![]()
নারায়ণগঞ্জ-২: আড়াইহাজার আসনে বিএনপি ঘোষিত মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে ও মাথায় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত তিন প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলা সদরে বিএনপির কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, সাবেক সাংসদ আতাউর রহমান আঙ্গুর ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তারের অনুসারী বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমর্থকরা এতে অংশগ্রহণ করে।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপি ঘোষিত মনোনয়ন পরিবর্তনের করে মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা ‘আড়াইহাজারের মনোনয়ন মানি না মানবোনা, জিয়ার সৈনিক এক হও, এক হও, এ্যাকশন এ্যাকশন ডাইরেক্ট এ্যাকশন’ এই ধরনের নানা স্লোগান দেয়। ওই সময় উপজেলা সদরের যানবাহন চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। এনিয়ে মনোনিত ও মনোনয়ন বঞ্চিত উভয় পক্ষের নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হাইহাজী ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, আমরা চাঁদাবাজ সন্ত্রাস চাইনা। জনগণ যাকে ভালোবাসবে তাকেই আমরা চাই। তাই মনোনয়ন বঞ্চিত তিনজনের যেকোন একজনকে মনোনয়নের মাধ্যমে জনগনের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন চাই।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি মিরাজুল ইসলাম নয়ন বলেন, মানুষ আসলে মুক্তি চায়। মানুষ ভালোবাসা চায়, ভালোভাবে বাঁচতে চায়। সাধারণ জনগণ যদি সন্ত্রাসের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয় তাহলে আমরা এ মনোনয়ন মানিনা মানবোনা। আমরা ভালো মানুষের মনোনয়ন চাই। জনাব তারেক রহমান ও উর্ধ্বতনদের নেতাদের কাছে আবেদন মনোনয়ন বঞ্চিতদের ভালোবেসে যাচাই বাছাই করে ভালো মানুষকে মনোনয়ন দিন বিএনপির সীটকে বুঝে নিন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মোল্লা বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মী ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রার্থীকে নির্বাচনী মাঠে নামানো হয়েছে। যার ফলে পুরো উপজেলার মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চূড়ান্ত মনোনয়নে মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান। এছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে-২ (আড়াইহাজার) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মহিলা দলের এক নেত্রীসহ চারজন নেতা। তারা হলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, বিএনপির সহ অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, সাবেক সাংসদ আতাউর রহমান আঙ্গুর ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার। তাদের প্রত্যেকেই মনোনয়ন পেতে বিএনপির হাই কমা-ের কাছে দৌঁড়ঝাপ করেছিলেন।
কিন্তু দল চূড়ান্তভাবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে মনোনয়ন দেন। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত বাকি তিনজন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গত ১৮ নভেম্বর রাতে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে মশাল মিছিল ও ২৩ নভেম্বর বিক্ষোভ মিছিল করেছিলো। ওই রাতে মনোনীত প্রার্থী কর্মী সমর্থকরা পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। যতই দিন যাচ্ছে এ নিয়ে বিএনপির আভ্যন্তরীণ কোন্দল ক্রমশই বেড়েই চলছে।
এ ব্যপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহাম্মেদ বলেন, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতার বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে দল বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে মনোনয়ন দিয়েছে। সর্বশেষ আমার সবাই ধানের শীষের লোক। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আড়াইহাজারে ধানের শীষকে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে বিজয়ী করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:০০:৪৭ ৬৬ বার পঠিত | ● আড়াইহাজার ● কর্মী ● তিন মনোনয়ন ● বঞ্চিত নেতা ● বিক্ষোভ ● মিছিল