ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পাবনা: চাটমোহর উপজেলার রামপুর বিলের মধ্যে থেকে এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রামপুর বিলের মধ্যে একটি ভূট্টা খেতের পাশে জুঁই খাতুনের বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার মুখে পোড়া ক্ষত বিক্ষত চিহ্ন ও পড়নের প্যান্ট গলায় পেঁচানো ছিল।
নিহত শিশু জুঁই পার্শ্ববর্তী নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গাড়ফা উত্তরপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জাহিদুল ইসলামের মেয়ে ও গাড়ফা আজেদা নূরানী কিন্ডার গার্ডেন মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) সোমবার বিকেলে দাদার বাড়ি যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় শিশু জুঁই। তারপর থেকে তার কোন সন্ধান পায়নি পরিবারের লোকজন। মঙ্গলবার সকালে চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের রামপুর বিলের একটি ভূট্টা খেতে জুঁই খাতুনের বিবস্ত্র লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা। এ সময় তার মুখে পোড়া ক্ষত বিক্ষত চিহ্ন ও পড়নের প্যান্ট গলায় পেঁচানো ছিল।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরজুমা আক্তার, চাটমোহর থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম ও বড়াইগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান।
জুঁইকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার পর মুখে অ্যাসিড দিয়ে পোড়ানো হয়েছে বলে ধারণা এলাকাবাসী ও স্বজনদের।
জানা যায়, নতুন জামা পড়ে পহেলা বৈশাখের দিন বাবাকে ভিডিও কলে দেখিয়েছিল সাত বছর বয়সী জুঁই। নতুন জামা, মুখে নানা প্রসাধনী মেখে প্রবাসে থাকা বাবকে ভিডিও কলে প্রিয় সন্তানকে দেখে খুশি হয়েছিলেন প্রবাসী বাবা জাহিরুল ইসলাম। মেয়ে আর বাবার মধ্যে কিছুটা খুনসুঁটি চলার পর কথা শেষ করে। পরে সারাদিন ঘোরাঘুরি করে জুঁই। সন্ধ্যায় প্রতিবেশী দাদার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয় শিশুটি। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ ছিল না তার।
যে মেয়ে নতুন জামা ও সাজুগুজু করে দিনভর হইহুল্লোড়ে মেতেছিল, যে মুখ দেখিয়েছিল বাবাকে. সেই জুঁইয়ের লাশ উদ্ধারে পুরো এলাকার মানুষ শোকে পাথর হয়ে গেছেন।
এরমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের লোকজন সনাক্ত করেন সেই হাসিখুশি জুঁইয়ের মরদেহ। এদিকে শিশুটিকে হত্যার বিভৎসতা দেখে পুরো এলাকা জুড়ে কান্নার রোল পড়ে যায়। ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ।
নিহতের দাদি জহুরা খাতুন বলেন, মঙ্গলবার সকালে মেয়েটিকে খুঁজতে খুঁজতে আমি ভুট্টা ক্ষেতে যাই। সেখানে এক পর্যায়ে জুঁই এর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। কে যে আমার নাতনীর সর্বনাশ করলো। আমরা তার ফাঁসি চাই।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম বলেন, শিশুটির স্বজনরা লাশের পরিচয় সনাক্ত করেছেন। শিশুটির বাড়ি বড়াইগ্রাম উপজেলায়। তবে লাশ উদ্ধার হয়েছে চাটমোহর মৌজায়। আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। মরদেহ উদ্ধার সহ আইনগত প্রক্রিয়া চলামন রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে এ ঘটনার সাথে কে জড়িত তা জানতে পারেনি পরিবারের লোকজন ও পুলিশ। তবে ঘটনার ক্লু উদঘাটন ও জড়িত কে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৩:০৫:১২ ২৩৫ বার পঠিত | ● চাটমোহর ● ধর্ষণ ● শিশু ● হত্যা
----