ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » চরফ্যাসনে সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে বৃদ্ধ মাকে মারধর করলো স্কুল শিক্ষক ছেলে

চরফ্যাসনে সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে বৃদ্ধ মাকে মারধর করলো স্কুল শিক্ষক ছেলে


বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫


চরফ্যাসনে সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে বৃদ্ধ মাকে মারধর করলো স্কুল শিক্ষক ছেলে

ভোলা: চরফ্যাসনে সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে বৃদ্ধমাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্কুল শিক্ষক ছেলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুলারহাট থানার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন মুজিবনগরের ১নং ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে । ছেলের মারধরে গুরুতর আহত বৃদ্ধ মাকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বজনরা উদ্ধার করে দুপুরে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক ছেলে মাকসুদুর রহমান শশীভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছেন ও আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের হারুন মোল্লার ছেলে। মাকে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আহত বৃদ্ধ মা বিবি ফাতেমা বেগম জানিয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ মা ফাতেমা জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী এক সময় চরফ্যাসন থানার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মাকসুদ বড়। বড় ছেলে হিসেবে তার বাবা হারুন মোল্লা ছেলেকে লেখা পড়া শিখিয়ে শশীভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি নিয়ে দেন।

তার স্বামীর মৃত্যু পর বেপরোয়া হয়ে উঠেন স্কুল শিক্ষক ছেলে মাকসুদুর রহমান। বাবার সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে একাধিকবার বাবাকে মারধর করেন। স্বামী হারুন মোল্লাকে মারধরের মাকসুদকে ভিটে বাড়ি লিখে নিয়ে বাবা-মা দু’জনকেই মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তারা মুজিবনগর ইউনিয়নের গিয়ে ছোট ছেলে সফিকের কাছে বসবাস শুরু করেন। এতেই থেকে যাননি স্কুল শিক্ষক মাকসুদুর রহমান।

বাকী জমি হাতিয়ে নিতে ফের তাকেসহ তার স্বামীকে কয়েক দফায় মারধর করেন। এবং কৌশলে ছোট ভাইদের বঞ্চিত করে তিনি আরো কিছু জমি হাতিয়ে নেন। পরে গত ৬ মাস আগে তার স্বামী হারুন মোল্লা মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার পর পরই তার ছোট ভাই সফিকসহ অপর ভাই এবং তার স্বামীর মজিবনগর ইউনিয়নের তাদের ওয়ারিশি জমি হাতিয়ে নিতে ছোট ভাইদেরকে মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে জমি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এনিয়ে ছোট ভাইদের সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয়। শুক্রবার ছেলে মাকসুদ আমার স্বামীর ওয়ারিশি জমি তাকে লিখে দেয়ার জন্য চাপ দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় আমাকে এলোপাতারী মারধর করে গুরুতর আহত করেন। আমার অপর ছেলে সফিক প্রতিবাদ জানালে স্কুল শিক্ষক মাকসুদ বহিরাগত লোকজন নিয়ে ভাইদেরকেও মারধর করেন।

বৃদ্ধ মা ফাতেমা আরোও জানান, ছেলে মাকসুদের অত্যাচার সইতে না পেরে বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মুজিবনগরে গিয়ে কৃষক ছেলের কাছে আশ্রয় নিয়েছি। সেখানে মেলেনি কোন শান্তি জমি লিখে নিতে মুজিবনগর গিয়েও সে আমাকে ও আমার স্বামীকে কয়েক দফায় মারধর করেছেন।

স্থানীয় মাতাব্বরদের কাছে প্রতিকার চেয়েও কোন সুফল হয়নি। ছেলের অপমান ও মারধরের শিকার হয়ে তার বাবা হারুন মোল্লা অসুস্থ্য হয়ে মারা গিয়েছেন। আজ ছেলে মাকসুদকে নিজের ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতে খুব কষ্ট হয়।

মাকসুদের ছোট ভাই সফিক ও ছিদ্দিক বলেন, তার ভাই মাকসুদকে তার বাবা শিক্ষিত করেছেন। ওই সময় তারা জমিতে কৃষি কাজ করেছেন। ভাই লেখা-পড়া শেষে শশীভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকরী নেন। তার পর থেকে বাবার সম্পত্তি নিজের নামে করার জন্য বাবা-মাকে বিভিন্ন সময়ে মারধর করতেন। এমনকি স্কুল শিক্ষক ভাই মাকসুদুর রহমান তাদের সম্পত্তিও দখলে নেন। তাদেরকে মুল ভূখন্ডের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বাড়ী থেকে উৎখাত করে। পরে তারা আশ্রয় নেয় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মুজিবনগরে। শুক্রবার সকালে মুজিবনগরে গিয়ে তার মায়ের জমি ও তাদের বাবার ওয়ারিশি জমি দখলে নিতে গেলে মা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাই মাকসুদ মাসহ তাকে এলোপাতারী মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় মাকে উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেছি।

অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক ছেলে মাকসুদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, বাবার ওয়ারিশি জমি নিয়ে ভাইদের সঙ্গে তার বিরোধ চলমান আছে। ওই জমিতে আমি ধান রোপন করতে গেলে ভাইদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মায়ের সাথে তার কোন বিরোধ নাই। মাকে মারধরের বিষয়টি সঠিক নয়। মা ভাইদের পক্ষ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

দুলারহাট থানার ওসি আরিফ ইফতেখার জানান, এই বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:০৮:৩৭   ২২৮ বার পঠিত  |