ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
প্রচ্ছদ » ঢাকা » বিএডিসি অফিসের নতুন ভবন নির্মানের পর থেকেই তালাবদ্ধ, ভোগান্তিতে সেবা প্রত্যাশীরা

বিএডিসি অফিসের নতুন ভবন নির্মানের পর থেকেই তালাবদ্ধ, ভোগান্তিতে সেবা প্রত্যাশীরা


মু.মিজানুর রহমান বাদল,( মানিকগঞ্জ )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫


বিএডিসি অফিসের নতুন ভবন নির্মানের পর থেকেই তালাবদ্ধ, ভোগান্তিতে সেবা প্রত্যাশীরা


মানিকগঞ্জ:
দূর থেকে দেখলে মনে হয় ডুপ্লেক্স বাড়ি কিংবা আবাসিক কোন ভবন মনে হলেও এটি একটি সরকারি অফিস। প্রধান ফটক থেকে ভবন পর্যন্ত অরন্য বন মনে হবে। পুরো ভবনের সামনে আগাছা ও জঙ্গলে ভরপুর। নির্মাণের পর একদিনও খোলা হয়নি। কিন্ত এ অফিস সব সময় থাকে তালাবদ্ধ। ওই অফিসের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা মিলেনি গত ২ বছরে। জঙ্গলে ভরেগেছে সদর দরজাসহ পুরো চত্ত্বর। দেখভাল করার জন্য কেউ না থাকায় সরকারি অফিসটি এখন ভূতুরে বাড়িতে পরিনত হয়েছে।

এ অফিসে লোকজন না থাকার ফলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) উপ-সহকারি প্রকৌশলী সিংগাইর (ক্ষুদ্র সেচ) ইউনিটের গ্রাহকরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা। পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের শতকরা ৮০ জন মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আর সেই কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসিনতা কারনে কৃষকেরা প্রতিনিয়ত পড়ছেন ভোগান্তিতে। এ যেন দেখার কেউ নেই।
ভুক্তভোগী উপজেলার কাংশা গ্রামের মো.বাবুল হোসেন বলেন,আমি ধান চাষের প্রজেক্টের জন্য বিদ্যুতের সংযোগ নিবো। এ জন্য বিএডিসি অফিসের ছাড় পত্র লাগবে। তার জন্য ৩ মাস যাবৎ ঘুরতে ঘুরতে শেষ। অফিসে কেউ আসে না। ফোন দিলেও গুরুত্ব দিচ্ছে না।
অপর এক সেবা প্রত্যাশী মো.আশরাফ উদ্দিন জানান,আঙ্গারিয়া মহল্লার সমবায় সমিতির আওতায় গভীর নলকূপের ড্রেন সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন করি। সেটি বিএডিসি অফিসে তদন্ত দিলে তারা কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। এ অফিসে বেশকিছু দিন ঘুরেও কাউকে না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
অফিস সংলগ্ন চা দোকানে কথা হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজন বলেন, অনেক কৃষক এই অফিসে কাজের জন্য আসে। তালাবদ্ধ থাকায় ঘুরে যায়। তিনি আরো বলেন, অফিসার বা কর্মচারী কেউ আসেন না। সব সময় তালা দেয়া থাকে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে অফিসের মুল ফটকে তালা ঝুলানো দেখা যায়। অফিসের আশে পাশের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, বেশকিছু দিন যাবৎ অফিসে তালা ঝুলানো থাকায় ভিতরে জঙ্গঁলে পরিপূর্ন হয়ে গেছে। অফিসের কোন কার্যক্রম দেখছেন না বলেও জানান তারা।
জানাগেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি) কৃষি মন্ত্রনালয় সিংগাইর উপজেলায় উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের জন্য একটি অত্যাধুনিক দু’তলা ভবন নির্মাণ করে কর্তৃপক্ষ। ভবন নির্মাণের পর থেকেই অফিসে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কেউ আসেনি। কেউ নিয়োজিত থাকলেও পরবর্তীতে তাদের দেখা মিলছে না। এতে অফিসের প্রবেশদ্বার জঙ্গলে পরিনত হয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রতন কুমার সরকার বলেন,সিংগাইর,মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া ৩টি উপজেলা আমার দায়িত্ব। সিংগাইর অফিসে জনবল সংকট। তারপরও সপ্তাহ ২-৩ দিন অফিসে আসেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, এদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে ভালো জানা যাবে। অতিরিক্ত দায়িত্বে যিনি আছেন ৩ মাস অন্তর অন্তর সেচ বিষয়ক সভা করেন। আমার জানামতে তারা অফিসে আসেন বলেও জানান তিনি।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:১৬:৫০   ৭২ বার পঠিত  |