ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » হাতিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, লাখো মানুষ প্রবল পানি বন্দী

হাতিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, লাখো মানুষ প্রবল পানি বন্দী


এম সাখাওয়াত হোসেন,হাতিয়া(নোয়াখালী)
প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫


হাতিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, লাখো মানুষ প্রবল পানি বন্দী

নোয়াখালী: বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় তিন দিনের ভারী বর্ষন,অমাবষ্যার প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া, গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল । এতে পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে‌ লাখো মানুষ। অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রায় সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, অমাবস্যা ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারে গত দুই দিনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন প্রায় সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, জলোচ্ছ্বাসে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে বেড়িবাঁধের বাইরের লাখো মানুষ। জোয়ারে নিঝুমদ্বীপ, ঢালচর মৌলভীরচর তেললারচর নলচিরা ইউনিয়ন চরঈশ্বর ইউনিয়ন হরনী ইউনিয়ন সোনাদিয়া ইউনিয়ন ও সুখচর ইউনিয়নের বেড়ি বাঁধের বাহিরে অধিকাংশ এলাকা সম্পূর্ণ ডুবে যায়।

এসব এলাকায় জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, রাস্তাঘাট ও মাছের ঘের। কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে আছে। সুখচর ছাড়াও নলচিরা, চরঈশ্বর ও নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ জনপদেও পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া বেড়িবাঁধ না থাকায় উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নিঝুমদ্বীপ, দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর এই চরাঞ্চলগুলোতেও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব চরে বসবাসকারী লাখো মানুষ এখন বিপদাপন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
সোনাদিয়া ইউনিয়নের জেলে পল্লীর জামাল উদ্দিন নামের এক বাসিন্দা বলেন, শুধু চাই একটি বেড়িবাঁধ যাতে অন্তত পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারি।
সোনাদিয়া ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চর চেঙ্গা বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মন্নান বলেন,উপকূল উন্নয়নে স্রেফ মানবিক সহানুভূতি বা বার্ষিক বরাদ্দ নয় দরকার সুদূরপ্রসারী টেকসই বেড়িবাঁধ।
নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুর উদ্দিন বলেন, জোয়ারে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লোনা পানি প্রবেশ করে কৃষি জমি ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া নদীর পাড়ে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল আহমেদ পাটোয়ারী বলেন অমাবস্যা ও নিম্নচাপের প্রভাবে উচ্চ জোয়ারে নলচিরা ইউনিয়নের তুপানিয়া, আল-আমিন গ্রাম, সোনাদিয়া ইউনিয়নের হৈকবাধা মাইজচরা, চরঈশ্বর ইউনিয়ন হরণী ইউনিয়নের কিছু এলাকায় প্রায় সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এবিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান হাতিয়ার বেশকিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ মারাত্মক ভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জন্য উপর মহলে অবহিত করা হয়েছে। এবং পানি বন্দী মানুষের মাঝে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩২:৩৬   ১২৩ বার পঠিত  |