ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » বিশুদ্ধ পানির সংকট, ভোগান্তিতে পৌরবাসী

বিশুদ্ধ পানির সংকট, ভোগান্তিতে পৌরবাসী


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫


বিশুদ্ধ পানির সংকট, ভোগান্তিতে পৌরবাসী

বরিশাল:পটুয়াখালী পৌরসভায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। নদীবেষ্টিত অঞ্চল হয়েও বিশুদ্ধ পানির সংকটে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন পৌরবাসী। এখানকার অধিকাংশ অধিবাসীই পৌরসভার সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানির ওপর নির্ভরশীল।

মাত্র চারটি ওভারহেড ট্যাংক থেকে সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। সরবরাহকৃত এসব পানিতে দুর্গন্ধ, শ্যাওলা ও ভাসমান বস্তু থাকার অভিযোগও উঠেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে পটুয়াখালীতে প্রতি বছরই পানির স্তর আরও নীচে নেমে যাচ্ছে। যার ফলে পৌরসভায় সুপেয় পানির সংকট আরও তীব্রতর হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় সাবমারসিবল পাম্পের মাধ্যমে উত্তোলিত পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা লক্ষ্য করা গেছে।
পৌরসভার কিছু কিছু এলাকায় লবণাক্ততার সমস্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা আরও জটিলতা সৃষ্টি করেছে। স্বনির্ভর রোডের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিছু কিছু জায়গায় পাম্প চালুর পর প্রথম ৫-১০ মিনিট অতিরিক্ত নোনতা পানি আসে যা একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী। খাবার কিংবা রান্নার উপযোগী পানি পেতে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিবারই গড়ে ১০-২০ মিনিট পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। শুকনো মৌসুমে এ সংকট আরও তীব্রতর হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বন্যা ও জলাবদ্ধতার সময় নিচু এলাকার টিউবওয়েল ও পাম্পগুলো তলিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবৎ সঞ্চালন লাইনের পানি ব্যবহারে করে অনেকেই এলার্জি বা চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও শিশুরা ত্বকের নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং গরমকালে ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়ে যায়।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ওয়াহিদ শামিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যদি দূষিত ও লবণাক্ত পানি ব্যবহার করা হয়, তা শিশুদের চর্মরোগ ও ডায়রিয়াজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। পটুয়াখালীতে যে সকল শিশুরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসে তার মধ্যে অনেকেই দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে অসুস্থতায় আক্রান্ত।
পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক জনাব জুয়েল রানা জানান, গ্রাহকের তুলনায় পটুয়াখালী পৌরসভায় পাম্পের সংখ্যা অপর্যাপ্ত, যার কারণে পৌরবাসী পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিমাসেই ওভারহেড ট্যাংকসহ পানি সঞ্চালন লাইনগুলো প্রয়োজনীয় মেডিসিন দিয়ে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছে, তবুও কিছু কিছু ক্ষেত্রে শ্যাওলার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সরবরাহকৃত পানিকে পানযোগ্য করার জন্য আমরা পৌরবাসীকে পানি ফুটিয়ে, ফিটকিরি বা ফিল্টার ব্যবহার করে পানের পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহের পরিমাণ কীভাবে বাড়ানো যায় সে ব্যাপারেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পটুয়াখালী জেলায় একুইফারগুলোতে ইনট্রুশন হচ্ছে; ফলস্বরূপ গ্রাউন্ডওয়াটারে কন্টামিনেশন হচ্ছে। তাছাড়া এখানকার পানিতে লিগনিন ও ট্যানিন নামক জৈব নির্যাসের উপস্থিতি থাকায় পানি উত্তোলনের কিছু সময় পর তা লালচে বর্ণ ধারণ করে, যা খাবারের স্বাদ নষ্ট করে দেয়। এতে সাময়িকভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সাপ্লাইয়ের পানিতে শ্যাওলা আসার যে অভিযোগ রয়েছে, তার মূল কারণ হচ্ছে পানি উত্তোলনের পর তা দীর্ঘসময় ধরে সংগ্রহ করে রাখা। সাপ্লাইয়ের পানি ঠিকভাবে পিউরিফিকেশন বা মেইনটেন্যান্স না হওয়ার কারণেও কন্টামিনেশন হতে পারে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৩:৫০:১৫   ১৫৮ বার পঠিত  |