ঢাকা    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » খুলনা » শীতের আগমনীতে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত পাইকগাছার গৃহিনীরা

শীতের আগমনীতে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত পাইকগাছার গৃহিনীরা


আশরাফুল ইসলাম সবুজ,পাইকগাছা (খুলনা)
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫


শীতের আগমনীতে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত পাইকগাছার গৃহিনীরা

খুলনা: শীতকালের অন্যতম জনপ্রিয় একটি সুস্বাদু ও পরিচিত খাবার কুমড়ার বড়ি। তরকারির সাথে এই কুমড়ার বড়ি রান্না করে খাওয়ার প্রচলন বহু বছরের। শীতের মৌসুম এলেই খুলনার পাইকগাছা উপজেলাজুড়ে শুরু হয় কুমড়ো বড়ি তৈরির মহোৎসব।
কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর শীতের শুরু থেকেই কুমড়োর বড়ি তৈরির ধুম পড়ে গেছে। প্রায় বাড়িতে বড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে গৃহিনীরা। গ্রাম থেকে শহরের অনেকেই নিজেদের খাওয়ার পাশাপাশি জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে এই কুমড়া বড়ি তৈরির কাজ।
পাইকগাছা উপজেলার প্রায় প্রতিটা বাড়িতে দেখা যায় শীত এলেই মাষকলাই ডালের সাথে চাল কুমড়া দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বড়ি তৈরি করা হয়। শীতের কাক ডাকা ভোরে মহিলারা বিশেষ পদ্ধতিতে দলবেঁধে কুমড়োর বড়ি দেওয়া শুরু করলেও মূলত আগের দিন থেকে শুরু করতে হয় মূল কর্মযজ্ঞ। মূলত অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু করে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে কুমড়া বড়ি তৈরির মহোৎসব। কেউ কেউ নিজেরা মিলে আবার কেউ পাড়ার সবাই একসাথে তৈরি করে এই বিশেষ সুস্বাদু কুমড়ার বড়ি।
কুমড়ো বড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ মাসকলাইয়ের ডাল আর চালকুমড়া। এর সাথে সামান্য মসলা। বাজারে প্রতি কেজি মাষকলাই ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা আর চাল কুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাইজ হিসেবে চালকুমড়া ১০০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে ক্রয় করা যায়। ৬ কেজি চালকুমড়ার সাথে ২ কেজি মাসকলাইয়ের মিশ্রণে কুমড়া বড়ি ভালো হয়।প্রথমে মাষকলাই রোদে শুকিয়ে জাঁতায় ভেঙে পরিষ্কার করে বা না ভেঙে পানিতে ভিজিয়ে রেখে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হয়। ৫-৬ ঘণ্টা মাষকলাই পানিতে ভেজাতে হয়। তারপর ঢেঁকি বা শিলপাটায় বেটে নিয়ে কুমড়ো বড়ির মিশ্রণ তৈরি করা হয়।

তবে এখন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুমড়া বড়ি তৈরির মেশিন স্থাপনের পর থেকে সবাই মেশিনে মাড়াই করে মাষকলাই ও কুমড়ার মিহি করা হচ্ছে। এরপর দুটির মিশ্রণে কুমড়ো বড়ির উপকরণ তৈরি করা হয়। মাঠ, বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা খোলা জায়গায় ভোর থেকে বড়ি বসানো শুরু করা হয়। পাতলা কাপড়ে সারি সারি বড়ি বসানো হয়। কুমড়ো বড়ি বসানোর পর দুই-তিন দিন একটানা রোদে শুকানো হয়। সূর্যের আলো কম হলে ৩-৪ দিন পর্যন্ত শুকাতে সময় লেগে যায়। শুকানোর পর কাপড় থেকে বড়ি উঠিয়ে পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।
উপজেলার চাঁদখালীর গৃহিনীরা বলেন, আমরা আগে ডাল মাটির মালশায় তে হিজুর দিয়ে বেটে ফেসে ফেলতাম কিন্তু বর্তমান সময় মেশিনে দিয়ে সব কিছু একেবার মিক্সিং করে দিচ্ছে তাতে আমাদের কস্টও কমে গেছে।

কপিলমুনি এলাকার গৃহিণী মনিরা বেগম জানান, কুমড়ো বড়ি গৃহিণীদের জন্য শীতকালীন একটা যেন একটা রুটিন মাফিক কাজ। এ বড়ি নিয়ে গ্রাম্য সমাজে রয়েছে নানা কুসংস্কার। কেউ বড়ি দিলে ওইদিন যদি কুয়াশায় সূর্যের দেখা না মেলে তাহলে অনেকে বলে থাকেন বড়ি দেয়া গৃহিনীর কারনে সূর্য়ের দেখা মিলছেনা। যদিও এ কথার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই।
পাইকগাছা পৌরসদরস্হ বাজারের মুদি দোকানদার রফিকুল জানান, তিনি দোকানে সব জিনিসের সাথে সব ধরনের ডালও বিক্রি করেন। তবে শীত শুরু হলে বড়ি দেয়া কলাইয়ের ডাল খুব বিক্রি হয়। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর কলাইয়ের ডালের ব্যাপক চাহিদা এবং ডাল দাম ও কম আছে প্রতিকেজি ডাল এখন ১৪৫-১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।
উপজেলার কুমড়ো বড়ির ব্যবসায়ী মাজেদুর রহমান বলেন, এখানকার কুমড়ো বড়ি খুব সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের বড়ি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বিশেষ করে ঢাকায় এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
তিনি আরো জানান, এটি সারা বছরজুড়ে তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু শীতকালে এর কদর বেশি হয়। কারণ, শীতের সময় রান্না করে খেতে বেশ মজা লাগে। কৈ মাছ, শিং মাছ ও শৈল মাছের সাথে রান্না করলে তরকারি খেতে মজাই আলাদা।
তবে কুমড়ো বড়ি বানানো থেকে শুরু করে সব কাজ বাড়ির মেয়ে বা নারী শ্রমিকরা করে থাকেন। কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে নারী শ্রমিকদের মজুরিও কম।
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান, শীত মৌসুমে গ্রামের নারীরা কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন। গ্রামীণ নারীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতা পেলে তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:০৯:০৮   ১২৬ বার পঠিত  |