![]()
কুড়িগ্রাম: রাজারহাটের শরফ উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদরাসার আইসিটি শিক্ষক কর্তৃক একই মাদরাসার দাখিল পরিক্ষার্থী শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের চেষ্টা ও জোড় পূর্বক ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিচার দাবিতে মানব বন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছে সম্মিলিত ছাত্র-জনতা । বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরের রাস্তায় মানব বন্ধন শেষে ইউএনও’র মাধ্যমে মাদরাসা অধিপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
অভিযোগ জানা গেছে,গত ২১মে উক্ত আইসিটি বিষয়ক শিক্ষক মাইদুল ইসলাম লিটন একই প্রতিষ্ঠানের দাখিল পরীক্ষার্থী এক শিক্ষার্থীকে নিজ কোচিং সেন্টারে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয় জনগন মাইদুলকে আটক করেন। পরে মাইদুলের লোকজন বিষয়টি আপোস মিমাংসার কথা বলে মাইদুলকে সরিয়ে দেয়। এঘটনায় ২৩মে ভোর রাতে উক্ত ছাত্রী ও তার পরিবারের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪০০টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় মাইদুল ও তার ভাড়াটে লোকজন। এনিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা রিপোর্ট প্রকাশ করায় তাদেরকে হুমকি ও অশ্লিল গালিগালাজ করে উক্ত শিক্ষক নিজ আইডি থেকে ফেসবুকে পোস্ট দেন। এছাড়া নোংরা ভাষা ব্যবহার করে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন মাইদুল।
বিষয়টি সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শনিবার (২৪মে) রাতে ভূক্তভোগীর পিতা রাজারহাট থানায় ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ ও জোড় পূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ দাখিল করলে ঘটনাস্থল (কোচিং সেন্টারের অবস্থান) উলিপুর থানায় হওয়ায় রাজারহাট থানার ওসি এবিষয়ে উলিপুর থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ প্রদান করেন। তবে অভিযোগ নিয়ে বাড়ি ফেরার পর অজ্ঞাত কারনে উলিপুর থানায় মামলা করেননি ভূক্তভোগী পরিবার।
এমনকি এবিষয়ে ভুক্তভোগী,অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিষ্কার স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে এপর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ । এরেই প্রেক্ষিতে বুধবার সম্মিলিত ছাত্র-জনতার ব্যানারে এক ঘন্টা ব্যাপী মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভা শেষে লম্পট শিক্ষকের বিচার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
এরই প্রতিবাদে মানব বন্ধন শেষে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন,খন্দকার আরিফ,রওশন আহমেদ,হাসান আরিফ সহ অনেকে।
ভূক্তিভোগী শিক্ষার্থী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তার বাবা বলেন,আমি উলিপুর থানায় মামলা করবো।
এঘটনায় শিক্ষক মাইদুল ইসলামের মুঠো ফোনে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এরআগে ওই শিক্ষক উক্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেছিলেন। এতে আপোস রফার ১০০টাকার ৪টি স্ট্যাম্পের ছবিও দেয়া ছিল।
শরফ উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদরাসা সুপার মাওঃ মোঃ নুরুজ্জামান সরকারের মুঠো বন্ধ থাকায় তাকেও পাওয়া যায়নি।
উক্ত মাদরাসার আহবায়ক কমিটির আহবায়ক আক্তারুজ্জামান সুজন বলেন,রবিবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে,এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল ইমরান বলেন,আমার মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারক লিপি দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা পেলে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:১০:৫৬ ২৯৩ বার পঠিত | ● চেষ্টা ● দাবী ● ধর্ষণ ● বিচার ● রাজারহাট ● শিক্ষার্থী