ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » এক ও দুই টাকার কয়েন নিয়ে বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ জনসাধারন

এক ও দুই টাকার কয়েন নিয়ে বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ জনসাধারন


মাহাবুব আলম লিটন,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫


এক ও দুই টাকার কয়েন নিয়ে বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ জনসাধারন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগরে এক ও দুই টাকার কয়েন নিতে চাচ্ছে না কেউ। এ কয়েন চলে না শুধু নবীনগরে অচল বলেই গণ্য হচ্ছে। অথচ পাশের উপজেলায়সহ দেশের সকল জায়গায় এসব কয়েন সচল রয়েছে । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিশয়ে লেখা হলেও প্রশাসন নীরব কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কিন্তু কেন? কেন ব্যবসায়ী ও ব্যাংক এসব কয়েন নিচ্ছেন না সরকারি কোন প্রজ্ঞাপন আছে কিনা এই নিয়ে নবীনগরের জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

জমে থাকা এক ও দুই টাকার কয়েন দেখাচ্ছেন এক ব্যবসায়ীর ছেলে মোঃ তামিম। পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের ছোট্ট একটি মুদিমালের দোকানে জমে রয়েছে অনেক কয়েন। পৌর এলাকার বাসিন্দা চা-বিক্রেতা ফারুক মিয়া বলেন, দোকানে লেনদেন করতে গিয়ে তাঁর কাছে এক ও দুই টাকার অনেক কয়েন জমা হয়েছে। সেগুলো তাঁর কোন কাজে আসছে না,নবীনগরে কোনো দোকানে কয়েন দিতে গেলে কেউই নিতে চান না, ব্যাংকেও নিতে চায় না।মনে হয় আমি অচল পয়সা দিচ্ছি।

একই রকম অভিযোগ নবীনগর সরকারি হাই স্কুল মার্কেটের দোকানি কামরুল হাসান ইকরামের। তিনি বলেন, এখানে কোনো বাজারেই ক্রেতা-বিক্রেতা, কেউই এক ও দুই টাকার কয়েন নিতে চান না। ফলে কারও কাছ থেকে এক টাকা বেশি নিতে হচ্ছে,কারও কাছ থেকে কম। অথচ উপজেলার বাইরে এসব কয়েন লেনদেন হয়,আমরা বিভ্রান্তিকর অবস্থায় আছি এই সমস্যার পরিত্রাণ চাই।

নবীনগর উপজেলা সদরের বাজারগুলোতে সরে জমিনে খোঁজ নিয়ে একই রকম তথ্য পাওয়া যায়। এখানে দুই টাকার কাগজের নোটের লেনদেন স্বাভাবিক। এমনকি পাঁচ টাকার কয়েন নিয়েও কারও আপত্তি নেই। তবে এক ও দুই টাকার কয়েন যেন অচল পয়সা।কয়েন লেনদেন না হওয়ায় ছোট ব্যবসায়ীরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। তাদের জমানো কয়েন গুলো কোথায় দেবেন এ নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত তারা।নবীনগর বাজারের একাধিক ক্রেতা বললেন কয়েনের লেনদেন না হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁদের ওই এক ও দুই টাকা ছেড়ে যেতে হচ্ছে। আর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় এই অনিয়মটি ধীরে ধীরে নিয়মে রূপ নিচ্ছে।এ কারণে অনেক ক্রেতা ওই টাকার দাবি ছেড়ে দেন।

এক ও দুই টাকার কয়েনের লেনদেন না হওয়ার প্রশ্নে ক্রেতা–বিক্রেতারা ব্যাংকের ওপর দায় চাপাচ্ছেন, অনেকে আবার অভিযোগ করেন, ব্যাংকে গেলেও ধাতব মুদ্রার কয়েনগুলো নেওয়া হয় না। এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলার কয়েকটি সরকারি–বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,কয়েন লেনদেন বন্ধে ব্যাংকের কোনো হাত নেই। বরং তাঁদের ভল্টগুলো কয়েনে ভর্তি। পাঁচ টাকার কয়েনের চাহিদা থাকলেও কেউ তাঁদের কাছ থেকে এক ও দুই টাকার কয়েন নিতে চান না।

নবীনগর সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ও ম্যানেজার আশিক কায়সার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ব্যাংকের ভল্টে একটা নির্দিষ্টসংখ্যক কয়েন জমা রাখার নিয়ম আছে। আমরা কয়েন নিচ্ছি এবং দিচ্ছি, গ্রাহকদের সাথে লেনদেন করার জন্য আমাদের ব্যাংকে পর্যাপ্ত কয়েন জমাও আছে।

আমার জানামতে নবীনগর অন্যান্য ব্যাংকগুলোতেও পর্যাপ্ত কয়েন রয়েছে তবে কেউ যদি পরিমানে বেশি কয়েন জমা দিতে চাই সে ক্ষেত্রে আমরা গ্রাহকের সাথে আগে কথা বলে ট্রানজেকশন আওয়ারে নেওয়ার চেষ্টা করি। কয়েন লেনদেনে করতে সরকারি কোন নিষেধাজ্ঞা নেই বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী বলেন,এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যেই এক ও দুই টাকার কয়েন/মুদ্রা লেনদেনে অনীহা রয়েছে,নবীনগরের ব্যাংকগুলোতেও ধাতব মুদ্রা না নেওয়ার কথা শুনেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সরকারি অনুমোদিত মুদ্রা লেনদেনে অচল বলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটা আসলে একটা গুজব ছড়ানো হয়েছে এই গুজব দূর করার জন্য জরুরিভিত্তিতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে সেটা যে কোন মাধ্যমেই হোক। এখানকার(নবীনগর)তফসিলি ব্যাংকগুলোর ম্যানেজারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিব।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:০১:৫০   ২৪১ বার পঠিত  |