![]()
মানিকগঞ্জ: সবজির ভান্ডার খ্যাত মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গত একমাসে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়ে কৃষকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শত শত বিঘা জমির সবজি বিনষ্ট হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষকরা। ফলে স্থানীয় বাজারে সকল প্রকার সবজির দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের দেউলী ও দশানী চকে প্রায় সবগুলো সবজি ক্ষেতে এক দেড় ফুট পানি জমে গেছে। মাচায় ওঠা ধরন্ত গাছগুলো মরে যাচ্ছে। এ রকম চিত্র উপজেলার ৩৫ টি ব্লকেই।
দশানী গ্রামের সবজি চাষি আব্দুর রহিম জানান, ৪ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি লাগিয়ে মাচা দিয়েছিলাম। গাছগুলো মাচায় ওঠে সবেমাত্র ফলন দেয়া শুরু করেছিল। আর এই সময়ে লাগাতার বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতায় ধরন্ত গাছ মারা যাচ্ছে। এখনো ৫ হাজার টাকার সবজিও বিক্রি করতে পারেননি। লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে ওঠবেন তাও তিনি জানেন না। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে এ ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।
অতি বৃষ্টিতে ধরন্ত সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় প্রায় একই রকম মন্তব্য করেছেন সদর ইউনিয়নের চর আজিমপুর গ্রামের কৃষক নুর মোহাম্মদ কাজী, জামির্ত্তা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের কৃষক আশরাফ মল্লিক, চান্দহর ইউনিয়নের ওয়াইজনগর গ্রামের কৃষক তকসের আলী, ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া গ্রামের কৃষক খাইরুল ইসলামসহ অনেকেই। পেঁপে চাষি হযরত আলী জানান, জলাবদ্ধতায় শুধু সবজি ক্ষেতই নষ্ট হয়নি, ধরন্ত পেঁপে গাছও মরে যাচ্ছে।
স্থানীয় মো.হাবিবুর রহমান মোল্লা জানান, উপজেলাব্যাপী পানি নিষ্কাশনের খাল-বিল-নালা গুলো ভরাট ও দখলের কারনে বৃষ্টির পানি জমি থেকে নামতে পারছে না। ফলে প্রতিটি চকেই স্থায়ী জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। যার কারনে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এখানকার কৃষকরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সবজিসহ ফসলের ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন-মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসাররা ক্ষতিগ্রস্থ জমির পরিমান ও কৃষকদের তালিকা প্রনয়নে কাজ করছেন। বর্ষা পরবর্তী সময়ে সরকারি সহায়তায় এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলেও তিনি জানান।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৯:৪৫ ১৫৯ বার পঠিত | ● ক্ষেত ● জলাবদ্ধতা ● বৃষ্টি ● সবজি ● সিংগাইর