![]()
কুমিল্লা: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা যা চিন্তা করে, তা মুখে বলে না; আর যা বলে, তা করে না। এটাই নাকি ‘রাজনীতি’। প্রতারণাকে তাঁরা কৌশল হিসেবে চালিয়ে দেন। কিন্তু এনসিপি নিশ্চিত করতে চায়—আমরা যা চিন্তা করব, তাই বলব, আর যা বলব, তা-ই বাস্তবায়ন করব।”
শনিবার (২৮ জুন) বিকালে দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়ন কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টির এক পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির প্রকৌশলী মোহাম্মদ নোমান সরকার।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “গত বছর জুলাই-আগস্টের পূর্বে মাহফিলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হতো, হুজুরদের দাড়ি ধরে টেনে মাহফিল থেকে বের করে দেওয়া হতো, মাইক বন্ধ করে দেওয়া হতো। তখন দেখা যেত, একশো-দেড়শো কোটি টাকা দিয়ে একজন এমপি হতো। অথচ যারা রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে, তারা এমপি হতে চায়নি, ক্ষমতা চায়নি—তারা চেয়েছিল দেশের সংস্কার। তারা চেয়েছিল আর কখনো আলেম-ওলামাদের অপমানিত হতে না হয়, বাকস্বাধীনতা বজায় থাকুক, জনগণ প্রশ্ন করতে পারুক।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতা ও দায়িত্ব হচ্ছে আমানত। আপনাদের কাছে একদিনের (ভোটের) জন্য ক্ষমতা থাকে। যদি ওই একদিন আপনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে পরবর্তী পাঁচ বছর যদি সেই নেতা আপনাদের ওপর নির্যাতন করে, তখন বলার ভাষা থাকবে না। তাই একদিনের ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার করুন। শহীদদের রক্তের দায়ভারে আমাদের অনেক কাজ রয়েছে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা এখনও জুলাই আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারিনি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার হয়নি, মিডিয়া এখনও ‘হাসিনা মিডিয়া’ হয়ে আছে, ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো গা ঢাকা দিয়ে আছে। আওয়ামী লীগের লেফটওভারদের কেউ এখনো ক্ষমা চায়নি। যতক্ষণ না কেউ ক্ষমা চাইবে, তাদের সঙ্গে কোনো রিকনসিলিয়েশনের প্রশ্নই আসে না।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা নাগরিক পার্টির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক জামাল মোহাম্মদ কবীর, জাতীয় যুবশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদ, উপজেলা নাগরিক পার্টির প্রতিনিধি শামীম কাওসার প্রমুখ।
সভা পরিচালনা করেন মাহমুদুল হাসান ও মাজহারুল ইসলাম।
আর/ এন
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৬:১৬ ১৫৯ বার পঠিত | ● এনসিপি ● দেবিদ্বার ● হাসনাত আবদুল্লাহ