![]()
পটুয়াখালী: খানাখন্দে ভরা সড়কে গাড়ি আটকে চলাচলে দুর্ভোগ লোহালিয়া-বাউফল সড়ক। সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। বেশির ভাগ স্থানে পিচঢালাই নেই। একটু বৃষ্টি হলেই সেসব গর্তে পানি জমে যায়। প্রতিনিয়তই উল্টে পড়ছে যানবাহন। আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। এ ছাড়া, কাদাপানি ছিটে পাশের দোকানপাট ও পথচারীদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে। এ দুরবস্থা পটুয়াখালীর লোহালিয়া-দশমিনা-বাউফল সড়কের।
২৩ কিলোমিটার এ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অন্তত দুই শতাধিক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে ছোটখাটো পুকুরের আকার ধারণ করে। গর্তের মধ্যে আটকা পড়ে বাস, ট্রাক, পিকআপসহ নানা ধরনের যানবাহন। এতে ওই সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। ভোগান্তিতে পড়ে যানবাহন চালকসহ যাত্রীরা। সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তাষ সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন যানবাহনের চালকসহ এলাকাবাসী। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে শিগগিরিই এ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
জেলা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত লোহালিয়া নদী। নদীর পূর্ব প্রান্তে সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়ন। দশমিনা, বাউফল, গলাচিপা উপজেলাসহ ভোলা জেলায় যাতায়াতের সহজ পথ হচ্ছে এ সড়কটি। খানাখন্দের কারণে এ পথে চলাচল করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
জেলা সদর থেকে আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে দুমকি উপজেলা হয়ে দশমিনার দূরত্ব ৪৭ কিলোমিটার। বাউফলের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। মাঝখানে রয়েছে বগা ফেরি। ফেরি পারাপারসহ এ পথে চলাচলে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। কিন্তু জেলা সদরের সঙ্গে ওই তিন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটি নির্মাণ করে। পরে এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই থেকে এলজিইডিই সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণ করছে। এ সড়কটি এবং লোহালিয়ার ব্রিজটি হওয়ায় দশমিনা ও বাউফলের দূরত্ব প্রায় অর্ধেক কমে এসেছে। বাউফল ৪৫ মিনিট, দশমিনায় এক ঘণ্টা এবং গলাচিপায় সোয়া ঘণ্টা সময় লাগে।
এক বছর ধরে এ সড়কটির লোহালিয়ার শৌলা এলাকা থেকে বাউফল সড়কের দশমিনা সংযোগ সড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে ২০টি বড় বড় গর্তসহ ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত দুই শতাধিক খানাখন্দ রয়েছে। ফলে এ সড়কটিতে এখন মিনি পুকুরে রূপান্তরিত হয়েছে। খানাখন্দ আর জলজটের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আহত হচ্ছে যাত্রীরা। এ ছাড়া এ সড়ক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিশুক চালক টিটু মিয়া বলেন, ‘সব হইলো চোরের দ্যাশ। ঢালাই লাগব দুই ইঞ্চি-তিন ইঞ্চি, দিবে হাফ ইঞ্চি। হেইহানে রাস্তা ভালো থাকবে ক্যামনে? গাড়ির চাক্কার বাড়িতে পিচ উইঠা যায়, যার কারণে রাস্তাগুলো ভাইঙ্গা যায়।’
অটোবাইক চালক সুভাষ কুমার বলেন, ‘এ রাস্তা হইছে ঠিকই; কিন্তু হওয়ার মতো হয় নাই। এ রাস্তায় শুধু চলাচলেই সমস্যা নয়, আমাগো জীবন লইয়াই টানাটনি। এই রাস্তা দিয়া চলতে জানেরও কিছু থাহে না আর গাড়িরও কিছু থাহে না।’ যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তা দিয়ে চলতে দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশাল বিশাল ২০টি গর্ত আছে। গর্তে গাড়ি পড়ে গিয়ে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি তুলতে হয়। বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। বাস-ট্রাক গর্তে আটেক গেলে রাস্তাই ব্লক।
মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ বলেন, ‘রাস্তা মেরামতের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়। এক-দেড় বছরের বেশি টেকে না। তার পরই রাস্তা ভেঙেচুরে শেষ হয়ে যায়।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর জানান, মূলত অতিবৃষ্টির কারণে সড়কটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চালক, যাত্রী, পথচারীদের ভোগান্তি লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রাক্কলনও তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৩:৪০ ১৬৫ বার পঠিত | ● পটুয়াখালী ● বাউফল ● লোহালিয়া ● সড়ক