ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » পানি সংকটে তালতলীর অধিকাংশ জমি,ফসল উৎপাদন ব্যহত

পানি সংকটে তালতলীর অধিকাংশ জমি,ফসল উৎপাদন ব্যহত


জাকির হোসেন,আমতলী (বরগুনা)
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ মে ২০২৫


পানি সংকটে তালতলীর অধিকাংশ জমি,ফসল উৎপাদন ব্যহত

বরগুনা: খাল ভরাট হওয়ায় পানির অভাবে সেচ সংকট ও লবনাক্ততার কারনে সাগর উপকূলীয় বরগুনার তালতলী উপজেলার অধিকাংশ আবাদযোগ্য জমি বছরের ৬-৭ মাস অনাবাদী থাকে। বিপুল পরিমান জমি অনাবাদী থাকার কারণে স্থানীয় মানুষজনদের জীবন জীবিকায় এর প্রভাব পড়ছে ব্যাপক ভাবে। ফলে কর্মসংস্থান না থাকায় শহর মুখী হচ্ছে দরিদ্র মানুষ। খাল খননের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষন করে সকল জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব। দরকার সরকারী উদ্যেগের। বিপুল পরিমান জমি অনাবাদী থাকায় কৃষকরা প্রতি মৌসুমে ১১৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ফসল হারাচ্ছে।

কৃষকরা জানান, তালতলী উপজেলার অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খালে বিলে পানি থাকে না। পানি না থাকায় দেখা দেয় সেচ সংকট। অন্যদিকে পানি না থাকায় রোদে পুরে জমিতে দেখা প্রচন্ড লবনাক্ততা। লবনাক্তার প্রভাবে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। এসময় আর জমিতে ইরি বোরো রবি ফসল কিছুই ফলানো সম্ভব হয় না। তাই পতিত অবস্থায় পরে থাকে হাজার হাজার একর জমি।

তালতলী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমান ১৬ হাজার ৪শ’ ৪১ হেক্টর। আমন মৌসুমে এ জমিতে ৬৫ হাজার ৭শ’ ৬৪ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন হয় (হেক্টর প্রতি ৪টন হিসেবে)। টাকায় এর পরিমান দাড়ায় ২১০ কোটি ৪৪ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। (প্রতিটন ৩২ হাজার টাকা হিসেবে)। শুকনো মৌসুমে এ জমিতে পানি না থাকা এবং লবন জনিত সমস্যার কারনে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর (বেসরকারী পরিসংখ্যান, সরকারী হিসেবে অর্ধেক জমি) জমিতে ফসল উৎপাদন সম্ভব হয় না। ফলে কৃষকরা ৯ হাজার হেক্টর (প্রতি হেক্টরে ৪টন) জমিতে ১৬ হাজার মেট্রিক টন ফসল কম উৎপাদন হওয়ায় (প্রতিটন ৩২০০০ হাজার টাকা) প্রতিবছর ১১৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ফসল হারাচ্ছে কৃষকরা। আরেকটি তথ্যে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৯১টি গ্রামে ১৮৬টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে ৮৪টি খাল ভরাট হয়ে শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

৯১টি গ্রামের মধ্যে ৪০টি গ্রামে শুকনো মৌসুমে পানির অভাব এবং লবনাক্ততার কারনে আবাদ করা যায় না পরিত্যাক্ত থাকে। ২০টি গ্রামে আংশিক এবং ৩১টি গ্রামের খালে পানি থাকায় ফসল আবাদ করা সম্ভব হয়। পানির অভাব খাল ভরাট এবং লবনাক্ততার কারনে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন হচ্ছে পচাকোড়ালিয়া, নিশান বাড়িয়া এবং সোনাকাটা ইউনিয়ন। এই এলাকার দু’একটি গ্রামে পায়রা নদী থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হলেও বাকী সকল গ্রামের জমি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে আছে।

উপজেলাটি বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দক্ষিণের শেষ প্রান্তের উপজেলা। এই উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গোপ সাগর এবং পূর্বে রয়েছে সাগরের সাথে সংযুক্ত আন্দার মানক নদী। পশ্চিমে পায়রা নদীর অবস্থান। সাগরে ঘিরে থাকা তালতলী উপজেলার সকল জমিতেই সাগরের লবন পানির অবাধ প্রবেশের ফলে মাটি যেন হয়ে গেছে লবনাক্ত। বর্ষা মৌসুমে শেষে শুকনো মৌসুমে রৌদ্রের তাপ বাড়ার সাথে সাথেই যেন জমিতে জেগে ওঠে লবনের সাদা আবারণ। তখন বন্ধ হয়ে যায় কুষকের ফসল ফলানোর স্বপ্ন।

