![]()
পটুয়াখালী: বাউফলে লঞ্চের ভাড়া কম না নেয়া ও তাস খেলাকে কেন্দ্র করে এমভি সুন্দরবন-১৪ নামে যাত্রীবাহী লঞ্চের স্টাফ ও তাবলীগ জামাতের মুসুল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে লঞ্চের সুপারভাইজার সহ কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছেন। লঞ্চের যাত্রী গা ইউনিয়নের হৃদয়ের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার বগা লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
লঞ্চের স্টাফ, সাধারন যাত্রী ও ঘাট কর্তৃপক্ষ জানান, রবিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শেষে মুসুল্লিরা ঢাকা সদরঘাট থেকে সুন্দরবন লঞ্চে বাউফলে আসছিলেন। তাবলিগের মুসুল্লিদের অনুরোধে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ৫০০ টাকার ভাড়া কমিয়ে ৪৫০ টাকা করে নেন। এসময় লঞ্চে ইজতেমা থেকে ফেরা বগা ইউনিয়নের হৃদয়সহ ৬ কিশোরও ছিলেন। তারা লঞ্চে রাতভর তাস- জুয়া খেলায় খেলেন। তাবলীগের জিম্মাদার মাও. আবদুর রহমান ওই কিশোরদের তাস খেলতে নিষেধ করেন। এক পর্যায়ে আ.রহমানের সাথে তাদের বকবিতণ্ড হয়। সোমবার সকালে লঞ্চ বগা ঘাটে পৌঁছানোর আগে ওই কিশোরদের ভাড়া চাইতে গেলে হৃদয় ভাড়া কম নেওয়ার দাবি তুলেন। তবে তারা তাবলীগের মুসুল্লি সেজে সারারাত জুয়া খেলায় ভাড়া কম নিতে অস্বীকৃতি জানায় লঞ্চকর্তৃপক্ষ। এনিয়ে লঞ্চের স্টাফ ও হৃদয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ড হয়। এতে কিশোর ৬ যাত্রী লঞ্চ স্টাফ ও তাবলীগের মুসুল্লিদের ওপর ক্ষিপ্ত হন।
তারা বগা লঞ্চঘাট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় বিষয়টি তাদের বন্ধু রাসল ও দেলোয়ারসহ কিশোরগ্যাং গ্রুপের ২৫/৩০ জন সদস্য লঞ্চঘাটে অবস্থান করেন। সকাল সাড়ে ৮ দিকে লঞ্চ বগা ঘাটে নোঙর করলে তারা লঞ্চে উঠে লঞ্চ স্টাফ ও তাবলীগের মুসুল্লিদের লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে এমভি সুন্দরবন- ১৪ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. ইউনুচ মিয়া, সিকিউরিটি কমান্ডার মো. মেজবাহ, কেবিন ইনচার্জ মো. বশার, কেবিন বয় মো. রমজান হোসেন(২৫), লস্কর আ. রহমান(৩২, যাত্রী মো. সুজন, রাতুল ও ইশরাফিলকে আহত করেন। এসময় পুরো লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক জড়িয়ে পড়ে। বগা ইউনিয়ন বিএনপি নামধারী নেতা আমিনুল ইসলাম টিপুর নির্দেশে হৃদয়, রাসেল ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আমিনুল ইসলাম টিপু বলেন, ওই সময় আমি ঘটনাস্থানে ছিলাম না। সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের কেরানী এনামুল হক বলেন- যারা তাবলীগের প্রকৃত মুসুল্লি, আমরা তাদের ভাড়া কমিয়ে নিয়েছি। কিন্তু কয়েকজন কিশোর ইজতেমা থেকে ফিরছিলেন দাবি করে ভাড়া কমিয়ে নিতে বলেন। তবে তারা সারারাত তাস জুয়া খেলায় আমরা ভাড়া কমিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানাই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে লঞ্চঘাটে ফিরলে দলবল নিয়ে লঞ্চে হামলা চালায়। স্টাফদের পিটিয়ে আহত করে।
এবিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, এখন থেকে ঘাটে অরিতিক্ত পুলিশ মোতায়ন থাকবে। লঞ্চে হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচ/এল
বাংলাদেশ সময়: ২০:২১:০০ ১৪১ বার পঠিত | ● আহত ● পটুয়াখালী ● বাউফল ● লঞ্চ ● স্টাফ ● হামলা