ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫
প্রচ্ছদ » রাজশাহী » ইউএনও’র কক্ষে ৪ জামায়াত নেতাকে পেটালেন বিএনপি নেতারা

ইউএনও’র কক্ষে ৪ জামায়াত নেতাকে পেটালেন বিএনপি নেতারা


এম.এ আলিম রিপন,সুজানগর ( পাবনা )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫


ইউএনও’র কক্ষে ৪ জামায়াত নেতাকে পেটালেন বিএনপি নেতারা

পাবনা: সুজানগরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে বিএনপির কয়েক নেতাকর্মীর হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমিরসহ জামায়াতের ৪ নেতা।সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

৪ জামায়াত নেতা হলেন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ফারুক-ই আযম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি টুটুল বিশ্বাস, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ওয়ালিউল্লাহ বিশ্বাস, সাবেক কাউন্সিলর মোস্তাক আহমেদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে জামায়াতের উল্লেখিত ৪ নেতা ইউএনওর অফিসে যান কোনো একটি কাজে কিন্তু ইউএনও অন্য একটি কাজে ব্যস্ত থাকায় জামায়াত নেতারা অফিসে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মজিবর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীও ইউএনওর কাছে কাজে যান। সেখানে আগে থেকেই বসে থাকা জামায়াত নেতাদের দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন- এরা কেন এখানে বসে থাকে। এ কথা বলেই বিএনপি নেতারা ইউএনওর কক্ষ থেকে বের হয়েই আরও কয়েকজনকে ডেকে আনেন।

এরপরই মজিবুর রহমান, বাবু, মানিকসহ ৩০-৪০ জন ইউএনওর কক্ষে ঢুকে ওই জামায়াত নেতাদের কিল-ঘুসি, লাথিসহ বেদম মারধর করেন। এতে জামায়াত নেতারা গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।এদিকে জামায়াত নেতাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর জামায়াতের উপজেলা আমির কেএম হেসাব উদ্দিনসহ কয়েকশ নেতাকর্মী ইউএনও অফিসে ছুটে আসেন এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

এ সময় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এরপরই উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজম বিশ্বাস, সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ, যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু,সদস্য সচিব রিয়াজ মন্ডলসহ শীর্ষ নেতারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের এদিন বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেন-দরবার চলে। পরে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইউএনও মীর রাশেদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। যেহেতু তার কক্ষে ঘটনা ঘটেছে, কাজেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিএনপির সাবেক সভাপতি আজম বিশ্বাস, সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ ও যুবদলের আহবায়ক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কোনো সন্ত্রাসী আমাদের দলের হতে পারে না। আমরা বলেছি- যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

স্থানীয় জামায়াত নেতারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করায় ইউএনওর উপর হামলা করতে আসে ওই সকল সন্ত্রাসীরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে জামায়াতের নেতাদেরকে মারধর করা হয়।

এদিকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল গাফ্ফার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরা সাংগঠনিকভাবে কর্মসূচি দেব।

উপজেলা বিএনপির সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মজিবর রহমান এ বিষয়য়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সুজানগর থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, আহতরা এখনো মামলা করেত আসেননি। তারা এলেই মামলা নেওয়া হবে।

আর/ এন

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৪:০৬   ১১৭ বার পঠিত  |