আমন ধান কাটা শেষ হলে জানুয়ারি থেকেই তালতলীতে মাইলের পর মাইল যতদুর চোখ যায় মাঠের পর মাঠ ফাকা দেখা যায়। এপ্রিল থেকে জুন মাসের সময় তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যায়। এসময় ফেটে যাওয়া মাটির উপরিভাগে সাদা লবনের আবারন দেখা যায়। লবনের প্রভাবে ফাকা মাঠে ঘাষ পর্যন্ত থাকে না। এর বিরুপ প্রভাবে গবাদি পশু পালনেও দেখা দেয় বিরম্ভনা।
অপরিকল্পিত বাঁধে মরছে খাল:
তালতলী উপজেলাটি সাগরতীরবর্তী হওয়ায় বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য উপকূল জুরে ১৯৬৭-৬৮ সালের দিকে পায়রা এবং সাগর তীরবর্তী ৪৪/বি এবং ৪৫ নম্বর দুটি পোল্ডারের মাধ্যমে ৫৮ কিলোমিটার এলাকাজুরে অপরিকল্পিত বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মানের পর বাঁধের ভিতরে খালের পানির প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় ধীরে ধীরে খাল গুলো মরতে থাকে। এখন এমন পর্যায় পৌঁচেছে যে ১৮৬ টি খালের মধ্যে ৮৬টি খাল তার অস্তিত্ব হারিয়ে এখন ধান খেতে পরিনত হয়েছে। যে কারনে দেখা দিয়েছে সেচ সংকট ও লবনাক্ততা।
লবনাক্ততা শুরু:
১৯৭০ সালের ১২ নভেস্বর ঘূর্নিঝড়ের সময় সাগরের জলোচ্ছাসে তালতলীসহ গোটা উপকূলীয় এলাকা সাগরের লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘবছর ধরে এই লোনা পানির রেশ থাকার পর মানুষ ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করে। তান্ডবের এই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরে সাগরের লবন পানিতে পুরো তালতলী উপজেলা আবার তলিয়ে যায়। এসময় পানির স্রোতে সকল খাল বিল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লবনের প্রভাবে ক্ষেতের ফসলসহ বাড়ির গাছপালা পর্যন্ত মরে যায়। উপজেলাটি পরিনত হয় লবনের স্বর্গরাজ্যে।

এছাড়া জলোচ্ছাসের তান্ডবে চাউলাপাড়া খালের বাঁধা ভেঙ্গে শারিখখালী ও কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন দুটিতে লবন পানি প্রবেশের ফলে স্থায়ী ক্ষতির কারনে ওই ইউনিয়ন দুটিতে শুকনো মৌসুমে কোন ফসল চাষ করা যায় না। এর মধ্যে আরো ছোট ছোট ঘূর্নিঝড় জলোচ্ছাস রোয়ানু, বুলবুল, আম্ফান রিমালসহ অনেক ঝড়ে লবনপানির কারনে ক্ষতি হয়েছে অনেক। ঝাড়াখালী গ্রামের কবির আকন বলেন, ‘বছরের পর বছর মোরা কষ্টের মধ্যে আছি। নুন পানির কারনে জমি নষ্ট অইয়া গ্যাছে। ধান অয় না। বাইশ্যা কালে খালি আমন ধান লাগাই। হেই ধান ফলনে কম অয়। ক্ষ্যাতে যে ধান অয় হেই ধান দিয় বছরের ৬ মাস খোরাক রাহি বাকি ৬ মাস কিন্যা খাই। হুগনা সময় জমি সাদা অইয়া যায়। কোন কিছু লাগাইলে অয় না। সরকারের মোগো লইগ্যা একটা কিছু করা দরকার।’
নলবুনিয়া গ্রামের লতিফ আকন বলেন, বাইশ্যা গ্যালেই জমিতে নুন উইঠ্যা যায়। আর কোন ফসল লাগাইতে পারি না।
শারিখখালী গ্রামের আবু বক্কর বলেন, বাইশ্যা কালে ধান লাগাই যে ধান অয় হ্যা দিয়া সারা বছর খাওয়া যায় না। নুনে মোগো সব শ্যাষ কইর‌্যা দেছে।

