ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » প্রতিবন্ধী এনামুলসহ ৪ ভাইবোনের ঠাঁই এখন বৃদ্ধ নানীর সংসারে

প্রতিবন্ধী এনামুলসহ ৪ ভাইবোনের ঠাঁই এখন বৃদ্ধ নানীর সংসারে


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫


প্রতিবন্ধী এনামুলসহ ৪ ভাইবোনের ঠাঁই এখন বৃদ্ধ নানীর সংসারে

পটুয়াখালী: দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জলিশা গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে হাওয়া বেগমের বিবাহ হয় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের চরগজালিয়া গ্রামের কবির মৃধার সাথে। একে একে চার সন্তানের জননী হন হাওয়া বেগম । ছোট সন্তান হাবিবা আক্তারের জন্মের ২ ঘণ্টার মধ্যেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যায় হাওয়া বেগম । মেজো ছেলে এনামুল প্রতিবন্ধী হিসেবেই জন্ম নেন। ১৬ বছর বয়সী এনামুলের ডান হাত ও ডান পা পুরোপুরি অচল। হুইল চেয়ার ছাড়া হাঁটাচলা করতে পারেন না। তবে শারীরিক অক্ষমতা দমাতে পারেনি তাকে। এখন নবম শ্রেণিতে পড়ছে। বড় ছেলে সাইফুল ইসলামের বয়স ২০।

বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ছেলে ইয়াদুল ও ছোট কন্যা হাবিবার বয়স যথাক্রমে ১০ বছর ও ৯ বছর। দুজনই ক্লাস ফোরে পড়ছে। মায়ের মৃত্যুর ২ বছরের মাথায় পিতা কবীর মৃধা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎমায়ের সংসারে ঠাঁই হয়নি প্রতিবন্ধী এনামুল ইসলামসহ ৪ ভাই বোনের। বাধ্য হয়েই আশ্রয় নিতে হয়েছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জলিসা গ্রামে বৃদ্ধ নানা নানির সংসারে। ৯ বছর ধরে নাতি নাতনিদের নিয়ে কোনোমতে সংসার চালালেও বয়সের ভারে নিজেরাই এখন অচল। তাই নানা শহিদুল ইসলাম এদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।

বুধবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিবন্ধী নাতির চিকিৎসা করাতে এসে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন শহিদুল ইসলাম বলেন, তার বাড়ী দুমকির জালিসা গ্রামে। কোনো পুত্রসন্তান নেই তার। ৪ কন্যাসন্তান। হাওয়া বেগমকে ২২ বছর আগে কবীর মৃধার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। ছোট নাতনির জন্ম দিতে গিয়ে হাওয়া বেগমের মৃত্যু হয়। কবীর মৃধা দ্বিতীয় বিয়ে করলে সৎমায়ের সংসারে ঠাঁই মেলেনি ৪ নাতি নাতনির। তাই তাদের নিজের কাছে নিয়ে আসি। ৯ বছর ধরে আমার কাছে তারা। বড় নাতি ইংরেজিতে অনার্সে পড়ে। অন্য তিনজনও পড়াশোনা করছে। মেজো নাতি প্রতিবন্ধী। আমার স্ত্রী অসুস্থ। চলাফেরা করতে পারছেন না। কবীর মৃধা সন্তানদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন না।

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, মেজো নাতি এক সপ্তাহ ধরে খুব অসুস্থ। বর্তমানে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি। আরো ১০-১২ দিন এখানে থাকতে হবে। তার চিকিৎসার খরচ জোগানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারের সংশ্লিষ্টদের এনামুলের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন শহিদুল ইসলাম। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সহায়তাও কামনা করছেন।

প্রতিবন্ধী এনামুলকে কেউ সাহায্য করতে চাইলে ০১৭৯৭-৮৪১৬৭৮ বিকাশ নাম্বারে সহায়তা করার অনুরোধ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, অসহায় প্রতিবন্ধী এনামুল ও তার পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এনামুলের চিকিৎসার জন্য যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হবে।

এইচ/এল

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪১:৫৯   ১৫০ বার পঠিত  |