ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
প্রচ্ছদ » ঢাকা » যমুনা নদীর ওপর নির্মিত রেলসেতু উদ্বোধন

যমুনা নদীর ওপর নির্মিত রেলসেতু উদ্বোধন


আখতার হোসেন খান,ভূঞাপুর( টাঙ্গাইল )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫


যমুনা নদীর ওপর নির্মিত রেলসেতু উদ্বোধন

টাঙ্গাইল: স্বপ্ন থেকে আরেক ধাপ এগিয়ে এখন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে সম্ভাবনার দ্বার মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) উন্মোচন হলো। উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের ৩ টি বিভাগের প্রবেশ দ্বার খ্যাত টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর যমুনা নদীর ওপর নির্মিত আধুনিক ও দেশের সর্ব বৃহৎ রেলসেতু উদ্বোধন করলেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের সভাপতিতে অতিথি ছিলেন, সাউথ এশিয়া ডিপার্টমেন্টের (জাইকা) ডিরেক্টর জেনারেল মি. ইতো তেরুয়ুকি, বাংলাদেশে জাপানী এ্যম্বাসেডর মি. সাইদা শিনিচি।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, যমুনা রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, কলসালট্যান্ট মি. মার হেভি, মি. সেনজিকাই, প্রজেক্ট ডিরেকটর মাসুদুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল ১০.৩০ মিনিটে পবিত্র কোরান তেলাওয়াত করেন, মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান।
রেলসেতু নির্মাণের ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্য সামগ্রি কম খরচে বিভিন্ন জায়গায় প্রেরণ করা সম্ভব হবে। সেতুটি বদলে দিবে দেশের অর্থনীতি। সেতুটি নির্মাণ ছিলো, বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট চ্যালেন্স। রেলসেতুটি কেবল প্রকৌশলগত বিস্ময় নয়, ্এর ফলে যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে বক্তারা বলেন।
টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের প্রমত্ত্বা যমুনা নদীর ওপর নির্মিত যমুনা সেতুতে রয়েছে ডাবল ট্র্যাক ও দুই পাশে দু’টি অত্যাধুনিক স্টেশন এবং ডেকের নিচে রয়েছে গ্যাস পাইপ লাইন ও বিদ্যুৎ লাইন যা উত্তর বঙ্গের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তবে দুই প্রান্তের সিঙ্গেল ট্র্যাকের কারণে এই আধুনিক সেতুটির পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাবে না। তাই দুই প্রান্তে ডাবল ট্র্যাকের কথা জানিয়েছেন নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা।
গত ৫ জানুয়ারি পরীক্ষা মূলক ভাবে রেলসেতু উদ্বোধন করা হয়। সে দিন ২০ কিমি থেকে ১২০ কিমি গতিতে ট্রেন চালিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উদ্বোধন ঘোষণার পর ১২টা ৯ মিনিটে উদ্বোধনী ট্রেনটি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ইব্রাহিমা বাদ রেলস্টেশন থেকে পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ রেল স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ১২টা ২৩ মিনিটে সায়দাবাদ স্টেশনে থামে। সেখানে সংবাদ সম্মেলন শেষে বেলা ১ টা সময় টাঙ্গাইলের ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশন উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। মাত্র ৩ মিনিট ১৯ সেকেন্ডে মূল রেলসেতুটি পার হয় উদ্বোধনী ট্রেন। ট্রেনটির দুই দিকে দুইটি ইজ্ঞিন ছিলো।
উদ্বোধনের পর ট্রেন চলাচল শুরু হলে এই রেলসেতু দিয়ে বিরতিহীন ভাবে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮৮টি ট্রেন ১২০ কিমি গতিতে সেতু পারাপার হতে পারবে। ফলে সেতু পারাপারে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় বেচে যাবে।
যমুনা রেলওয়ে সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিডি) আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান জানান, এরইমধ্যে রেল সেতুর ওপর দিয়ে একাধিবার ট্রায়াল ট্রেন চালিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।
প্রকল্প সূত্র জানা গেছে, যমুনা রেলওয়ে সেতু দিয়ে সাধারণ ট্রেন ছাড়াও দ্রুতগতির (হাইস্পিড) ট্রেনও চলাচলের উপযুক্ত করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সেতুতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো যাবে। তবে শুরুতে (উদ্বোধনের ১ বছর) সাধারণত ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করবে।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নেয়া প্রকল্পে চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নসহ রেলসেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রথমে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এর মেয়াদ ২ বছর বাড়ানো হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা দাঁড়ায়। এরমধ্যে স্বীয় অর্থায়ন ২৭.৬০ শতাংশ এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ দিয়েছে ১২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা। যা প্রকল্পের ৭২.৪০ শতাংশ।
এই রেল সেতুর সমান্তরাল ডুয়েলগেজ ও ডাবল ট্র্যাকসহ প্রায় ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার রেলসেতুর দুই পাশে ০.০৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ৭ দশমিক ৬৬৭ কিলোমিটার রেলওয়ে অ্যাপ্রোচ এমব্যাংকমেন্ট এবং লুপ সাইডিংসহ রেললাইন নির্মাণ হয়েছে। প্রকল্পে রেলপথের পাশাপাশি সেতুর গ্যাস সঞ্চালন ও বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ করা হয়েছে।

১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পরই ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তবে ২০০৮ সালে সেতুটিতে ফাটল দেখা দেয়ায় কমিয়ে দেওয়া হয় ট্রেনের গতি। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পারাপার হচ্ছিল। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার যমুনা নদীর ওপর আলাদা রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সেতুটি নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। এরপর ২০২১ সালের মার্চে রেল সেতুর পিলার নির্মাণে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়।
গত ১০ মার্চ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে পূর্বের নাম বঙ্গবন্ধ যমুনাসেতুর নামসহ ১৬ টি প্রতিষ্ঠান ও সড়কের নাম পরিবর্তন করা হয়। ঐ চিঠিতে বঙ্গবন্ধু সেতুর নাম পরিবর্তন করে ‘যমুনা সেতু’ নাম করণ করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলসেতুর নাম পূর্বেই ‘যমুনা রেলসেতু’ নাম করণ করা হয়।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৫৯:২৪   ১৬৭ বার পঠিত  |