![]()
নোয়াখালী:বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় শুরু হয়েছে প্রচন্ড বৃষ্টিপাত ও দমকা ঝড়ো হাওয়া। সেইসঙ্গে শুক্রবার দুপুরে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ সোনাদিয়া ইউনিয়নের কিছু ওয়ার্ড়, সুখচর ইউনিয়ন, নলচিরা, চরকিং ইউনিয়নের বেডির বাইয়ের কিছু অংশ ও বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে অনেক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক প্লাবিত হয়েছে।
এতে দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো পরিবার। বিশেষ করে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানে বসবাসরত হরিণসহ বন্য প্রাণীগুলোর জন্য সৃষ্ট হয়েছে হুমকি।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহেদ আলী বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে নিঝুমদ্বীপের সব পুকুর ডুবে গেছে। ভেসে গেছে সব পুকুরের মাছ। প্রধান সড়কসহ সব সড়ক তলিয়ে গেছে। অস্বাভাবিক জোয়ার হওয়ায় জোয়ারের পানি এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হচ্ছে। মানুষের বসতঘর, কৃষি জমিও তলিয়ে গেছে।
আকবর হোসেন নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রতিবছর জোয়ারে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, দোকান, গবাদিপশু, ফসলি জমি। ৭ লাখ মানুষের এই দ্বীপে নেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ, আছে শুধু নিঃসঙ্গতা আর অবহেলা। কেউ কেউ ত্রাণ নিয়ে আসে, কিন্তু আমরা আর ত্রাণ চাই না। আমরা চাই স্থায়ী সমাধান। আমাদের দাবি—নদীভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ ও নিরাপদ জীবন। এটা করুণা নয়, আমাদের অধিকার।
বুডিরচর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্ধা নুর জাহান বলেন দুপুর থেকে হঠাৎ আমার ঘরের ভিতরে পানি প্রবেশ করছে।এখন আমরা ছেলে মেয়েদের নিয়ে ঘরে থাকতে আমাদের ভয় করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার দুপুরের পর থেকে জোয়ারের পানি দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। এতে ভেসে গেছে মাছের ঘের। অনেক এলাকায় পানি ঢুকে ঘরের ভেতর ঢুকেছে। কিছু পরিবার উঁচু স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় জননিরাপত্তার স্বার্থে হাতিয়া-চট্টগ্রাম ও হাতিয়া-নোয়াখালী নৌরুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাতিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, নিঝুমদ্বীপ এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় দ্রুততম সময়ে পানি উঠে প্লাবিত হয়। আবার নামতে ও দ্রুত নেমে যায়। নলচিরা সুখচর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের টেন্ডার আহ্বান হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ থাকাই আমাদের টেন্ডার এর কাজগুলো করতে সমস্যা হচ্ছে। তারপর ও সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাক পেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করার চেষ্টা চলছে।
হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, নদী ও সাগর উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে নৌযোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিঝুমদ্বীপসহ হাতিয়ার অনেক নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আমরা খোঁজ খবর রাখছি। আরও কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৯:১৪ ১৫০ বার পঠিত | ● নিম্নাঞ্চল ● প্লাবিত ● হাতিয়া