ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ২ আগস্ট ২০২৫
প্রচ্ছদ » ঢাকা » হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান পরিষদের সম্পাদককে অপহরণ পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান পরিষদের সম্পাদককে অপহরণ পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি


আড়াইহাজার ( নারায়ণগঞ্জ ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট ২০২৫


হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান পরিষদের সম্পাদককে অপহরণ পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজার উপজেলার শালমদী এলাকা জুয়েলারী দোকান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আড়াইহাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক দুলাল রায় (৫০)। শালমদী বাজারে ব্যবসা করলেও পরিবার নিয়ে থাকেন উচিতপুরা ইউনিয়নের ভৈরবদী গ্রামের পৈত্রিক বাড়িতে। প্রতিদিনের মত গত শুক্রবার রাতে দোকান বন্ধ করে মোটর সাইকেল যোগে বাসায় ফিরছিলেন।

স্ত্রী প্রতিমা কর্মকার ফিরতে দেড়ি দেখে স্বামীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইলে ফোন বন্ধ পান। দুশ্চিন্তায় তাকে নানা এলাকায় খোঁজ করেন স্বজনরা। এরই মধ্যে দুলালের নাম্বার থেকে স্ত্রী প্রতিমা কর্মকারের মোবাইল ফোনে কল আসে। মুক্তিপণ হিসেবে অপহরণকারীরা তাঁর কাছে দাবি করা হয় পাঁচ লাখ টাকা। না দিলে তার স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ গুমেরও হুমকি দেওয়া হয়। দিশেহারা পরিবারটি শরণাপন্ন হয় আড়াইহাজার থানা পুলিশের। পুলিশ বিষয়টি তাৎক্ষনিকভারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারকে অবগত করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপহৃত উদ্ধারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

তার নির্দেশে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (গ অঞ্চল) মেহেদী ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ, ডিবি এবং র‌্যাবের একাধিক টিম অপহৃত দুলাল কর্মকারকে উদ্ধারে অভিযানে নামেন। অপহরণের ৭ ঘন্টা পর শনিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে রূপগঞ্জের তারাব এলাকা থেকে দুলাল রায়কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, তথ্য প্রযুক্তি সহায়তা তারা নিশ্চিত হন অপহরণকারীরা দুলাল রায়কে নিয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ভিতরেই অবস্থান করছে। তারা মুক্তিপণের টাকার জন্য তার স্ত্রীকে বার বার ফোন করছিলো। এক পর্যায়ে অপহরণকারী বূঝতে পারে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করার জন্য চারিদিক থেকে অভিযান পরিচালনা করছে। উপায়ন্ত না পেয়ে দুলাল রায়কে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে চলে যায়। পরে পুলিশ রূপগঞ্জের তারারো এলাকা থেকে শনিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে তাকে উদ্ধার করেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। দুলাল রায় ভৈরবদী এলাকার মৃত ননি গোপাল রায়ের একমাত্র ছেলে বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি।

ডিবি পরিচয়ে দুলালকে গাড়িতে তোলেন
শালমদী বাজারে দুলাল রায় জুয়েলারী দোকার বন্ধ করে শুক্রবার রাতে ভৈরবদী তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। শ্রীনিবাসদী এলাকায় পৌছালে কালো রংয়ের হাইস গাড়ি থেকে ৫/৬ জন নেমে তার মোটর সাইকেল গতিরোধ করে। ডিবি পরিচয় দিয়ে দ্রুত তার চোখ বেধে গাড়িতে তোলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। তার মুক্তিপনের জন্য তাকে দিয়েই স্ত্রী মোবাইল ফোন করেন। মুক্তিপণ বাবদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য ফোনে তাকে বলতে বাধ্য করেন। দাবীকৃত টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দেয় অপহরণকারী। এরপরই বুঝতে পারেন দুলাল অপহরণের শিকার হয়েছেন। এভাবে ঘটনার বর্ণনা দেন দুলাল রায়।
স্বামীকে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন স্ত্রী প্রতিমা কর্মকার। তিনি বলেন, প্রতিদিন রাত আটটার মধ্যে দোকান বন্ধ করে স্বামী দুলাল বাড়ি ফিরে আসেন। শুক্রবার রাত নয়টা অতিক্রম করলে তাকে ফোন দিলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দুশ্চিন্তায় আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত সকল জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে দুলালের ফোন থেকে কল আসে। ওই পাশ থেকে দুলাল জানায় তাকে অপহরণ করা হয়েছে। পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাকে মেরে ফেলবে।

বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও তার ঘনিষ্টজনদের নিয়ে বসার মধ্যেই অন্তত ত্রিশবার দাবীকৃত টাকার জন্য ফোনে চাপ দিতে থাকে অপহরণবকারী। পরে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টীম রাতভর অভিযান নামেন। অপহরণ কারীরা তাকে নিয়ে তেমন বেশিদুর যেতে পারেনি। অপহরণকারীরা আটকের ভয়ে তাকে ফেলে চলে যায়। পরে তারাবো এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত দুলাল রায়কে উদ্ধার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আর/ এন

বাংলাদেশ সময়: ২২:০৭:১৮   ৯৩ বার পঠিত  |