ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » ঢাকা » অটোরিক্সার লোভে বন্ধুকে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

অটোরিক্সার লোভে বন্ধুকে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার


মাহবুবুর রহমান টিপু, ( ঢাকা )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫


অটোরিক্সার লোভে বন্ধুকে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

ঢাকা: দোহার উপজেলায় অটোরিক্সার লোভে ইয়াসিন মিয়া(২২) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে তারই বন্ধু সোহাগ(২৮)কে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতে বাবা বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা নং-১৬, তারিখ ১৮/১১/২০২৫ইং, ধারা- ৩০২/৩৪ দায়ের করেন।
নিহত অটোরিক্সা চালক ইয়াসিন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ফরদাবাজ গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার জুরাইন তুলাবাগিচা কানার মাঠ হাবিব মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
আটক সোহাগ রংপুর জেলার কোতয়ালী থানা সৎবাজার গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে দোহার উপজেলার জয়পাড়া এলাকার গাঙপাড় আ. রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.হাসান আলী জানান,সোমবার রাতে উপজেলার নিকড়া প্রেমতলা এলাকায় অটোচালক ইয়াসিন মিয়াকে উপূর্যপুরী ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। একপর্যায়ে ঘাতক সোহাগ নিজেই তার বন্ধুকে উপর্যপুরী ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে নাটক সাজিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করতে নিয়ে যান। রাতেই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এলোমেলো কথায় সন্দেহ হলে সোহাগকে গ্রেপ্তার করে দোহার থানা পুলিশ।পরে সোহাগকে হত্যাকান্ডের আলামতসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দোহার থানা পুলিশ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক সোহাগ জানান, এক বছর আগে জুরাইনে ইয়াসিন মিয়া ও সোহাগের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। পরে সোহাগ জুরাইন থেকে এসে দোহারের খাড়াকান্দার মো. মোকলেস এর গ্যারেজে কাজ নেন। রোববার রাতে সোহাগ জুরাইন গিয়ে ইয়াসিনের সঙ্গে দেখা করে এবং রাতে একসাথে ছিলেন। সোমবার সকালে ইয়াসিনের নতুন অটোরিকশা নিয়ে দু’জন দোহারে আসে এবং সারাদিন একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে।

সন্ধ্যায় নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য সোহাগ পরিকল্পিতভাবে ইয়াসিনকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে নিকড়া প্রেমতলা এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইয়াসিন নেশায় ক্লান্ত ও ঘুম ঘুম এলে সোহাগ সুযোগ বুঝে ছুরি দিয়ে ইয়াসিনের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ ঘটনার পর ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে সোহাগ নাটক সাজিয়ে ইয়াসিনকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এসময়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াসিন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে উপস্থিত পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সাবলিলভাবে ঘাতক সোহাগ নিহত ইয়াসিন মিয়াকে উদ্ধারের বর্ণনাও প্রদান করেন।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেয়ে ইয়াসিনের পরিবার রাতেই দোহার থানায় উপস্থিত হলে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। ইয়াসিনের স্বজনরা জানান, নিহত ইয়াসিন ও সোহাগ দুই বন্ধু। তারা সোমবার সকালে জুরাইন থেকে একসাথেই বেড়ানোর কথা বলে বের হউন।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান আলী আরও জানান,আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাত্র সাত ঘন্টার মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। আসামি সোহাগকে গ্রেপ্তার,আলামত সংগ্রহ ও অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়েছে।ঘাতক সোহাগের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সে হত্যায় দায় স্বীকার করেছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:২৪:৩৪   ১২৮ বার পঠিত  |