ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » বোরকা পড়ে ছদ্দবেশে সড়ক থেকে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন স্বামীর

বোরকা পড়ে ছদ্দবেশে সড়ক থেকে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন স্বামীর


বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫


বোরকা পড়ে ছদ্দবেশে সড়ক থেকে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন স্বামীর

ভোলা: চরফ্যাসনে স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বে জের ধরে বোরকা পড়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ফিল্মি স্টাইলে সড়ক থেকে স্ত্রীকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে অবরুদ্ধ করে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে।পরে স্বামী ফরাদ হোসেন নির্জন ঘরে স্ত্রীকে অবরুদ্ধ করে রেখে দিনভর তাকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন চালান।পড়ে ওই গৃহবধু সুযোগ পেয়ে বিকালে স্বামীর বন্দিশালা থেকে পালিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। ওই বাড়ির লোকজন নারীর পরিবারকে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে রাতে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধুর একটি আয়োবেদিক কম্পানিতে কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং গৃহবধু সুমাইয়া চরফ্যাসন পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবুল্লাহর মেয়ে। বুধবার দুপুরে চরফ্যাসন পৌরসদর থেকে তুলে নিয়ে দুলারহাট থানার আবুবকরপুর ইউনিয়নের ৫ স্বামীর নম্বর ওয়ার্ডে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে নির্যাতনের শিকার গৃহবধুর পরিবার সুত্রে জানাগেছে।
চরফ্যাসন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধু জানান, দেড় বছর আগে দুলারহাট থানার আবুবক্করপুর ইউনিয়নের মো. লিটন সিকদারের ছেলে ফারাদ হোসেনের সঙ্গে তার পরিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরই স্বামী ফরাদ নানা অজুহাতে তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। পরে স্বামী মাদকাসক্ত বিষটি তার প্রকাশ্যে আসে। এনিয়ে মাদকাসক্ত স্বামীর সঙ্গে তার দম্পত্য কলাহ শুরু হয়। বিয়ের ৮ মাস পর স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এবং একটি কম্পানিতে চাকুরী নেন।
বুধবার সকালে সুমাইয়া কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি বাহনের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। তার গতিবিধি লক্ষ করে পূর্ব থেকেই উৎপেতে থাকা স্বামী ফরাদ বোরকার পড়ে নারী বেশে সিএনজিতে বসে ছিলেন। এবং ফরহাদের অনুসারী চালক সিএনজি তার দিকে এগিয়ে আসেন। তিনি কিছু বুঝে না উঠার আগেই জিএনজি চালক আরও একজন যাত্রীকে নিয়ে আসতে হবে বলে তাকে মেইন সড়ক থেকে বাইপাস সড়কে নিয়ে যান। এর মধ্যেই যাত্রী বেশে সিএনজিতে থাকা গৃহবধুর স্বামী ফরাদ হোসেন তাকে মুখ চেপে ধরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আবুবক্করপুর ইউনিয়নের তার বাড়িতে নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, স্বামী তাকে তুলে নিয়ে একটি নির্জন ঘরে অবরুদ্ধ করে রেখে তার ওপর কয়েক দফায় শারিরিক ও মানুষিক নির্যাতন করেন। তার নির্যাতনে স্বামীকে বাবা ডেকেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।স্বামীর নির্যাতনে তিনি সঙ্গাহীন হয়ে পড়লে স্বামী ফরহাদ তাকে রেখে পাশের ঘরে যান। এসময় তিনি সুযোগ বুঝে পালিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে ওই বাড়ির সদস্যরা তার পরিবারকে খবর দিলে তার বাবাসহ অপর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাতে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সুমাইয়ার বাবা হাবিবুল্লাহ জানান, মেয়ের জামাতা ফরহাদ মাদকাসক্ত হওয়ায় বিয়ের ৮ মাসের মধ্যেই মেয়েকে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। জামাতা পূর্ব পরিকল্পতি অনুযায়ী মেয়েকে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করেন। এমন অমানুষিক ঘটনায় মেয়ের জামাতার বিচারের দাবী জানান তিনি।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তার বক্তব্য জানাযায়নি। তবে তার বাবা লিটন সিকদার এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দুলারহাট থানার ওসি আরিফ ইফতেখার জানান,ঘটনাটি শুনেছি, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৫:৫৩   ১৮০ বার পঠিত  |