ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » ময়মনসিংহ » মৃত্যুর ৮ বছর পর কবর থেকে এক নারীর লাশ উত্তোলন

মৃত্যুর ৮ বছর পর কবর থেকে এক নারীর লাশ উত্তোলন


ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫


মৃত্যুর ৮ বছর পর কবর থেকে এক নারীর লাশ উত্তোলন

ময়মনসিংহ: এক প্রবাসির স্ত্রী অসুস্থতা জনিত কারণে মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর ৫ বছর পর তার স্বামী হত্যা মামলা দায়ের করেন। একাধিকবার তদন্তে হত্যাকান্ডের আলামত পাওয়া না পাওয়ায়, ডিবি পুলিশ লাশ পুনঃ ময়না তদন্তের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। মৃত্যুর ৮ বছর পর বৃহস্পতিবার সকালে কবর থেকে সুলতানা রাজিয়া মুক্তা বেগম (৫০) নামে ওই নারীর লাশ উত্তোলন করেন। ঘটানাটি ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগান গ্রামে।

জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগান গ্রামের আব্দুর রহমানের বড় ছেলে আনিছুর রহমান বাবলুর সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেন সুলতানা রাজিয়া মুক্তা বেগমকে। নারী লোভী বাবলুর সঙ্গে মুক্তারও সম্পর্ক খুব বেশি ভালো যাচ্ছিল না। ধৈর্যধারন করতে করতে গর্ভে সন্তান আসে। এর পরপরই ১৯৯৬ সালে অবৈধ পথে স্পেনে পাড়ি জমান। বিদেশ গিয়ে ঠিকমতো মুক্তার কোন খোঁজখবরও রাখতো না, খরচও দিতো না। ২৫/২৬ বছরের মধ্যে ঠিকমতো টাকা পাঠাতো না বলে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মিটতো না।

হটাৎ একসময় রক্ত স্বল্পতা, হাইপ্রেসার ও কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন মুক্তা। কিন্তু টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসাও করতে পারতো না। মুক্তার শারিরীক অবস্থা খুব বেশি খারাপ হওয়ায় ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সিবিএমসিবি হাসপাতালে ভর্তি হলে, ৫ দিন পর (১ মার্চ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ৫০ বছর বয়সি ওই নারী। তার ২০২০ সালে দেশে ফিরেন বাবলু। এসময় কুমিল্লার বরড়া থানায় হালিমা নামে এক নারীকে ২০ লাখ টাকা কাবিন দিয়ে বিয়ে করেন। এক বছরও টিকেনি সেই বিয়ে। কাবিনের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে দুই ভাইয়ের যৌথ জমি বিক্রি করে পরিশোধ করতে হয়।

বাবলু বিদেশ থেকে ছোটভাই মোশফিকুর রহমান মানিকের কাছে পাঠানো টাকা ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তুমুল ঝগড়া বাঁধে। স্ত্রী মুক্তার মৃত্যুর পর বাবলু ২/৩ বার স্পেন থেকে দেশে আসলেও স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে কোন কথা উঠেনি। ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে, স্ত্রীর মৃত্যুর ৫ বছর পর ২০২৩ সালে বাবলু দেশে ফিরে ত্রিশাল থানায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় মানিককে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক মতিউর রহমান। তিনি একটি ভুয়া মেডিকেল সনদ ব্যবহার করে, মানিককে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
বিজ্ঞ আদালত পুণঃ তদন্তের জন্য মামলার দায়িত্বভার দেন সিএইডির কাছে। সিআইডির তদন্তে মেডিকেল সনদটি জাল হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং আদালতে তা দাখিল করা হয়। সিআইডির তদন্তে নাখোশ হয়ে বাদী নারাজী দেয়। পরে আদালত মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ডিবি পুলিশ অধিকতর তদন্তের নিমিত্তে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ডিএনএ পরীক্ষা করার অনুমতির জন্য আদালতের কাছে করেন।

আদালত তা মঞ্জুর করলে, বৃহস্পতিবার সকালে কবর থেকে ওই নারীর লাশ উত্তোলন করা হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নূর লিয়া।
বাবলুর ভাগনী আমেনা জানান, টাকার অভাবে ঠিকমতো যখন মুক্তা মামী চিকিৎসাও করতে পারতো না, তখন মানিক মামা আর্থিক সহযোগিতা করতো।
বাদী বিবাদীর চাচাত ভাই কাউছার আহমেদ বলেন, অসুস্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করার পর আমি নিজে স্বাক্ষর করে হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রহন করি।
শহীদ মিয়া জানান, ভাই ভাইয়ের দ্বন্দে মৃত মানুষকে জড়ানো হচ্ছে, এটা খুবই জগন্য কর্ম।
স্থানীয় আকরাম হোসেন বলেন, মুক্তা ভাবি যখন মারা যান, তখন বাবলু ভাই বিদেশ ছিলেন। যদি হত্যাকান্ডের মতো ঘটনা ঘটতো তাহলে তো তার মেয়েই অভিযোগ তুলতো। তার মেয়ে ছাড়াও তো পরিবার-পরিজন, এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা কি চুপ থাকতো ?
স্ত্রীর মৃত্যুর ৫ বছর পর কেন হত্যা মামলা দায়ের করলেন, এমন প্রশ্নে আনিছুর রহমান বাবলু জানান, বিষয়টি বুঝতে আমার সময় লেগেছে, সবকিছু জেনে তারপর মামলা করেছি। তারপর কিভাবে বুঝলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মেয়ে ও আম্মা বলেছে আমার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। আমার টাকার হিসেব জানতে চাইলে, মানিক আমার স্ত্রীর বুকের মধ্যে লাথি মারছিলো, হাসপাতালেও নিয়ে যেতে দেয়নি মানিক।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ০:৩২:৪৫   ২৩০ বার পঠিত  |