ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ১২ মে ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » বাউফলে ফেজবুকে নেতাদের পাল্টাপাল্টি পোষ্ট, জনমনে নানা প্রতিক্রিয়া

বাউফলে ফেজবুকে নেতাদের পাল্টাপাল্টি পোষ্ট, জনমনে নানা প্রতিক্রিয়া


স্টাফ রিপোর্টার,( বাউফল )
প্রকাশ: সোমবার, ১২ মে ২০২৫


বাউফলে ফেজবুকে নেতাদের পাল্টাপাল্টি পোষ্ট, জনমনে নানা প্রতিক্রিয়া

পটুয়াখালী: বাউফলের দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আলী আজম চৌধূরী ও দাসপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও দাসপাড় আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ক্যাডার দিয়ে মাদক ব্যবসা,সন্ত্রাসী কর্মকান্ড,বিরোধি দলকে হেনেস্তা সহ একে অপরের সহযোগিতায় নিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল,হামলা,মামলার বিষয় পাল্টাপাল্টি ট্যাগ অফ ওয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

রোববার সন্ধায় দাসপাড়া বিএনপির আহবায়ক ও দাসপাড়া সাবেক চেয়ারম্যান এ,এন,এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বড় ছেলে জাফর ইমাম নামে ভেরিফাই এ্যাকান্ট থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার করেন। এ পোস্ট টি দ্রুত ছড়িয়ে পরলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এলাকায় সাধারন মানুষের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে চলে আলোচনা,সমালোচনার ঝড়।

বিএনপির আহবায়ক আলী আজম চৌধুরী প্রথমে তাঁর ভেরিফাইড আইডিতে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে লেখন,সাবেক চেয়ারম্যান ফ্যাসিস্ট এ,এন,এম জাহাঙ্গীর দীর্ঘ ১৭টি বছর এই দাসপাড়া ইউনিয়নে সন্ত্রাসের গডফাদার ছিলেন,মাদক ব্যবসা থেকে সকল অপকর্মের গডফাদার ছিল। আজ আর দাসপাড়ায় কোন সন্ত্রাসী, অনিয়ম নেই বলে পোস্ট করেন। কিছুক্ষণ পরেই এ,এন,এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বড় ছেলে জাফর ইমাম নামের আইডিতে পোস্ট করেন আলী আজম চৌধুরী।আপনি বিরোধী দলের সময় এই জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অনেক সুবিধা নিয়েছেন।

বিএনপির আহবায়ক কমিটির সময়ে আপনার দলীয় মাইনুল ইসলাম ফিরোজকে মারধর করেছেন,আপনার সমর্থন করেনি বলে। এখন মাদক ব্যবসায়িরা আপনার দলে পুলিশ আটক করেছে মাদকসহ অথচ আপনি তাদের নিয়ে ব্যানার করে মাদকবিরোধী মিছিল করেছেন। আপনি অপসোনিন কোম্পানীর স্যালাইন বিভাগে চাকরী করতেন। কতটাকা বেতন পান,অনিয়মে চাকরী হারিয়েছেন, সেই সময়ে জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানের সহযোগিতা নিয়েছেন।চাকরী যাওয়ার পরে আপনি ৭০ লাখ টাকার প্রাডো গাড়িতে চড়েন। এই টাকার উৎস কোথায় দাসপাড়ার মানুষ জানতে চায়। দাসপাড় এখন মাদক ও সন্ত্রাসীদের আখড়ায় পরিনত হয়েছে।
সাদিক হোসেন নামের এক বিএনপির সমর্থক আলী আজম চৌধুরীকে দরবেশ বাবা বলে মাদক সেবনকারিদের ভিডিও এবং তার মাদক বিরোধী মিছিলের ছবিসহ তাকে পোস্ট করেন। এ ছারা তিনি বলেন,মোরা গরীব মানুষ, শহীদ জিয়ার দলটি করি। দরবেশের মত দাসপাড়াকে কলঙ্কিত করবেন না। তাহলে আমরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামবো। মাইনুল ইসলাম ফিরোজ নামের এক বিএনপির সমর্থক বলেন,যখন দলীয় মিছিল,সমাবেশে আমরা পালিয়ে ঝটিকা মিছিল করি। তখন তিনি আওয়ামীলীগের সহযোগিতায় আমাদের মারধর,মামলা হামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে। এখন তিনি দরবেশ বাবা সেজেছেন বলে জানান।
দাসপাড়ার সাবেক মেম্বর বিডি,আর আলতাফ হোসেন মুন্সি নামে প্রবীণ বিএনপির নেতার ভাষ্য,গত সপ্তাহে দাসপাড়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজির উদ্দিনকে মারধর করে তাকে সভাপতি না করায়,এ নিয়ে মিছিল,মানব বন্ধ ণ হয়েছে। অথচ তার সভাপতি হওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। এ ঘটনা নিয়ে অভিভাবক ছাত্ররা ভৎসনা করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউররহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ছিলেন। বিএনপির কোন কর্মী গঠনতন্ত্রের নিয়ম জানলে এসব করতে পারেনা বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে আলী আজম চৌধুরীর কে তার মুঠোফোনে কল করে পাওয়া যায়নি বলে তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দাসপাড়া এ,এন,এম জাহাঙ্গীর বড় ছেলে জাফর ইমাম বলেন,সে বড় রাজনীতির সৃষ্টাচার ভঙ্গ করলে তার জবাব দিতে হয়। আমার বাবা দল করেন,এখন তিনি এর জবাব দিতে পারবেনা।কিন্তু সময় এলে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং মানহানির জবাব দিতে হবে তার।
দাসপাড়া বিএনপির আহবায়ক,আলী আজম চৌধুরী বলেন,হ্যাঁ পোস্ট করেনি। কে কি লিখলো তা দেখার সময় নেই তাঁর। আর ফেইসবুক মানুষ পড়েনা বলে কাজ আছে বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, বিষয়টি জানা নেই,তবে দলের গঠনতন্ত্রের নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৬:৫০   ৭২৮ বার পঠিত  |