ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
প্রচ্ছদ » ঢাকা » দোহারে বিএনপি নেতা হারুন মাষ্টারের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১

দোহারে বিএনপি নেতা হারুন মাষ্টারের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১


মাহবুবুর রহমান টিপু, ( দোহার )
প্রকাশ: শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫


দোহারে বিএনপি নেতা হারুন মাষ্টারের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১

ঢাকা: দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শিক্ষক হারুনুর রশিদ (হারুন মাষ্টার) হত্যার ঘটনায় এজাহার নামীয় আসামী মো.ফারুক মিয়া(৫৫)কে শনিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ। মো.ফারুক ধোয়াইর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
অপরদিকে আজ শনিবার বেলা ১১টায় হত্যার ঘটনার ৭২ ঘন্টা পর দোহার থানায় নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বিএনপির স্থানীয় কোন্দলকে স্পষ্ট করে প্রতিপক্ষের নেতাদের আসামী করা হয়েছে।

মামলার দায়িত্বে থাকা এস আই জোবায়ের আহম্মেদের সূত্রে  ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, দলীয় কোন্দলের কারণে এবং স্থানীয় বালু নিয়ন্ত্রন ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুউদ্দিন মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব নাসির উদ্দিনদের সাথে চরম বিরোধ চলে আসছিলো। সেই বিরোধের জের ধরে উপজেলা পর্যায়ে বিএনপি’র অপর গ্রুপটির সন্ত্রাসী কয়েক নেতার পরিকল্পনায় পরিকল্পিতভাবে বুধবার সকালে ফজরের নামাজ পড়ে ধোয়াইর পদ্মা নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে সড়কে হাঁটতে বের হলে মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলিবর্ষন শুরু করে। এ সময়ে হারুন মাষ্টারকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে আবারও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপায়। এরপর খুনিরা ধোয়াইর পদ্মা নদীর পাড় জাবেদ আলীর মোড় এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়।

হত্যার ঘটনার কিছু দিন পূর্বে সামসুউদ্দিন গ্রুপের সাথে হারুন মাষ্টারের লোকজনের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী আব্দুল মান্নান।

মামলার এজাহারে সামসুউদ্দিন মেম্বারকে প্রধান করে আরও ৭ জনকে এজাহার নামীয় এবং ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.হাসান আলী জানান, এজাহার নামীয় আসামী ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও অপর আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আব্দুল মান্নান বলেন, আমার ভাই নীতি ও আদশবার্ন একজন মানুষ ছিলেন। আগামী ইউপি নির্বাচনে নয়াবাড়ি ইউনিয়ন থেকে আমার ভাইয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দাড়াবার কথা ছিলো দলের পক্ষ থেকে। এছাড়াও এ অঞ্চলে রাতের আধাঁরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে তার ভুমিকা ছিলো অন্যতম।ফলে এসকল অন্যায় কাজকে প্রশয় না দেওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী বালু ও জমি ব্যবসায়ীদের প্রশয় না দেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা হউক। এ সময়ে তিনি প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

নিহত হারুনের স্ত্রী নাহিদা পারভিন বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, আমার স্বামী হারুনুর রশিদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায়,আমার স্বামীর জীবন কাল হয়ে দাড়িয়েঁছে।বিদ্যালয়ে আর মাত্র ১৭ দিন বাকি রয়েছে অবসরে যাওয়ার। আমি এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি এবং যুবদল পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হুশিঁয়ারী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দোহার সার্কেলের জেষ্ঠ্য সহকারি পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম, হারুন মাষ্টারকে হত্যার ঘটনায় সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া তিন দূর্বৃত্তের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির সহায়তার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খোজাঁ হচ্ছে। খুব শীঘ্রই ভালো খবর জানতে পারবেন। ইনশাল্লাহ ।

আফ/আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:১০:৫১   ৩৫৭ বার পঠিত  |