ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
প্রচ্ছদ » রংপুর » স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ,চিকিৎসা পাচ্ছে না মাও শিশুরা

স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ,চিকিৎসা পাচ্ছে না মাও শিশুরা


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫


 স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ,চিকিৎসা পাচ্ছে না মাও শিশুরা


কুড়িগ্রাম:
হামরা গরীব মানুষ এই গ্রারামের হাসপাতালত হাটি আসি দাক্তার (ডাক্তার)দ্যাখাই ঔষধ নিয়া যাই। এল্যা আসি ঔষধও পাই না, ডাক্তার ও পাই না। প্রত্যেক দিন আসি আর ঘুরি যাই। হামার ট্যাকা নাই কেমন করি উলিপুর যায়া দাক্তার দ্যাখামো তোমরায় কনতো বাহে। হামার গরীব মানষের মরা ছাড়া উপায় নাই।

এভাবে কথা গুলো বলছিলেন হাতিয়া ব্রম্মপুত্র নদের পাড়ের দাগার কুঠি গ্রামের অমিছা বেওয়া(৫৬)। গুনাই গাছ পুর্ব কালুডাঙ্গা গ্রামের খোকা শেখের স্ত্রী মালেকা বেগম(৫০)বলেন, কয়েক দিন থাকি জ্বর কপোত পড়ি কাহিল হয়া বিছনায় পড়ি। কোনমতে হাসপাতালোত আসনু ডাক্তার দ্যাখে ঔষধ নেমো। আসিয়া শোনোং ডাক্তারও নাই,ঔষধ বলে নাই। খালি হাতে ফিরি আসনো। হামরা কি বিনা চিকিৎসায়ায় মরি যামো।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস জানায়,উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে চার মাস ধরে ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবারাহ না থাকায় মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা,গর্ভবর্ত্তী মা ও জন্ম নিরোধ কপাটি, ইনপ্লান, ভ্যাসেক্টমী, টিউবিক্টমী কার্যক্রম ও সাধারন চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। যেখানে ডাক্তার আছেন সেখানে শুধূ মাত্র রুগীদের ব্যবস্থা পত্র দেওয়া হচ্ছে।

ফলে চার মাস ধরে প্রান্তীক পর্যায়ে দরিদ্র মানুষ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। ২জন মেডিকেল অফিসার সহ ১১ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি  মেডিকেল অফিসারের পদে কর্মরত আছেন মাত্র ৪জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। চিকিৎসক ও জনবল সংকটে পরিবার কল্যান কেন্দ্র গুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
গুনাই গাছ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঔষধ সরবরাহ না থাকায় খুব বিরম্বনায় পড়েছি। গ্রামের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাও ঔষধের জন্য আসে । কিন্ত মানুষ ঔষধ না দিলে ব্যবস্থা পত্র নিতে চায় না।
হাতিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ভিজিটর উম্মে সালমা বলেন, ঔষধ ছাড়া রোগিরা পরামর্শ নিতে আগ্রহী না। কোন রুগী আসছে না। ফলে জন্ম নিরোধ কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে জন্ম হার বেড়ে যাওয়ার আশংকা করেন।

ধামশ্রেনী মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কন্দ্রের উপ-সহকারী কমোনিটি মেডিকেল অফিসার মো.সরিয়ত উল্ল্যা বলেন,ঔষধ দিতে পাচ্ছি না। রুগীকে ব্যবস্থা পত্র দিচ্ছি বাইরে থেকে ঔষধ নিতে অথবা উপজেলা হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রুগী কমে গেছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন বলেন,দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ নাই। অন্যদিকে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে চিকিৎসা ও জন্ম বিরতিকরন কার্যক্রমে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শুধু ব্যবস্থা পত্র দেয়া হচ্ছে।

আর/ এন

বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৬:৪১   ১৫৯ বার পঠিত  |