ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » খুলনা » মহম্মদপুরে গায়েব হওয়া টিসিবির ৭৮ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার

মহম্মদপুরে গায়েব হওয়া টিসিবির ৭৮ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার


কামরুল হাসান , মহম্মদপুর ( মাগুরা )
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫


মহম্মদপুরে গায়েব হওয়া টিসিবির ৭৮ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার

মাগুরা: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় গত জুলাই মাসে টিসিবি’র পণ্য বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত উপকার ভোগীদের জন্য ৭৭ দশমিক ৮ মেট্রিক টন চাল অবশেষে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার একটি ভাড়াকৃত গোডাউন থেকে এ চাল উদ্ধার করা হয়। তবে দায়ী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঋতু ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী ও ওএমএস ডিলার হোসেনিয়া কান্তী ঋতুর ডিলারশিপ বাতিল করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদপুরের ৮ ইউনিয়নে টিসিবি’র উপকারভোগী কার্ডধারী আছেন ১৫ হাজার ৫৬৭ জন। এসব উপকারভোগী নিজেদের কার্ড দেখিয়ে প্রতি মাসে একবার ইউনিয়নের টিসিবির নিয়োগ করা ডিলারের কাছ থেকে বাজারের চেয়ে কম মূল্যে তেল, চিনি, ডাল ও চাল কিনতে পারেন। গত জুলাইয়ে ডিলারদের কাছ থেকে তেল, চিনি ও ডালের একটি প্যাকেজ কিনতে পেরেছেন তাঁরা। ওই মাসে চালের বরাদ্দ আসেনি বলে জানানো হয় কার্ডধারীদের।

গত ৩০ জুলাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মজনুর রহমান স্বাক্ষরিত দুইটি বিলি আদেশে (ডিও) উপজেলার হোসেনিয়া কান্তী ঋতুর নামে একজন ওএমএস ডিলারের অনুকূলে ৭৭ দশমিক ৮৩৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই দিনই মহম্মদপুর ও বিনোদপুর খাদ্যগুদাম থেকে এ চাল তুলেও নেওয়া হয়। পরে বরাদ্দকৃত চাল উপকারভোগীদের বিতরণ না করে অবৈধভাবে মজুদ রেখে ওই চাল আত্মসাতের চেষ্টা করেন ডিলার হোসেনিয়া কান্তী ঋতু।
বৃহস্পতিবার রাতে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তারের নির্দেশনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সোবহান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনজুর রহমানের উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জুলাই মাসে ভোক্তারা চাল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে এবং বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে।

তদন্ত শেষে ঋতু ট্রেডাসের ডিলারশিপ বাতিল করে মজুদকৃত চাল উদ্ধার করা হয়। এতে জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রাজাপুর ইউনিয়ন টিসিবির কার্ডধারী শরিফা বেগম বলেন, চুরির মাল ধরা পড়ল অথচ কোন চোর কেন ধরা পড়ল না। তিন মাস ধরে টিসিবির চাল গোপনে আটকে রেখেছেন। এ ঘটনার পেছনে আরও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজশ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনজুর রহমান বলেন, চাল আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওই ডিলার। এ ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ইউএনও শাহিনুর আক্তার বলেন, প্রাথমিকভাবে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঋতু ট্রেডার্সের মালিক হোসেনিয়া কান্তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:১৬:০২   ৩৩০ বার পঠিত  |