কর্মসংস্থান নেই মানুষ ছুটছে শহরে:
অঞ্চলটি কৃষি নির্ভর হলেও এখানকার পরিস্থিতি ভিন্ন রকমের। হাজার হাজার একর কৃষি জমি থাকলেও লবনাক্ততার কারণে বছরের ৬মাস জমি অলস পরে থাকায় কৃষি পেশায় নেই কোন কর্মসংস্থান। অধিকাংশ জমি এক ফসলি হওয়ায় ৬ মাস কাজ করার পর দিনমজুরদের বেকার কাটাতে হয়। তাই নিরুপায় হয়ে কৃষি শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে কর্মসংস্থানের জন্য ছুটছেন ঢাকা বরিশাল কিংবা অন্যপ্রান্তে। সোনাকাটা ইউনিয়নের কৃষিশ্রমিক এয়াকুব, জাকির আকন, মরানিন্দ্যা গ্রামের বেল্লাল মোল্লা, মালেক হাওলাদার, নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের কবির মোল্লা, সোহেল হাওলাদার কবিরাজপাড়া গ্রামের মিলন হাওলাদার, শারিকখালী ইউনিয়নের আলমগীর দফাদার, পচাকোরালিয়া ইউনিয়নের শাহজাহান, ওয়ারেছ আকন, নাসির প্যদা এরা সবাই কৃষি শ্রমিক। কিন্ত এলাকায় পানি সংকটে শুকনো মৌসুমে চাষাবাদ না থাকায় শহরে গিয়ে ৬মাসের জন্য বিকল্প কাজ করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান প্রতিদিন আয় না করলে সংসার চলে না। কৃষি কাজে এখানে বছরে ৬মাস কাজ থাকে। বাকী ৬ মাস অলস কাটাতে হয়। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকার ইট ভাটার কাজ করি। বর্ষা মৌসুমে আবার কৃষি কাজের জন্য বাড়ি চলে আসি।
নিন্দ্রা গ্রামের জামাল মোল্লা বলেন, আমাদের পেশা কৃষি কাজ করা। এখানে আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কাজ থাকে বাকি সময় কাজ থাকে না তাই নিরুপায় হয়ে ঢাকা শহরে গিয়ে রাজ মিস্ত্রির কাজ করি। এভাবে আলমগীর দফাদার কিংবা জামাল মোল্লার মত হাজারো কৃষি শ্রমিক কাজের সন্ধানে অন্যত্র পারি জমাচ্ছে।
সমাধানের উপায়:
তালতলী উপজেলায় রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় খাল। ভরাট হয়ে যাওয়া খালের মধ্যে রয়েছে হরিনবাড়িয়া, সুন্দরীয়া, চাউলাপাড়া, তাফালবাড়িয়া, বেহালা, মেলা, হলদিবাড়িয়া, বগীর, বাদুর গাছা, ঝাড়াখালী, হাতনল, কচুপাত্রা, চাকামইয়া, সাপমারা ও পঁচাাকোড়ালিয়া খাল উল্লেখযোগ্য। কালের বিবর্তনে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে এসকল খাল বিলে পানি থাকে না। পানি না থাকায় জমিতে জেগে ওঠে লবনাক্ততা। তখন জমি হয়ে ওঠে চাষের অনুপযোগী।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো সংস্কার করে বর্ষাকালীন বৃষ্টির পানি এবং মিঠাপানি সংরক্ষনের মাধ্যমে ইরি বোরোসহ রবি ফসল চাষ করতে পারলে ১২ মাস এখানে ফসল ফলানো সম্ভব। চাউলাপাড়া গ্রামের আইয়ূব আলী নামে এক কৃষক জানান, বেসরকারী সংস্থা এনএসএস এর উদ্যোগে চাউলপাড়া চাউলা খালের ভরাট হয়ে যাওয়া একটি শাখা খাল সংস্কার করে সেখানে মিঠা পানি সংরক্ষণ করে স্থানীয় কৃষকরা ইরি বোরো রবিসহ নানা ফসল ১২ মাস উৎপাদন করে অনেক লাভবান হচ্ছে।
এবিষয়ে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া, সোনাকাটা ও নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের হাড়িপাড়া, হুলাটানা, মনসাতলী,বাস বাড়িয়া, লালুপাড়া, মরা নিন্দ্রা,নিদ্রার চর,খোট্টার চর, তেতুল বাড়িয়া, তাতিপাড়া, কড়ই বাড়িয়া, কচুপাত্রা, শারিখখালী, বড়বগী, ফকির হাট, লালুপাড়া, বড় আমখোলা, কবিরাজপাড়া, লাউপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার একর জমি খালি পড়ে আছে। মাঠের যে দিকে চোখ যায় শুধু ফাকা জমি। অধিকাংশ মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, রৌদ্রের তাপে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে তার উপরে আবার লবনের সাদা প্রলেপ জমে আছে। দক্ষিণ গাববাড়িয়া গ্রামের গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী হাওলাদার ও চন্দনতলা গ্রামের কৃষক নাসির প্যাদা বলেন, জমি আছে পানি নাই। শুকাইয়া জমিতে লবন উইঠ্যা গ্যাছে। এখন আর ফসল ফলআইতে পারি না।
নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, তালতলী উপজেলায় লবন পানির প্রভাবে অধিকাংশ জমি পতিত থাকে। এখানে শুকনো মৌসুমে লবনের প্রভাবে আউষ, ইরি ও বোরা চাষ করা যায় না। এজন্য ভরাট হয়ে যাওয়া সকল খাল পুন: খনন করে মিঠা পানি সংরক্ষন করে জমি ১২ মাস চাষ উপযোগী করা গেলে কৃষকরা লাভবান হবে। তখন আর কোন কৃষি জমি অলস পরে থাকবে না।
পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জমি আছে অনেক। লবনের কারণে তালতলী উপজেলায় তেমন একটা ফসল হয় না। ১২ মাস ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন মিঠা পানি। আমার ইউনিয়নে ১৪টি গ্রামের ১২টি গ্রামে এই শুকনো মৌসুমে কোন ফসল হয় না। ৩০টি খালের মধ্যে সব ভরাট হয়ে ২-৩টি সচল আছে। খাল পুন:খনন কওে মিঠা পানি সংরক্ষনের মাধ্যমে ১২ মাস পসল ফরানো যায়। এজন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
মাটিতে লবন নিয়ে গবেষনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব গ্রিফিত অস্টেলিয়ার গবেষক ডক্টর মৃনম্ময় নিয়োগি জানান, ২০১৭ সাল থেকে উপকূলীয় তালতলী উপজেলার লবনাক্ত জমিতে রিলে পদ্ধতিতে গম চাষ নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, তালতলীতে জানুয়ারি থেকে লবনাক্ততার পরিমান বাড়তে থাকে ওই সময় লবনের পরিমান থাকে ৭-৮ ডেসি সিমেন পার মিটার। মার্চ থেকে তা বেড়ে দাড়ায় ৮-১৬ পর্যন্ত। যখন ৮-১৬ মাত্রায় লবনের পরিমান বেড়ে যায় তখন ওই জমির আদ্রতা কমে যাওয়ায় মাটির উপরিভাগে সাদা সরের মত লবন জমে জমি ফেটে যায় ফলে তখন আর কোন ফসল উদপাদন সম্ভব হয় না। তিনি আরো বলেন, লবনের হাত থেকে রক্ষার জন্য মজে যাওয়া খাল পুন:খনন করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের মাধ্যমে সারা বছর ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস জানান, শুকনো মৌসুমে তালতলী উপজেলার অধিকাংশ জমি পতিত থাকে এর মুল কারন হচ্ছে পানি সংকট। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি না থাকায় এ মৌসুমে লবনাক্ততার পরিমান খুব বেশী থাকে। জমিতে লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় এখানে বোরো এবং আউষ চাষ করা যায় না ফলে অধিকাংশ জমি বছরের ৬ মাস পরে থাকে। উপজেলার সকল জমি ব্যবহারের জন্য এই উপজেলায় ভরাট হয়ে যাওয়া খাল সংস্কার এবং মিঠা পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সকল জমি চাষের আওতায় আনা যেতে পারে। এজন্য প্রয়োজন সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগে খাল খনন। এটা সফল হলে তালতলী উপজেলা হবে এই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে কৃষির একটি সফল যোন।

