![]()
পাবনা: সুজানগর ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’ (পূর্ব নাম একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের) গ্রাহকদের অল্প লাভে অধিক পরিমানে ঋণ দেবার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন ব্যাংকটির মাঠ সহকারী বিশ্বজিৎ কুমার বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের আন্ধারকোটা গ্রামের শংকর কুমার পালের ছেলে।
বর্তমানে বিশ্বজিৎসহ পরিবারের সকল সদস্য পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে প্রতারণার শিকার গ্রাহকেরা রবিবার (২৭ এপ্রিল) তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে উপজেলা ব্যাংক কার্যালয়ে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
জানাযায়, ২০১৪ সালে চাকুরীতে যোগদান করা মাঠ সহকারী বিশ্বজিৎ কুমার ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের’ উপজেলার দুলাই ইউনিয়নসহ স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার ১৯টি সমিতির তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। এই সকল সমিতির ৪৮৬জন সদস্য রয়েছে। আর সমিতির সদস্যদের ঋণ দেওয়া, ঋণের কিস্তি নিয়মিত আদায় করা ছিল তার মূল দায়িত্ব। অল্পদিনের মধ্যে সমিতির সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা, মিষ্টি ব্যবহার দিয়ে বিশ্বস্ততা তৈরি করে ফেলেন মাঠ সহকারী বিশ্বজিৎ কুমার ।
এর ফলে ১৯টি সমিতির প্রায় ৩০ ভাগ গ্রাহকের ঋণ গ্রহণের পাশ বই বিশ্বজিৎ কুমার কৌশলে তার কাছে রেখে দেন। সম্প্রতি গ্রাহকরা বইয়ের কথা বললে, বলতেন কোনো সমস্যা নেই। অফিসে অডিট চলছে,অডিট শেষ হলে বই ফেরত দেওয়া হবে। বই আমার কাছে আছে। এভাবে তিনি বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা এবং নতুন সদস্য করে বিভিন্ন ব্যক্তির মোটা অংকের টাকা লোন পাশ করিয়ে দেবার কথা বলে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গত শুক্রবার লাপাত্তা হয়েছেন।
এদিকে গ্রাহকদের পাশ বই এর হদিস না পাওয়ায় কিস্তির কার কত টাকা বাকী বা জমা আছে তার কোনো হিসাব দেখাতে পারছেন না গ্রাহকরা।
উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের তেবিলা গ্রামের সমিতির সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন,মাত্র ২ শতাংশ হারে লাভে ১৫ লাখ টাকা নতুন করে লোন দেবার কথা বলে আমার কাছ থেকে গত ২৪ এপ্রিল ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে জমা রশিদ দেয়। কিন্তু সে টাকা অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করে পালিয়েছে।সমিতির অপর সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার কাছ থেকে সঞ্চয়ের ২৯ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৩,২৫,৮০০ হাজার টাকা নিয়েছে বিশ্বজিৎ ২০ লাখ টাকা নতুন করে ২ শতাংশ লাভে লোন দেবার কথা বলে। এখন অফিস থেকে বলছে কোনো টাকাই জমা হয়নি। বইও আমার কাছে নেই।
এ রকম অনেক গ্রাহক বিশ্বজিৎ কুমারের কাছে টাকা জমা দিয়ে পথে পথে ঘুরছে। ব্যাংক কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সমিতির একজন সদস্য ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারেন এর বেশি নয়। আর এর বেশি লোন পেতে হলে উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে জেলা কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয়ের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত এই উপজেলার কোন সদস্যকেই ২ লাখ টাকার উপরে লোন প্রদান করা হয়নি। অতি লোভের কারণে এ ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে ।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে রবিবার সুজানগর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো.আব্দুর রাশেদ জানান, এ পর্যন্ত সমিতির সদস্যসহ ৭৯ জন ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার ৫১০ টাকা ব্যাংকের মাঠ সহকারী বিশ্বজিৎ আত্মসাৎ করে পালিয়েছে বলে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।
প্রতারণার শিকার গ্রাহকেরা টাকা জমাদানের রশিদ ব্যাংকে জমা দিলে তাদের টাকা ফেরত দেবার বিষয়ে ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র একজন সদস্য টাকা জমাদানের রশিদ দেখিয়েছেন বলে তিনি জানান। ধারণা করা হচ্ছে অন্য সবাই বিশ্বজিৎ এর প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২১:০৪ ২১২ বার পঠিত | ● উধাও ● কোটি টাকা ● গ্রাহক ● পল্লী সঞ্চয় ● ব্যাংক ● সুজানগর