ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
প্রচ্ছদ » রংপুর » ময়লা আবর্জনা ও কাঁদা পানিতে নাকাল পৌরবাসি

ময়লা আবর্জনা ও কাঁদা পানিতে নাকাল পৌরবাসি


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ মে ২০২৫


ময়লা আবর্জনা ও কাঁদা পানিতে নাকাল পৌরবাসি

কুড়িগ্রাম: ময়লা আর্বজনা ও কাদা পানিতে একাকার নাকাল উলিপুর পৌরবাসি । একটু বৃষ্টি হলেই কাঁদা পানির শহরে পরিনত হয়। ফলে মানুষজন চলাচলে চরম ভোগান্তি পড়েছে। অপরিকল্লিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ড্রেন গুলো পরিস্কার না করায় পুরিয়ে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ। সড়কে ময়লার ভাগাড় বৃষ্টির হলেই ময়লা আর পানিতে সয়লাব হয়ে যায় সড়ক গুলো। দেখলে মনে হবে সড়ক তো নয় যেন ড্রেন।

একেতো খানাকন্দে ভরা সড়ক তার উপর ব্যাটারি চালিত রিক্সা,ভ্যান ও অবৈধ ভটভটির যত্রতত্র পাকিং এর কারনে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। একমাত্র ফুটপাতটিও নির্মানের পর থেকে সংস্কার না করা ও ব্যবসায়ীরা দখল করায় চলাচলে বিপদ জনক হয়ে পড়েছে। এছাড়া সড়ক ও নুতন ড্রেন নির্মান কাজের ধীরগতি, নানা অনিয়ম দুনীতি ও কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাবে এক বছরের কাজ তিন বছরের শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান গুলো। ফলে জনভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে উলিপুর পৌরসভা স্থাপিত হয়। ২০২৪ সালে পৌরসভাটি প্রমথ শ্রেনীতে উন্নিত হয়। পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। আয়তনে ও অনেক বড়।
খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, বড় মসজিদ মোড় থেকে উলিপুর রেলগেট, উলিপুর রেলগেট থেকে আজমের মোড়, নাজমা বেগমের বাসার সামন থেকে বুড়িতিস্তা পর্যন্ত, উলিপুর বালিকা বিদ্যালয় মোড় থেকে জোদ্দার পাড়া মন্দির হয়ে উত্তর পাড়া মসজিদ,বকুলতলা বাজার থেকে বটেরতল, মাতৃমঙ্গল থেকে উপজেলা চত্বর রাস্তা গুলো নির্মান কাজে ধীরগতির কারনে জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। উলিপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিউটি বেগম বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই বিএনপি অফিস থেকে উপজেলা ভুমি অফিস পর্যন্ত রাস্তাটি হাটু পানিতে ডুবে যায়। ফলে জামা কাপড় ভিজে স্কুলে যেতে হয়। উলিপুর বনিক সমিতির সহসভাপতি ইকবাল হোসেন চাঁদ বলেন, কাঁচারী পাড়ার তার বাসার যাওয়ার রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে ২ বছর আগে এখন পর্যন্ত ৫০ ভাগ কাজও শেষ করতে পারেনি।

ড্রেনের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে রাস্তাটি এক রকম বন্ধ। ফলে যাহন তো দুরের কথা হায়ে হেটেও চলাচল করা যায় না। এর জন্য তিনি পৌরসভার উদানীনতা ও ঠিকাদারের গাফিলতিকে দায়ী করেন। কাঁচা মাল ব্যবসায়ী সুনীল চন্দ্র ও আমজাদ হোসেন বলেন,বৃষ্টি হলেই ময়লা আবর্জনা ও পচা পানি রাস্তায় জমে থাকে দুগন্ধে টেকা যায় না। তাদের ভাষ্য, এ কেমন প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা। সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন)র উলিপুর শাখার সভাপতিও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.গোলাম মোস্তফা বলেন,পৌরসভাটি প্রথম শ্রেনীতে উন্নিত হেেয়ছে বেড়েছে কর ও ট্রাক । কিন্তু সেবার মান বৃদ্ধির পরিবর্ত্তে কমেছে বলে তার অভিযোগ। পৌরসভার অযোগ্যতা,পরিকল্পনার অভার ও উদাসীনতাকে দায়ী করেন তিনি।
পথচারী ও হাটুরেদের অভিযোগ,রাস্তা ও বাজার গুলোতে জমে থাকা কাঁদা ও পচা পানি পাড়িয়ে বাজার করতে যেতে হয়। বাসায় ফিরে গোষল করতে হয়। এ অবস্থা আমাদের প্রথম শ্রেনীর পৌরনভার।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও (ভারঃ)সচিব মো.মাহবুবুল আলম বলেন,ময়লা ফেলার জায়গা ছিল না বলে ওই রাস্তায় ময়লা গুলো রাখা হয়েছিল। ঠিকাদারদের কাজের ধীরগতি গাফিলতির কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা ফেলার জায়গা ও রাস্তা নির্মান শেষ হয়েছে। আশা করছি আর এ সমস্যা থাকবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নয়ন কুমার সাহা বলেন,ময়লা ডাম্পিংর জায়গা ও রাস্তা নির্মান হয়েছে। পচা ময়লা সরানো হচ্ছে। তাছাড়া ফুটপাতটিও দ্রুত সংস্কার করা হবে। খুব তাড়াতাড়ি সমস্যা গুলো সমাধান হব্ েবলে তিনি জানান।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৯:৩৪   ২৪৪ বার পঠিত  |