ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » নবীনগরে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসিকে লিগ্যাল নোটিশ

নবীনগরে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসিকে লিগ্যাল নোটিশ


মাহাবুব আলম লিটন,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫


নবীনগরে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি)কে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান (তুষার) নরসিংদীর রায়পুরার মির্জারচর গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেনের পক্ষে জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। সোমবার রাতে লিগ্যাল নোটিশের কপি সাংবাদিকদের হাতে পৌছে। নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে রিটসহ অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অবশ্য  মঙ্গলবার  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম এ ধরনের কোন লিগ্যাল নোটিশ পাননি বলে সাংবাদিকদের জানান ।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নবীনগর উপজেলার নাসিরাবাদ বালুমহাল ইজারা নিয়ে নরসিংদীর রায়পুরার মির্জারচরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এতে শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে। বালুমহাল ও মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে নদীর তীরবর্তী চরলাপাং, মানিকনগর, সাহেবনগরসহ একাধিক গ্রাম শতাধিক খননযন্ত্রের গর্জনে দিনরাত কাঁপছে। ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা ও শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

তাই অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘স্বর্ণ প্রাসাদ’ নামে পরিচিত এ বালুমহাল সশস্ত্র প্রহরীদের নিয়ন্ত্রণে, যেখানে কেউ প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পায় না। এর ফলে নদীতীর ভাঙন, জলজ জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস, প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি ভয়াবহ আকারে বাড়ছে।

লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫, বাংলাদেশ পরিবেশ আদালত আইন ২০১০ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের আলোকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক দিদারুল আলম বলেন, এ ধরনের কোন উকিল নোটিশ আমি এখনো পাইনি। আর যেহেতু এটি সরকার ঘোষিত বালু মহাল তাই এটাকে অবৈধ বলা যাবে না। যদি তারা কোন শর্ত ভঙ্গ করে সে ক্ষেত্রে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারি। আমি ইতিমধ্যে ইউএনওকে বলে দিয়েছি বিষয়টা কড়াকড়ি ভাবে
দেখে।যদি দেখে তারা শর্ত ভঙ্গ করেছে ।তাদের জামানত তো আমাদের হাতে রয়েছে। কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৯:১০   ৫১১ বার পঠিত  |