![]()
পটুয়াখালী: জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ফকির লালন শাহ ছিলেন বাঙালির মানবতাবাদী চেতনার প্রতীক। তাঁর গান মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সাম্যের বার্তা দেয়। তাঁর দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক যেখানে সমাজে ধর্ম, বর্ণ ও মতের বিভাজন বাড়ছে, সেখানে লালনের চিন্তা এক অনন্ত ঐক্যের বার্তা বহন করে।
লালন সাঁই শুধু একজন গীতিকার বা সাধক নন, তিনি ছিলেন মানবতার মহান দার্শনিক। তাঁর গান ও দর্শন আমাদের সমাজে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। এমন উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম লালনের ভাবধারার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।”
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫ ততম তিরোধান দিবস অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানুষ মানবিক হয়ে ওঠে। বর্তমান সরকার সংস্কৃতির বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার এবং পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম আরিফসহ সরকারি কর্মকর্তা প্রমুখ।
স্থানীয় শিল্পীরা লালনের দর্শনভিত্তিক গান, ভাবনাচিন্তা ও আধ্যাত্মিকতার ওপর পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। লালনের জনপ্রিয় গান “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে”, “আমি একদিনও না দেখিলাম তারে”, “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”এসব গানে ভরে ওঠে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন।
বক্তারা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে লালনচর্চা ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তারা বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারকেও ধন্যবাদ জানান।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে দর্শকরা উপভোগ করেন সঙ্গীত, নৃত্য ও ভাবগীতির অনবদ্য মেলবন্ধন। শেষে লালনের দার্শনিক চিন্তাকে ছড়িয়ে দিতে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৬:১৬ ৭৫ বার পঠিত | ● জেলা প্রশাসক ● পটুয়াখালী ● ফকির ● লালন শাহ