ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » ইব্রাহিমপুর প্রচীন প্যারা খাল দখলের মহাউৎসব

ইব্রাহিমপুর প্রচীন প্যারা খাল দখলের মহাউৎসব


নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫


 

ইব্রাহিমপুর প্রচীন প্যারা খাল দখলের মহাউৎসব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ই্উনিয়নের প্রচীন সরকারি বিশাল বড় একটি প্রচীন খাল যে খালটি প্যারা খাল নামে খ্যাত। সরকারি কোন অনুমতি ছাড়াই নিচে এক দুইটি পাইপ দিয়ে বাড়ির রাস্তা তৈরি নামে দখলের মহাউৎসব চলছে। অবশ্য ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মোছা ও উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন বিষয়টি অবগত আছেন বলে দখলদারদের একজন স্বীকার করেছেন। বর্ষাকালে এই খরস্রোত খালটি ইব্রাহিমপুর যোগীদারা ব্রীজ বাশবাজার থেকে পালবাড়ি বাজার ও কালীপুরা গ্রামের ভিতর দিয়ে রসুল্লাবাদ ইউনিয়নের যমুনার খালে গিয়ে সংযুক্ত হয়েছে। পুরো ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের পানি নিস্কাশনের এটি একমাত্র খাল।

এই খালটি ৭১ স্বাধীনতার পরবতী সময়ে ওই ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কাজী আজাহার আলী (প্যারা মিয়া) পুরো ইউনিয়নের পানি নিস্কাশনের জন্য এই খালটি তৈরি করেন। সেই খেকে তার নামানুসারে প্যারা খাল হিসাবে পরিচিত। এই খালটি দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন ছোট-বড় নৌ-যানের মাধ্যমে মালামাল বহন ও নবীনগর সদরে বিভিন্ন মামলামাল নিয়ে আসা-যাওয়া করে। এবং বর্ষাকালে এই খালের পানি দিয়ে কৃষি জমিতে সেচের কাজ চলে। ইব্রাহিমপুর পালবাজার থেকে কালীপুরা গ্রামের অংশে ১১ টি স্থানে বাড়ির মালিকরা ব্যক্তিগতভাবে উচু করে স্থায়ীভাবে খালের উপর রাস্তা নির্মান করছে। স্থানীয় কৃষক ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা খালের পানির গতি যদি এ ভাবে বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে বর্ষকালে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্ন সৃষ্টি ও জলবদ্ধতায় গ্রামটি তলিয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন।

গতকাল সোমবার (১৭/০৩)সরজমিন গিয়ে এ দুশ্য চাখে পড়ে। সুত্র জানায়,পালবাড়ি ও কালিপুরা গ্রামের এই খালের পাড়ের বাচ্চু মিয়ার ছেলে নূরুল ইসলাম ,তারা মিয়ার ছেলে শাহ আলম, মোঃ আনু মিয়ার ছেলে আলম মিয়া ,রুপ মিয়ার ছেলে সাহাবুদ্দিন মিয়া, জুলহাস মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন, খাজা রহমানসহ অনেক বাড়ির মালিক এই খালের উপর রাস্তা নির্মান করছে। তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান,আমাদের বাড়ির রাস্তা নাই ,খাল পার হয়ে অনেক কষ্ট করে কৃষিকাজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য হাট বাজারে যেতে হয়। তাই নীচে পানি নিস্কাষনের পথ রেখে রাস্তা বানিয়েছি। এটি সকরারি খাল, খাল বন্ধ করে রাস্তা বানানোর জন্য সরকারের কি কোন অনুমতি আছে ? এই প্রশ্নের তারা কোন উত্তর দিতে পারেনি তবে শাহ আলম মিয়ার ছেলে কতুবউদ্দিন চেয়ারম্যান আবু মোছা ও উপসহকারি ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বিষয়টি জানেন বলে জানায়।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আবু মোছার সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টি অবগত আছেন স্বীকার করে বলেন, আমি তাদেরকে অনেক বার নিষেধ করেছি, এটা বেআইনী এ ভাবে খার ভরাট করা যায় না, কিন্তু তারা নিষেধ শুনেনি। বিষয়টি আমি প্রশাসনকে জানাবো।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন উপ সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসন তিনি বিষয়টি অবগত আছেন এই কথাটি সম্পূর্ন অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমি একদম জানিনা । যদি এমনটা হয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক কাজী হেলাল ও কৃষক ইউনুছ মিয়া বলেন,এটা বেআইনী কাজ, এ ভাবে খাল ভরাট হতে থাকলে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্ন সৃষ্টি ও জলবদ্ধতায় এক সময় গ্রামটি তলিয়ে যাবে এই আশংকা রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব চৌধুরী বলেন,নদী,খাল,বিল এসব ভরাট করার কোন বিধান নেই। খাল বন্ধ করে রাস্তা করা হচ্ছে কিনা এটা সরসমিন পরিদর্শন করে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

এইচএল/আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৮:৫২   ২৭৮ বার পঠিত  |