ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
প্রচ্ছদ » রংপুর » তিস্তা চরে আলু যাচ্ছে দেশের বাহিরে

তিস্তা চরে আলু যাচ্ছে দেশের বাহিরে


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫


তিস্তা চরে আলু যাচ্ছে দেশের বাহিরে

কুড়িগ্রাম: অবশেষে তিস্তিার চরে আলু যাচ্ছে মালোইসিয়া ও দুবাই। কৃষকদের আলু নিয়ে দুচির্ন্তা দুর হয়েছে ফিরেছে স্বস্তি। ঢাকার একটি রপ্তানী কারক কোম্পানী বারুন গ্রুপ সরাসরি চরের কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনে প্যাকেট করে নিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানীর সরবরাহকারী জানান,এবার চরের আলুর মান খুব ভালো বলে কৃষকদের কাছ থেকে কিনে নেয়া হচ্ছে।
আলু চাষ করে ভালা ফলন পাচ্ছি। হেই আলু বিক্রি করবার পাইছিলাম না। দাম নাই, হিমাগারেও জাগা নাই। আলু নিয়া কি যে বিপদে পড়ছিলাম তা কয়য়া(বলে) সারন(সারা) যাইত না। শ্যাষে আল্লাই আমাগো মুখের দিকে চাইছে। কোম্পানী আইসা আমাগোর আলু গুলার বিহিত হইছে। দামও ভালা পাইছি। না হলো মরন লাগত। এভাবে কথা গুলো বলছিলেন জুয়ানসেতরা চরের কৃষক লুৎফর রহমান হাজী। তিনি ৬ একর জমিতে আলুর চাষ করেছেন।
গোড়াই পিয়ার চরের কৃষক রানা মিয়া বলেন,আলুর বাম্পার ফলন পেয়েছি। কিন্ত আলু সংরক্ষনের জন্য হিমাগারের কাছে ধন্না দিয়েও একটা স্লিপ যোগাড় করতে পারি নাই। পরে দালালের সরনাপর্ন হলে তারা ওদের কাছে আলু বিক্রি করতে বলে। বাজারে পানির দামে বিক্রি করলে চাষের খরচ উঠে না। তাই আলু নিয়ে খুব চিন্তায় পড়েছিলাম। এতো আলু রাখারও জায়গা নাই।

এমন সময় বারুন কোম্পানী এসে আলু নেয়ায় চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছি। তা না হলে আলু ফেলে দেয়া ছাড়া উপায় ছিল না। তিনি ১৬ একর জমিতে আলুর চাষ করেছিলেন। লুৎফর হাজী ও রানা মিয়ার মত নুর ইসলাম ও মিন্টু মিয়া বলেন,আলু আবাদ করে যে বিপদে পড়েছিলাম। আল্লাহ সেই বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। কোম্পানী জানিয়েছে আপনাদের আলু নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। আমরা আপনাদের পাশে থাকব।
রপ্তানীকারক কোম্পানী বারুন গ্রুপের সরবরাহকারী আবু ইমরান বলেন,বিদেশে ভালো মানের আলু ছাড়া নেয় না। তিস্তা চরের আলুর মান খুব ভাল বলে সান সাহিন জাত সহ উন্নত জাতের আলু কিনে ৯ কেজির প্যাকেট করে মালোসিয়া, দুবাই ও ব্রুনাই পাঠাচ্ছি। ৪ হাজার টন আলু নেয়া হবে। আলু চাষিরা খুব খুশি,তারা আমাদের সহযোগিতাও করছে। আমরা তাদের আলু চাষে উৎসাহিত করছি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, চরের আলু চাষে অল্প পরিমানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় আলু গুলো দীর্ঘ দিন ধরে সংরক্ষন করা যায়।পুষ্টি মানও ভাল খাইতেও সুস্বাধূ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.মোশারফ হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রার ৮০ ভাগ আলুর চাষ হয়েছে তিস্তার চরে। চরের আলুর মান ভাল রোগ বালাই কম বলে ফলনও ভাল হয়। তাই চরের কৃষকদের আলু চাষে বিভিন্ন প্রনোদনা দিয়ে উৎসাহিত করা হয়। আলুর মান ভাল বলে রপ্তাানীকারকরা বেশ আগ্রহী।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১২:৫৬:৪৮   ২৩৩ বার পঠিত  |