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সিএম রেজাউল করিম বলেন, সাগর পাড়ের তালতলী উপজেলার অধিকাংশ নদ-নদী এবং মাটিতে লবনাক্ততার প্রভাব বাড়ছে যার প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদনের উপর। এছাড়া খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় শেচ সুবিধা না থাকায় কৃষকরা শুকনো মৌসুমে কোন ফসল চাষ করতে পারছে না। এজন্য প্রয়োজন ভরাট হয়ে যাওয়া খাল পুন:খনন করে পানির আধার তৈরী করা।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক কার্যালয় পটুয়াখালীর ঊর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিক এলাহি বলেন, তালতলীর অধিকাংশ খাল বিল এবং  পায়রা নদীর মোহনায় মার্চ থেকে অধিকতর মাত্রায় ক্ষতিকর লবনাক্ততার উপস্থিতি রয়েছে। এবং মাটিতে ১২-১৬ ডিএস পার মিটার (ডেসি সিমেন পার মিটার) লবনাক্ততা রয়েছে। কোন কোনো স্থানে এর উপরেও লবনের মাত্রা রয়েছে। এ অবস্থায় ফসল উৎপাদন একবারেই সম্ভব না।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা বলেন, তালতলী উপজেলার পানি প্রবাহের অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থা হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়া খাল পানি উন্নয় বোর্ড এবং বিএডিসির মাধ্যমে পুন:খনন করে মিঠা পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি এটি সফল হলে তালতলী উপজেলা ১২ মাস ফসল ফলানো নিশ্চিত করা যাবে। এছাড়া স্যালো মেশিন বসানোর বিষয়টিও পরীক্ষা করে দেখা হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ০:০৮:৫৫   ২০০ বার পঠিত  |