ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে পড়েছে খালে ,যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে পড়েছে খালে ,যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন


কাউখালী ( পিরোজপুর ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫


বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে পড়েছে খালে ,যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পিরোজপুর: কাউখালীতে বাঁশের সাঁকো খালে ভেঙ্গে পড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে পাংগাশিয়া খালের উপর ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে যাওয়ায় অত্র এলাকার জনসাধারণ, ছাত্র-ছাত্রী সহ সকল শ্রেণী প্রেশার মানুষের পারাপারে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ফলইবুনিয়া গ্রামের কাছারি বাড়ির খালের মোহনায় পাংগাশিয়া খালের উপর নির্মিত বাশঁ ও সুপারি গাছের ঝুঁকিপূর্ণ সাকোঁ দুই পাশের অংশ খালের ভিতরে পড়ে গেছে। ফলে অত্র এলাকার জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে ।
এই সাকোঁটি অত্র এলাকায় অতি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল । কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কারের না হওয়ায় সাঁকটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। যাহা সম্প্রীতি নিম্নচাপ শক্তির প্রভাবে অতিরিক্ত পানির চাপে সাঁকোটির মাঝের অংশ ভেঙ্গে পানিতে ভেসে যায়। বিকল্প পথ না থাকায় মানুষ পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত। বর্তমানে নৌকার মাধ্যমে এলাকার জনসাধারণ পারাপার হচ্ছে।
কাউখালীর- বেকুটিয়া নতুন বাজার হইতে ফলইবুনিয়া,জোলাগাতী, তালুকদার হাট, হাওলাদার হাট সহ জোলাগাতী ফাজিল মাদ্রাসা, জোলাগাতি ,হাই স্কুল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে খালের দক্ষিণ পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই সাকোঁ না থাকায় চরম দূর্ভোগে পডেছে।
এই এলাকার অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীদের সাঁকো না থাকায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার জন্য যেতে হয়।
এছাড়া দক্ষিণ পাড়ে শিশুদের জন্য রয়েছে নূরানী মাদ্রাসা, হেফজখানা ও ছাত্রাবাস। খালের দক্ষিণ পাড়ের লোকজনকে কলেজ উপজেলা ও জেলা সদরে যেতে হলে এই সাঁকোটি তাদের একমাত্র ভরসা। কারণ বেকুটিয়া সেতু পশ্চিম পাড়ে পিরোজপুর জেলা শহর এবং পূর্ব পাড়ে কাউখালী উপজেলা পরিষদ কাউখালী থানা, কলেজ, হাসপাতাল অবস্থিত। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো অপসারণ করে ব্রীজের দাবিতে মানববন্ধন স্থানীয় এমপি উপজেলা চেয়ারম্যান সহ কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করলেও কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।গুরুত্বপূর্ণ এই সাঁকোটি কয়েক যুগ আগে নির্মিত হলেও সংস্কারের অভাবে জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে।
স্থানীয় ফলইবুনিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান বলেন পাংগাশিয়া খাল পারাপারের জন্য এই স্থান থেকে খালের পশ্চিম দিকে তিন কিলোমিটার দূরে পাংগাশিয়া বাজারের ব্রিজ এবং পূর্বদিকে দুই কিলোমিটার দূরে বেলতলা ব্রিজ ছাড়া পারাপারের জন্য বিকল্প কোন ব্রিজ না থাকায় এই সাকোই ছিল মানুষের শেষ ভরসা। যে কারণে স্থানীয়দের জরুরী প্রয়োজনে নিজেরা গ্রাম থেকে বাস, সুপারি গাছ সংগ্রহ করে ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে দীর্ঘ বছর সাঁকোটি বাঁচিয়ে রেখেছিল।
স্থানীয় মাদ্রাসা ও মসজিদ এর পরিচালক মাওলানা মোঃ মানিক বলেন বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ধরণা দিয়েও স্থায়ীভাবে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি।

উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন জানান, নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য কোন পরিকল্পনা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের জানা নাই । তবে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে অর্থ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী সিদ্দিকুর রহমান জানান, এই সাঁকোটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা সমন্বয় মিটিং সহ বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও স্থায়ীভাবে কোন ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। মঙ্গলবার (১৭ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল মোল্লা অত্র এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বলেন সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সাঁকোটি মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৫৫:২০   ১০৫ বার পঠিত  |