ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » ময়মনসিংহ » কর্দমাক্ত সড়কে দাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

কর্দমাক্ত সড়কে দাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন


মতিউর রহমান সেলিম, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫


 কর্দমাক্ত সড়কে দাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
ময়মনসিংহ: চলছে শীতকাল। এই শুকনো মৌসুমেও বর্ষাকালের মতো কর্দমাক্ত তিন কিলোমিটার সড়ক মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের জয়দা ও মঠবাড়ীসহ কয়েক গ্রামের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষকে। অসহনীয় দুর্ভোগের স্বীকার স্থানীয় শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসি  বুধবার দুপুরে ঘন্টাব্যাপি ওই সড়কে মানববন্ধন করেন।
উপজেলার অলহরী-মঠবাড়ী সড়কের তিন কিলোমিটার সংস্কার করা হয়েছিল ৫ বছর আগে। ফিসারির মাছ ও খাদ্যবাহী যান চলাচলসহ অপরিকল্পিতভাবে মাছের খামারের উচু করে পাড় বাধার কারণে, বছর না পেরুতেই নষ্ট হয় সড়ক। ওই দীর্ঘসময়ে সড়কের কোন সংস্কারকাজ না হওয়ায় বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি যানবাহন তো দুরের কথা, জনসাধারনের চলাচলে অনুপযোগি পড়েছে সড়কটি। এতে শিশু-বৃদ্ধা, রোগি-শিক্ষার্থী ও কৃষকদের চলাচলে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ভোগান্তির শিকার স্থানীয় শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসিরা প্রতিকার পেতে  বুধবার দুপুরে অলহরি-মঠবাড়ী বেহাল সড়কের পাশে জয়দা গ্রামে ঘন্টাব্যাপি ওই সড়কে মানববন্ধন করেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুইপাশে গড়ে উঠেছে মাছের খামার। খামারের পাড়গুলো বাধা হয়েছে সড়ক থেকে ২/৩ ফুট উচু করে। মাছবাহী ট্রাক চলাচলে পানি পড়ে কাঁদামাটিতে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে পাকা সড়কটি। পিছলে পড়ার ভয় নিয়ে কর্দমাক্ত সড়ক মাড়িয়ে চলাচল করছে সকল প্রকারের মানুষ।
সড়ক সংস্কারের দাবি নিয়ে, “আমাকে নিরাপদ সড়ক দিন, আমি নিরাপদে মায়ের কোলে ফিরতে চাই, অসুস্থ রোগিদের চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে বের করা যায় না, রাস্তার জন্য। ত্রাণ চাই না রাস্তা চাই, আর কত অপেক্ষা রাস্তার জন্য। এমন নানা বার্তার প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীরাও গ্রামবাসির সঙ্গে দাঁড়িয়েছে মানববন্ধনে।
জয়দা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বর্ষাকালে কাঁদাজলের কারণে স্কুলে যাওয়া-আসা একরকম বন্ধ ছিল। এই শুকনো সিজনেও প্রায় একই দশা। সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আকুল আবেদন, যেন অতি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হয়।
জয়দা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারদিন আহমেদ জিসান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ফিসারিরপাড় বাঁধার কারণে, রাস্তায় পানি জমে অল্পসময়ে রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। এসব সমস্যা রোধ করা জরুরী।
স্থানীয় অটোরিক্সা চালক নাজমুল হক বলেন, এই খারাপ রাস্তায় যাত্রী নিয়া যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ। বড় বড় গর্ত থাকায় প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে গাড়ি। গাড়ির মটর নষ্ট হয়ে গেলে ৭/৮ হাজার টাকার ফেরে (ক্ষতিরমুখে) পড়ি।
ষাটোর্ধ্ব স্থানীয় মুঞ্জরুল হকের ভাষ্য, গর্ভবতী মহিলা বা আশঙ্কাজনক রোগি নিয়ে আমরা বড় পেরেশানির মধ্যে পড়ে যাই। ৪ বছর ধরে চরম দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশলী জুবায়ের হোসেন জানান, বেশ কয়েকটি খারাপ সড়ক সংস্কারে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই সড়ক বাদ পড়ে থাকলে, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৭:৩৬   ৬৩ বার পঠিত  |