![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর পৌরসভায় ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত পানি সরবরাহ প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এক বছরের প্রকল্প তিন বছর গড়িয়ে গলেও সাপ্লাইয়ের পানি পাচ্ছে না পৌরবাসি।পৌরবাসির এই ক্ষোভ থেকেই প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কাজ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করে গা ঢাকা দিয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারনা চালানো হচ্ছে।অবশ্য সংলিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ সম্পৃর্ন অস্বীকার করেঅ ৭০% এর উপরে কাজ সম্পন হয়েছে বলে দাবী করেন।
বিষয়টি অনুসন্ধানে জানা যায়,২০২১ সালের ২০ অক্টোবর তৎকালীন পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শিব শংকর দাস নবীনগর পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
ফিলিপাইন ভিত্তিক বিদেশী প্রজেক্ট ইসলামী ডেভলাপমেন্ট ব্যাংকের সম্পূর্ণ অর্থায়নে (৮ কোটি ২৬ লাখ) পুরো এ কাজটির বাস্তবায়ন ও তদারকি করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE)। ঠিকাদারি কাজ পায় ‘এনপিআইএল- কম্বাইন্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’ ও ‘মেসার্স তানভীর আহমেদ জেভি’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান।
সিডিউল মোতাবেক প্রকল্পের আওতায় ১৮. ৯ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো, ৩ হাজার ৮৫৫টি হাউস কানেকশন এবং ১২টি স্ট্রিট হাইড্রেন্ট স্থাপনের কথা রয়েছে। কিন্তু , বসানো হয়েছে মাত্র দুটি নলকূপ- একটি পশ্চিম পাড়া এলাকায়, অপরটি ভোলাচং বাজারে। অধিকাংশ এলাকায় কোনো পাইপলাইন বসানো হয়নি।
৫ আগস্টের পর থেকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে খুঁজে না পাওয়ায় কাজটি গত ৯ মাস ধরে বন্ধ আছে।
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম ও শাহ আলম বলেন, ‘এটা শুধু পানি প্রকল্প নয়, বরং উন্নয়ন বাজেটের ভয়াবহ লুটপাট। আমরা তিন বছর ধরে শুধু নাটক দেখে যাচ্ছি, কিন্তু পানি পাচ্ছি না।
আদালত পাড়ার আজাদ বলেন,আমাদের কাছ থেকে সাপ্লাইয়ের পানিয়ে রাস্তা থেকে বাসা পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য পৌরসভা ১০০০ ও ৫০০ করে নিবন্ধন ফি’র নামের টাকা তোলা হয়েছে । কিন্তুু এক বছরে প্রকল্প তিন বছর হয়ে গেল আমরা এখনো পানি পাচ্ছি না।
নবীনগর জনস্বাস্থ্য অফিস সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের কাজ ৭০+% সম্পন্ন হয়েছে,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ পর্যন্ত ৩০% বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবু তাহের বলেন, পৌরসভার নিয়ন্ত্রণের এ কাজ হচ্ছে না এটার জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশলী নিয়ন্ত্রণাধীন কাজ হচ্ছে।এ কাজে দুর্নীতি হওয়ার কোন সুযোগ নেই, আমার জানামতে প্রায় ৭০% কাজ কমপ্লিট। আশা করা হচ্ছে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে।
এদিকে, এনপিআইএল- কম্বাইন্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের ঠিকাদার নজরুল ইসলামকে ৫ আগস্টের পর দেখা যায়নি।
অপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স তানভীর আহমেদ জেভি’র মালিক সামিম আহমেদ দাবি করেন, ‘প্রকল্প কোনো দুর্নীতি হয়নি, আমার মাত্র ৩০% বিল পেয়েছি,আমাদের কাজ ৭০% শেষ। তবে পানি মিটার ও সরঞ্জামের ঘাটতি কাটিয়ে আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন বলেন, ‘এই কাজটি সম্পূর্ণরূপে DPHE বাস্তবায়ন করেছে, পৌরসভা এতে জড়িত নয়। দুর্নীতির অভিযোগও সত্য নয়।’
এ ব্যাপারে জেলা জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিরউল্লাহ জানান,’পানি দ্রুতই পাবে পৌরবাসি। আর এই প্রকল্পের একটি টাকাও উধাও হয়নি, হওয়ার কোন সুযোগও নেই। ঠিকাদার এ পর্যন্ত কেবল ৩০% বিল তুলতে পেরেছে। আর প্রায় ১৯ কি.মি. দীর্ঘ পাইপ লাইনের পুরো কাজটিতে এখন কেবল মিটার সংযোগসহ কিছু লাইন স্থাপনের কাজ বাকী আছে। মিটার সংযোজন হলেই, সর্বোচ্চ আগামি জুনের মধ্যে পৌরবাসি এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি পাবে ইনশাল্লাহ।’
২০২১ সালে শুরু হওয়া এক বছরের এই প্রকল্পের কাজটি কেন তিন বছর৷ সময় লাগলো? এমন প্রশ্নের জবাবে DPHE এর ওই উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন,,’মূলত ৫ আগস্টের পর থেকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আমরা খুঁজেই পাচ্ছিনা! তাই কাজটি গত ৯ মাস ধরে বন্ধ আছে। তবে ২/১ দিনের মধ্যেই ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা কাজ আবার শুরু করবেন।আমরা আশা করছি, দ্রুততার সঙ্গে জুনের মধ্যে শেষ হবেই।
নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রাজীব চৌধুরী বলেন, ‘এই প্রকল্পটি আমার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেই বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তবে আশা করছি, অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:২৫:৪১ ১৭৭ বার পঠিত | ● নবীনগর ● পৌরসভা ● প্রকল্প ● সাপ্লাই