![]()
নারায়ণগঞ্জ: অর্থ উপার্জনের নেশায় ঝুঁকি নিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে দালালের হাত ধরে মালেশিয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন সাজ্জাদ মিয়া। ২০২৩ সালের জুন মাসেই সে ধরা পড়ে মিয়ানমার পুলিশের হাতে। সেই দেশের আদালত তাকে দুই বছরের সাজা দিয়ে মালাইবানের কেলিকং জেলে আটকে রাখে।
মায়ানমার সরকার চৌদ্দ বছরের শিশুকে দেখে তাকে পাঁচ মাস জেল খাটার পর দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় কাগজপত্রে। পরবর্তীতে কূটনৈতিক পর্যায়ে দীর্ঘ আলোচনার পর তাকে সেই দেশের জেল থেকে মুক্ত করে মঙ্গলবার সমুদ্র পথে আনা হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। তাকে তার অভিভাবকের জিম্মায় চট্টগ্রাম থানার ওসি, ইউএনও উপস্থিতিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার বিকেলে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাজ্জাত হোসেন সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাজ্জাদ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কল্যান্দী খোঁজপাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে।
সাজ্জাদের পিতা আব্দুল হান্নান জানান, তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে সাজ্জাদ। দালালের খপ্পরে পড়ে তার ছেলেটা মালেশিয়া যেতে চেয়েছিল। তাদের কিছু না বলেই সে চলে গিয়েছিলো। তাকে অনেকদিন খুঁজে না পাওয়ায় যোগাযোগ করে দেখি সাজ্জাদের মত হোয়াইকং ও আশেপাশের উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজারের অনেক ছেলে দালালে লোভে পরে চলে গেছে।
মিয়ানমারে তাদের আটক থাকার খবর প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার মাস খানেক পর তিনি জানতে পারেন সাজ্জাদ মালাইবানের কেলিকং জেলে আছে। এরপর অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) এর সাথে যোগাযোগ করি। ওকাপ সাজ্জাদকে মায়ানমার থেকে দেশে আনার সার্বিক সহযোগিতা করে। তার পরিবারকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পুলিশ, ইউএনও অফিস, ডিসি অফিস, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে যায়। তাদের সহযোগিতায় আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে তাকে ফেরত পাই। সাজ্জাদকে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা আনন্দ অশ্রুতে সিক্ত হন তার মা আনু বেগম।
সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘প্রথমে অন্যদের সাথে আমাকে একটা গুদামে রেখেছে ওরা। সেখানে চারদিন থাকার পর মিয়ানমারের বোটে তুলে দেয়া হয়। মিয়ানমারের শামিলা নামের একটা জায়গা আছে সেখানে নিয়ে আমাকে মারার হুমকি দিচ্ছিল, গালাগাল করছিল। পরে মিয়ানমারের মিলিটারির কাছে ধরা খাই।’
ওকাপের ফিল্ড অর্গানাইজার ছোবাহান আলী জানান, সাজ্জাদের বয়স বিবেচনায় তাকে আটকের পাঁচ মাস পর খালাস দেয়া হয়। কিন্তু কাগজপত্রে সমস্যা থাকায় তাকে দেশে ফেরত আনতে দেরি হয়।
আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাত হোসেন জানান, মানব পাচারকারীদের শনাক্তকরণের কাজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে। গ্রামের নিরীহ ও সহজ সরল কিশোর-যুবকদের স্বপ্ন দেখিয়ে অবৈধভাবে যারা বিদেশে পাচার করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি না জেনে বুঝে কেউ যাতে পাচারকারীদের ফাঁদে না পড়ে সেজন্যে সচেতনামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:২৯:৫১ ২৭২ বার পঠিত | ● আড়াইহাজার ● খপ্পর ● দালাল