![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: অভাবের তাড়নায় নাড়িছেঁড়া ধনকে তুলে দিয়েছেন অন্যের হাতে। বিনিময়ে তারা পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। এর আগেও আরেকটি সন্তানকে জন্মের পরই ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন এই দম্পতি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে। শ্রীঘর গ্রামের হত দরিদ্র লালন মিয়া ও তার স্ত্রী মারুফা বেগম মিলে দুই সন্তানকে লিখিত ভাবে ৯৫ হাজার টাকা বিক্রি করে দেন।২০২৪ সালে প্রথম সন্তানকে ৪৫ হাজার টাকা ও গত ১০ দিন আগে সদ্য প্রসূত সন্তান কে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করে। তার নিজস্ব কোন জায়গা জমি ও বাড়িঘর নেই।বাস করেন অন্যের বাড়িতে পরিত্যাক্ত একটি ঝুপড়ি ঘরে।সংসার চালান স্ত্রী ভিক্ষা করে। দুই সন্তান বিক্রির ঘটনা এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।
সরেজমিন দেখা যায়, অন্যের জমিতে একটি ঝুপড়ি ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছেন লালন-মারুফা। ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো। দরজায় কড়া নাড়তেই একটি ছোট বাচ্চা দরজা খুলে, দেখা মেলে মা আর সন্তানের ভালোবাসার এক দৃশ্য। একটি ছোট ঘর, নেই কোনো আসবাবপত্র। ঘরের এক কোণে সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া অসুস্থ এক মা বসে আছেন । আর তার চারপাশে ছোট ছোট পাঁচটি শিশু ঘিরে আছে। মাটিতে বসে শিশুগুলো বিভিন্ন পাত্রে ভাত খাচ্ছে সেদ্ধ লাউ দিয়ে। দেখে মনে হচ্ছে বাচ্চাগুলো দীর্ঘদিন ধরে কিছু খায়নি।
সন্তান বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে মারুফা বলেন, আমাদের কেউ নাই। অভাবে পড়লেই মানুষ গালি দেয়, লাথি দেয়। শিশুদের মুখে দুধ জোটে না। বিছনাপাতি নাই, মাডিত ঘুমাই। আর বুকের ভেতরে আগুন জ্বলে, তবুও কিছু করার নাই। এহন যহন নিজের আবুইদ্যা বেইচ্যা দিছি মাইনসে আইসা মেলা কথা কয়। আমরার পেটে যখন খাওন থাহেনা তখন কেউ আইসা জিগাই না।
বাচ্চা বিক্রিত নবজাতকের মা মারুফা ও বাবা লালন মিয়া জানান,তাদের কোন বাড়িঘর জমি জমা নেই।থাকেন প্রতিবেশী সোলেমান মিয়ার বাড়িতে।তাদের আরো ৫টি বাচ্চা আছে।তাদের মুখে তিনবেলা দু’মুঠো খাবার দিতে পারে না। তবে তাদের দাবী আমরা লালন পালন করতে পারবোনা বলে দত্তক দিয়েছি।তারা আমাদের খুশী হয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ গোলাপ মিয়া বলেন, তিনি বাড়িতে ছিলেন না।বাড়িতে এসে শুনেছি।এখন গিয়ে খোঁজ খবর নেব।
শ্রীঘর গ্রামের একই বাড়ির বাসিন্দা নাসিরনগরের ব্যবসায়ী শেখ কাউছার মিয়া বলেন শুনেছি গত বছর ও নাকি এক বাচ্চা বিক্রি করেছে আবার এবারও।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি শুনেছি।বিকালে ঘটনাস্থলে যাবো।তাদের সাথে কথা বলবো।পরে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলবো।পরিবারটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর দিয়ে বসবাসের ব্যাবস্থা করবো।
তাছাড়াও তারা যদি সমাজ সেবা অধিদপ্তরে আবেদন করে,তাহলে আমরা ওই দম্পত্তিকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি দোকান করে দেয়ার চেষ্টা করবো।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩১:৩৮ ১৬২ বার পঠিত | ● নাসিরনগর ● বাবা -মা ● সন্তান বিক্রি