ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
প্রচ্ছদ » খুলনা » চাঁদখালীতে বাঁশের সাঁকোই ২ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা

চাঁদখালীতে বাঁশের সাঁকোই ২ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা


আশরাফুল ইসলাম সবুজ,পাইকগাছা (খুলনা)
প্রকাশ: রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫


চাঁদখালীতে বাঁশের সাঁকোই ২ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা

খুলনা: দীর্ঘদিন যাবৎ পারাপারে নেই সেতু, তাই বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা নদী পাড়ের মানুষের। অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হয় এই সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচলকারী এলাকাবাসীর। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গড়ের আবাদ সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সামনে নৈর নদীর ওপর রয়েছে নড়বড়ে এই সাঁকো। সংষ্কারের অভাবে সাঁকোটি এখন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে ।প্রতিদিন উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ মানুষ চলাচল করেন এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে।
এতে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও রোগীরা। দীর্ঘদিনেও সেতু তৈরি না হওয়ায় কিংবা কোনো সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে নির্বাচন শেষে কোনো খোঁজ রাখেননি। তাছাড়া প্রতিনিয়তই এই সাঁকোতে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া, কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য প্রচুর চাষ হলেও সেগুলো সময়মতো যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায় পৌঁছানো যায় না। ফলে চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন ও হতাশ হচ্ছেন। সহজলভ্যভাবে তারা ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। আর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় এখানে প্রায় ২ হাজার মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে।তাই, দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
রবিবার(৭ জুলাই)সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের জেলা কিংবা উপজেলা সদরে যাতায়াতের সহজ পথ হলো পূর্ব গজালিয়া। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ বাঁশের সাঁকো পার হয়ে পূর্ব গজালিয়ার ডাবল ইটের পাকা রাস্তায় উঠেন। সাঁকোটি বর্তমানে প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায় রয়েছে, বিশেষ করে বর্ষাকালে এটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামের ৫ কিলোমিটার এলাকায় বসবাসকারী প্রায় দুই হাজার মানুষ সম্পূর্ণভাবে এই সাঁকোর উপর নির্ভরশীল। এখানে নেই কোনো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পূর্ব গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হলে বাধ্য হয়ে বিপজ্জনক সাঁকো পার হতে হয়। শুকনো মৌসুমে অনেকে বাদুড়িয়া ব্রিজ বা চৌমুহনি বাজার ঘুরে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যায়। এছাড়া স্থানীয় গাড়িচালকরা (মোটরভ্যান, নসিমন, করিমন) রাস্তার মাথায় কিংবা অন্যের বাড়িতে গাড়ি রেখে সাঁকো পার হয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন। এলাকার সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে গ্রামের মানুষ নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এরপর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জোয়াদুর রসুল বাবুর সময় সরকারি বরাদ্দে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আক্কাস ঢালী কিছু পাকা পিলার ও কাঠ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করেন। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সাঁকোটি আবার ভেঙে যায়। পরবর্তীতে পুনরায় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন পারাপারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম সরদার বলেন, গ্রামের মানুষ বারবার সাঁকো নির্মাণ করেছে। কিন্তু ২-৩ বছরের মধ্যে পানিতে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই এখানে একটি টেকসই সেতু খুবই প্রয়োজন।
ইউপি সদস্য নজরুল সরদার জানান, সাঁকোটি বর্তমানে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে অবিহিত করেছি।আর এখানে একটি টেকসই সাঁকো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান তিনি।

পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে একটি আবেদন করা হলে সেতুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে প্রেরণ করা হবে।

সর্বোপরি, অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে নৈর নদীর উপর স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণ করে হাজার হাজার মানুষের জীবন ও চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:২৬:১২   ১০৬ বার পঠিত  |