ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » গভীর রাতে ছেলের স্মৃতি মনে করে কবরের কাছে ছুটে যায় মা

গভীর রাতে ছেলের স্মৃতি মনে করে কবরের কাছে ছুটে যায় মা


আজাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার (আগৈলঝাড়া)
প্রকাশ: রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫


গভীর রাতে ছেলের স্মৃতি মনে করে কবরের কাছে ছুটে যায় মা

বরিশাল:  জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকায় গুলিতে নিহত আগৈলঝাড়ার সাগর হাওলাদারের শোকে মা আম্বিয়া বেগম ছেলের স্মৃতি মনে করে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়লেও ঘুম ভেঙে গেলে গভীর রাতে, মা আম্বিয়া বেগম ছেলের ছবি নিয়ে ছুটে যায় কবরের কাছে। সারাদিন সাংসারিক কাজের ফাকে ছেলের স্মৃতি মনেকরে অনবরত এভাবেই কেঁদে কেঁদে একটি বছর পার করছেন তিনি।

পরিবারের লোকজন তাকে ঘড়ে খুজে না পেলেও ছেলের কবরের কাছে গিয়ে কাঁদতে দেখতে পায়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পিতা নুরুল হক হাওলাদারও মানসিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পরেছে। পিতা নুরুল হক ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিছুতেই তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরাতে পারছেনা পরিবার। কাজ কর্ম তেমন করেন না। সাগরের বাড়ীতে কেউ গেলে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্না করতে থাকেন। তাদের পরিবারে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার কোন আনন্দ ছিল না। ছিল শুধুই কান্না ।
সম্প্রতি সাগরের পিতা নুরুল হক স্ত্রী আম্বিয়া বেগমকে নিয়ে ঢাকায় ছেলের গুলিবৃদ্ধের ঘটনাস্থল ধানমন্ডি আবাহনী ক্লাবের কর্নারে পুলিশ বক্সের কাছে নিয়ে যান। এসময় স্থানীয়রা সাগরের পিতা মাতাকে জানান যে স্থানে সাগর গুলিবৃদ্ধ হয়েছিলেন সেখানে পিচঢালা পথ সাগরের রক্তের দাগ দুই সপ্তাহের মত ছিল। স্থানীয়দের একথা শুনে সাগরের পিতা মাতা দুজনেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে।
১২ জুলাই সরেজমিনে উপজেলার বাগধা গ্রামে সাগরের বাড়ীতে গেলে শহীদ সাগরের চাচা মইনুল হোসেন জানান, ২০২৪ সালের মে মাসে সাগর ঢাকায় গিয়েছিল, ওর স্বপ্ন্ ছিল বিদেশ গিয়ে বেশি টাকা আয় করে বাড়িতে পাকা ভবন তৈরি করবে, ওই ভবনে সবার জন্য আলাদা কক্ষ থাকবে ও বোনের লেখাপড়াসহ মায়ের জন্য কাজের লোক রেখে দেবে। সাগরের স্বপ্ন দূঃস্বপ্নে রুপ নিল। সরকার আমাদের সাগরকে এনে দিতে পারবে না, শুধু তারা সাহায্য সহযোগীতা করতে পারবে। যারা আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। সাগর নিহতের এক বছর হয়ে গেলেও আমাদের পরিবারের কারোরই কান্না থামছে না।
সাগরের একমাত্র ছোট বোন ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী মরিয়ম খানম ভাইয়ের কথা মনে করে বাড়ির এককোনে একা-একা চুপচাপ বসে থাকে, কারোর সাথেই কথা বলছে না। কেউ ডাকলেও সাড়া দেয়না।
বাড়িতে শহীদ সাগরের বৃদ্ধ দাদা আঃ মজিদ হাওলাদার(৭৫) বাড়ির উঠানে বসে বাকরুদ্ধ হয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলছে। কান্নার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছে। একমাত্র নাতী সাগরকে হারিয়ে তিনি আরো বেশী অসুস্থ্য হয়ে পরেছে।
জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর দুই মাস পূর্বে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা গ্রামের সাগর হাওলাদার(১৭) সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা ও বোনের লেখাপড়া খরচ যোগাতে ঢাকায় যায়, সে ধানমন্ডি লেকপাড় একটি চায়ের দোকানে কাজ করতো।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আবাহনী মাঠের কর্নারে পুলিশ বক্সের কাছে দু-পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে দুপায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ জুলাই মৃত্যুবরন করেন সাগর হাওলাদার। সাগরের পিতা নুরুল হক হাওলাদার বাগধা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী, তার এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সাগর বড়।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:০৮:৫৮   ২০৮ বার পঠিত  |