![]()
ভোলা: চরফ্যাসনে দোকান থেকে কেনা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে তর্কবিতর্কের জেরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। সোমবার উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়নের চক বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোল হয়। পরে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণা শেষে চক বাজারের আসেন। এ সময় বিএনপি কর্মী বাবুল জামায়াতের ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামশেদ জামালের দোকানে ওষুধ কিনতে যান। এ সময় জামায়াত নেতার দোকান থেকে কেনা ওষুধের মেয়াদ না থাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে জামায়াত নেতাকর্মীরা ওই বাজারে সংঘবদ্ধ অবস্থান নিলে দু’পক্ষের মধ্যে সংষর্ষের ঘটনা ঘটে।
জিন্নাগড় ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল জানান, সকালে তিনিসহ তাঁর টিমের ৫ জন সদস্য জিন্নাগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনের প্রচার চালাচ্ছিলেন। এ সময় জামায়াত কর্মীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের লোকজন নিয়ে তাদের গণসংযোগে ঢুকে পড়ে হট্টগোল করে। এ নিয়ে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক হয়। প্রচারণা শেষে তারা চক বাজারে আসেন। এ সময় এক কর্মী ওষুধ কেনার জন্য জামায়াত নেতা সামশেদের দোকানে যান। এ সময় সামশেদের সঙ্গে ওষুধের মেয়াদ নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা বিষয়টি সমঝোতা করে দিলে তিনি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পরে জামায়াতের ৬০/৭০ জন নেতাকর্মী মোটরসাইকেলে বাজারে আসে। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর অর্তকিত হামলা চালায়।
এ সময় তাদের ৬ নেতাকর্মী আহত হন।জামায়াত নেতা সামশেদ জামাল জানান, তিনি সকালে নির্বাচনী প্রচার শেষে চক বাজারে নিজের ওষুধের দোকানে বসেন। এ সময় বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাঁর দোকানে ঢুকে তিনি জামায়াত কেন করেন জানতে চায়। পরে তাঁর ওপরঅতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধারে দলের কর্মীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালায়। এতে তাদের ৬ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চরফ্যাসন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
চরফ্যাসন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম রাসেল জানান, ঘটনার সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ৩০টি মোটর সাইকেলে সেখানে গিয়ে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিএনপির ৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন ।ভোলা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মোস্তফা কামাল বলেন, নির্বাচনী প্রচার চলাকালে কথাকাটাকাটির জেরে বিএনপি কর্মীরা জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা করে কয়েকজনকে আহত করে। ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
চরফ্যাসন থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, সংঘর্ষের বিষয়টি তারা শুনেছেন। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
এন/ এন
বাংলাদেশ সময়: ১৩:৩০:৫৫ ৬৬ বার পঠিত | ● আহত ● চরফ্যাসন ● বিএনপি-জামায়াত ● সংঘর্ষ