ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
প্রচ্ছদ » ঢাকা » দোহারে গ্রাহকের সোয়া তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক ম্যানেজার

দোহারে গ্রাহকের সোয়া তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক ম্যানেজার


মাহবুবুর রহমান টিপু, ( ঢাকা )
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫


দোহারে গ্রাহকের সোয়া তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক ম্যানেজার

ঢাকা: দোহার উপজেলার ইসলামি শাহজালাল ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহকের স্থায়ী আমানতের প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যাংকে জমা না করেই জয়পাড়া শাখার ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা হলেন বিশালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো.আলাউদ্দিন মোল্লা, জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নাফিস চৌধুরী, চৌধুরীপাড়া এলাকার আবুল হোসেন, দোহার খালপাড়ের মাহমুদা লাকী আক্তার, জয়পাড়ার বোরহানুল হক ও জামাল আহম্মেদ, প্রবাসী দম্পতি রোকসানা বেগম ও ফাতেমা আক্তার।
প্রতারনার শিকার ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এ ঘটনায় গত এপ্রিল বৃহস্পতিবার ঢাকা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে জমা টাকা ফেরৎ পেতে দাবী জানান তারা।
অপরদিকে জয়পাড়া শাখার চলতি দায়িত্বে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সাবেক ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলামের নামে দোহার থানায় গত ৪ মার্চ একটি মামলা রুজু করেন। যা বর্তমানে দুদক তদন্ত করছেন।
ব্যাংক কতৃপক্ষের লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম গত ৯ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগদান না করায় গত ২০ ফেব্রুয়ারী ব্যাংকের মানব সম্পদ বিভাগ থেকে অনুপস্থিতের কারন দর্শনোর নোটিশ জারী করেন এবং যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও তাকে অদ্যাবধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা ও বিভিন্ন আলামত যাচাইযান্তে প্রতীয়মান হয় যে, আসামী শাহজালাল ইসলামী ব্যংক পিএলসি জয়পাড়া শাখার সাবেক কর্মকর্তা তার ব্যাংক ব্যবস্থাপকের পরিচয়ে স্থানীয় অনেক লোকজনের সাথে ব্যাংক বহিভূর্ত অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত।তার এহেন কর্মকান্ডে ব্যাংকের সুনাম নষ্ঠ হয়েছে বিধায় সাবেক কর্মকর্তাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহনকরত: একটি ্জাহার দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা জানান, তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান লাকী এন্টারপ্রাইজ এর ৯০ লাখ টাকা ইসলামী শাহজালাল ব্যাংক,জয়পাড়া শাখায় এফডিআর নামক সঞ্চয়ের একটি একাউন্ট খোলেন গত ফেব্রয়ারী মাসে। যার হিসাব নম্বর -০০০০০৭১।পরবর্তীতে গত ২ মার্চ ব্যাংকে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়ে আরও দশ লক্ষ যোগ করে এক কোটি টাকার এফডিআর করতে আবেদন করি। এ সময়ে ব্যাংক কতৃপক্ষ আমাকে দেওয়া ফিক্সড ডিপোজিটের জমা রশিদ ও সিকিউরিটি চেক গ্রহন করে জানান একটু অপেক্ষা করেন।

কিছুক্ষন পর জানান, জমা দেওয়া রশিদ ও সিকিউরিটি চেক সবই জাল। এ সময়ে দায়িত্বে নিয়োজিত নতুন ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল রাকিব তালুকদারের কাছে বিষয়টি সমাধান চাইলে তিনি বলেন, এখন আমার কিছুই করার নেই। তিনি আরও বলেন টাকা ফেরৎ পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বরাবর, ইসলামী শাহজালাল ব্যাংক পিএলসি’র চেয়ারম্যান বরাবর ,ইসলামী শাহজালাল ব্যাংক হেড অব ডিপার্টমেন্ট এমডি বরাবর, উপ-পরিচালক,দুদক,ঢাকা-২ এবং দোহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। বর্তমানে আমরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ,সরকারের কাছে আমরা এঘটনায় ন্যায় বিচার চাই।
একই ঘটনায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নাফিস চৌধুরীর ৬০ লাখ, চৌধুরীপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ৩০ লাখ , দোহার খালপাড়ের মাহমুদা লাকী আক্তার ৩০ লাখ , জয়পাড়ার বোরহানুল হকের ২০ লাখ ও জামাল আহম্মেদেও ১৫ লাখ, প্রবাসী দম্পতি রোকসানা বেগমের ৪৫ লাখ ও ফাতেমা আক্তারের ৩২ লাখ টাকাসহ মোট তিন কোটি ২২ লাখ টাকা জাল-জালিয়াতি ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। ভোক্তভোগী সবাই টাকা ফেরৎ পেতে সরকারের কাছে সহযোগীতা চান।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৯:১৩   ১৫২ বার পঠিত  |