাল গ্রহণের উল্লেখ রয়েছে। অভিযানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নথিতে না থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হককে তলব করে দুদক। পরে বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েন তিনি। অথচ ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টু। ফলে তার নামে কীভাবে চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, তা জানা যায়নি।

চেয়ারম্যান সেন্টুর মৃত্যুর পর প্রায় দুই বছর ধরে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন একরামুল হক।

এ বিষয়ে ফিলিপনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, দুদকের ডাকে গত মাসের ১৮ তারিখে সরকারি বরাদ্দের ভিডিটি চালের নথিতে স্বাক্ষর করতে গিয়ে তিনি মৃত চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুর নাম দেখতে পান। তবে নথিতে সেন্টুর নাম কীভাবে এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

এদিকে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে বুধবার বেলা সোয়া ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খাদ্যগুদামে অভিযান চলে। এ সময় কর্মকর্তারা সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ, মজুত ও সংরক্ষণসংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করেন।

এর আগে খাদ্যগুদামে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আল ওয়াজিউর রহমান বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। নথিপত্র যাচাইয়ের সময় বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, ফিলিপনগর ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দ করা চালের মূল নথিতে মৃত চেয়ারম্যানের নাম পাওয়া গেছে। তবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে প্যানেল চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর থাকলেও বরাদ্দের চাল নিয়ে গেছেন অন্য একজন। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে অন্যান্য দিকও তদন্ত করা হচ্ছে। নথিপত্র চাওয়া হয়েছে; বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩:২১:২৫   ৭ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●